চট্টগ্রামে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮ লাখ ১৮ হাজার ৬৭১টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারিদের কাছে মজুত আছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টি পশু। অর্থাৎ চাহিদার তুলনায় ঘাটতি থাকছে ৩৫ হাজার ৫২০টি পশুর।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, এ ঘাটতি নিয়ে উদ্বেগের কারণ নেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসায় শেষ পর্যন্ত চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর সংকট হবে না, বরং উদ্বৃত্তও থাকতে পারে।
এদিকে চলতি বছরে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে গবাদিপশু উৎপাদন গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গো–খাদ্যের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়া, বিনিয়োগ সংকট ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে গত দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে কোরবানির পশুর বাজারে।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর চাহিদা ছিল ৮ লাখ ৯৬ হাজার ২৬৯টি। সে তুলনায় এবার চাহিদা কমেছে ৭৭ হাজার ৫৮৮টি। একই সময়ে স্থানীয় উৎপাদনও কমেছে ৭৭ হাজার ৭৩১টি।
গত বছর স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পশুর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৬০ হাজার ৮৮২টি। এবার তা নেমে এসেছে ৭ লাখ ৮৩ হাজার ১৫১টিতে।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের হিসাবে, এ বছর স্থানীয়ভাবে হৃষ্টপুষ্ট করা গরুর সংখ্যা ৪ লাখ ৯৯ হাজার ২৭৯টি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৫ লাখ ৩৫ হাজার ৮১৩।
ছাগল রয়েছে ১ লাখ ৯৪ হাজার ৫১৯টি, যা গত বছর ছিল ২ লাখ ৫১ হাজার ৭৪।
মহিষের সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৭ হাজার ৮৩৪টিতে। গত বছর ছিল ৬৪ হাজার ১৬৩।
এ ছাড়া ভেড়ার সংখ্যা ৪১ হাজার ৪২৩, যা আগের বছর ছিল ৫৫ হাজার ৬৯৭।
প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য বলছে, ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত গবাদিপশুর সংখ্যা ছিল ৮ লাখ ৫২ হাজার ৩৫৯টি। ২০২৩ সালে ছিল ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫, ২০২২ সালে ৭ লাখ ৯১ হাজার ৫০১, ২০২১ সালে ৭ লাখ ৫৬ হাজার ৩৩৪, ২০২০ সালে ৬ লাখ ৮৯ হাজার ২২ এবং ২০১৯ সালে ৬ লাখ ১০ হাজার ২১৯টি।
জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১২ হাজার ৫০০টি খামার ছিল। তবে গত এক থেকে দেড় বছরে পাঁচ শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে গেছে।
খামারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, গো–খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়া, পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি, ঋণসংকট ও বাজারের অনিশ্চয়তায় অনেক খামারি ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়েছেন।
তবে জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আলমগীর বলেন, “চট্টগ্রামে এবার স্থানীয়ভাবে যে পশু উৎপাদন হয়েছে, তাতে ৩৫ হাজার ৫২০টি গরু, মহিষ, ছাগল ও ভেড়ার ঘাটতি আছে। তবে এটি বড় কোনো বিষয় নয়। স্থানীয়ভাবে যে পশু মজুত আছে, তা চট্টগ্রামের বাসিন্দাদের জন্য যথেষ্ট।”
তিনি আরও বলেন, “যে ঘাটতি রয়েছে, তা পূরণে তিন পার্বত্য জেলা ছাড়াও কুষ্টিয়া, ফরিদপুর, নওগাঁ, সিরাজগঞ্জসহ উত্তরের বিভিন্ন জেলা থেকে পশু আসবে। ফলে শেষ পর্যন্ত পশু উদ্বৃত্তও থাকতে পারে।”
ডা. আলমগীর জানান, গত দেড় বছরে চট্টগ্রামে প্রায় ৩০০ খামার বন্ধ হয়েছে। গো–খাদ্যের দাম বৃদ্ধিসহ নানা সমস্যার কারণে এসব খামার টিকতে পারেনি।
ইতিমধ্যে চট্টগ্রামের বিভিন্ন পশুর হাটে কোরবানির পশু উঠতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ট্রাকে ট্রাকে গরু, ছাগল ও মহিষ আসছে। বিভিন্ন খামারের পাশাপাশি সড়ক ও অলিগলিতেও পশু বিক্রির প্রস্তুতি দেখা যাচ্ছে।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবার তিনটি স্থায়ী ও তিনটি অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দিয়েছে। স্থায়ী হাটগুলো হলো সাগরিকা, মুরাদপুরের বিবিরহাট ও পোস্তারপাড় পশুর হাট। অস্থায়ী হাটের মধ্যে রয়েছে কর্ণফুলী, মুসলিমাবাদ মাঠ ও ওয়াজেদিয়া হাট।
এসব হাটে ইজারাদাররা মাঠ প্রস্তুত, অবকাঠামো সংস্কার ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ শুরু করেছেন। ইতিমধ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে এসব হাটে পশু আসতে শুরু করেছে।

