২০২৬ বিশ্বকাপের মাত্র দুটি করে ম্যাচ শেষ হতেই গোল্ডেন বুটের লড়াই রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
শুরুতেই দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়ে সবার নজর কেড়েছেন আর্জেন্টিনার মহাতারকা লিওনেল মেসি।
টুর্নামেন্টে নিজের প্রথম দুই ম্যাচেই ৫ গোল করে তিনি এককভাবে গোল্ডেন বুটের তালিকার শীর্ষস্থান দখল করে নিয়েছেন।
শুধু গোলসংখ্যাতেই নয়, ইতিহাসের পাতাতেও নতুন অধ্যায় লিখেছেন মেসি। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে সর্বশেষ ম্যাচে জোড়া গোল করে তিনি বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন।
বর্তমানে বিশ্বকাপে তার মোট গোলসংখ্যা ১৮, যা নতুন এক মাইলফলক। ৩৪ বছর বয়সেও আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড প্রমাণ করে চলেছেন কেন তিনি এখনো দলের সবচেয়ে বড় ভরসার নাম।
তবে গোল্ডেন বুটের লড়াইয়ে মেসির পথ মোটেও সহজ নয়। খুব কাছেই রয়েছেন ফ্রান্সের অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইরাকের বিপক্ষে জোড়া গোল করে তিনি নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়ে ৪-এ নিয়েছেন। বিশ্বকাপে মাত্র ১৬ ম্যাচে ১৬ গোল করে এমবাপ্পে ইতোমধ্যে মিরোস্লাভ ক্লোসার রেকর্ড স্পর্শ করেছেন।
ফ্রান্স যত দূর এগোবে, ততই বাড়তে পারে তার গোলসংখ্যা।
এই প্রতিযোগিতার আরেক শক্তিশালী দাবিদার নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হালান্ড। সেনেগালের বিপক্ষে জোড়া গোলসহ দুই ম্যাচে তার গোলসংখ্যাও দাঁড়িয়েছে ৪।
বিশ্বকাপে প্রথমবার অংশ নিয়েই দুর্দান্ত ছন্দে রয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে ৫২ ম্যাচে ৫৯ গোল করা হালান্ড প্রতিটি ম্যাচেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠছেন।
গোল্ডেন বুটের দৌড়ে পিছিয়ে নেই আরও কয়েকজন তারকা। জার্মানির দেনিজ উনদাভ এবং কানাডার জোনাথন ডেভিড তিনটি করে গোল করেছেন।
অন্যদিকে ইংল্যান্ডের অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র করেছেন দুটি করে গোল।
প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা কেইন পরবর্তী ম্যাচগুলোতেও ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারলে শীর্ষ লড়াইয়ে নিজেকে আরও শক্তভাবে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।
এখন পর্যন্ত অবস্থান বলছে, গোল্ডেন বুটের সিংহাসনে বসে আছেন লিওনেল মেসি। কিন্তু এমবাপ্পে ও হালান্ডের মতো দুর্দান্ত গোলমেশিনরা খুব কাছেই অবস্থান করছেন।
টুর্নামেন্ট যত এগোবে, ততই বাড়বে উত্তেজনা। শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতার মুকুট কার মাথায় উঠবে-সেই প্রশ্নই এখন ফুটবলপ্রেমীদের সবচেয়ে বড় আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু।
বর্তমান গোল্ডেন বুট তালিকা
- লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা) — ৫ গোল
- কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স) — ৪ গোল
- আর্লিং হালান্ড (নরওয়ে) — ৪ গোল
- হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড) — ২ গোল

