সত্য, ন্যায় ও ইসলামের আদর্শ প্রতিষ্ঠায় হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর আত্মত্যাগের শিক্ষা ধারণ করে নতুন প্রজন্মকে জ্ঞানচর্চা ও আদর্শিক জীবন গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন বক্তারা।
তারা বলেন, কোরআন-সুন্নাহর আলোকে জীবন পরিচালনা এবং আহলে বাইতের প্রতি ভালোবাসা মুসলিম উম্মাহর ঈমানি দায়িত্ব।
এ উপলক্ষে চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলার দক্ষিণ হুলাইন নিমতল দরগাহ এলাকায় আয়োজিত ১০ দিনব্যাপী শাহাদাতে কারবালা মাহফিলের অষ্টম দিবসের অনুষ্ঠান মঙ্গলবার বাদ আসর থেকে এশা পর্যন্ত বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত হয়।
অত্র কমপ্লেক্স ট্রাষ্ট পরিচালিত, নিমতল আহমদিয়া আমিরিয়া বশর মওলা সুন্নিয়া মাদরাসা, ইসহাক ভান্ডারি নূরানী ইসলামি কিন্ডারগার্টেন ও স্থানীয় এলাকাবাসীর সার্বিক সহযোগিতায় আয়োজিত এ মাহফিলের সার্বিক তত্ত্বাবধানে রয়েছেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের প্রতিষ্ঠাতা ও পৃষ্ঠপোষক হযরতুলহাজ্জ মাওলানা মুহাম্মদ আবু বাকার আল কাদেরী (ম.জি.আ.)।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন হযরত ইমাম হোসাইন (রা.) বহুমুখী ইসলামী কমপ্লেক্স ট্রাস্টের উপদেষ্টা মুহাম্মদ খোরশেদ আলম।
চট্টগ্রাম সড়ক ও জনপদ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী এবং জাহানারা আলম ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী আলহাজ মুহাম্মদ শহিদুল ইসলাম টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটিয়া উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন।
বিশেষ অতিথি ছিলেন অত্র এতিমখানার দাতা সদস্য মুহাম্মদ হাছান। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন কাতালগঞ্জ শেখ বাহার উল্লাহ শাহী জামে মসজিদের খতিব মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আল কাদেরী।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, জীবনে প্রতিষ্ঠিত হতে হলে জ্ঞান অর্জনের বিকল্প নেই। তোমাদের অধিক অধ্যয়ন করতে হবে।
কোরআন ও ইসলামী শিক্ষায় দক্ষ হয়ে ইমাম, কারী ও হাফেজ হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। শিক্ষা ও নৈতিকতার সমন্বয়েই আদর্শ মানুষ হওয়া সম্ভব।
তিনি আরও বলেন, আল্লাহ তাআলা মানবজাতিকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য পৃথিবীতে পাঠিয়েছেন। সেই পথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে নবী-রাসুল প্রেরণ করেছেন এবং সর্বশেষ নবী হিসেবে পাঠিয়েছেন হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে। তাঁর আদর্শ অনুসরণ করেই একজন মানুষ দুনিয়া ও আখিরাতে সফলতা লাভ করতে পারে।
প্রধান আলোচক মাওলানা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আল কাদেরী বলেন, হযরত ইমাম হাসান (রা.) ও হযরত ইমাম হোসাইন (রা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অংশ। যারা তাঁদের ভালোবাসেন, আল্লাহ তাআলাও তাঁদের ভালোবাসেন।”
তিনি কারবালার ঐতিহাসিক ঘটনা তুলে ধরে বলেন, অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার যে শিক্ষা ইমাম হোসাইন (রা.) দিয়ে গেছেন, তা যুগে যুগে মুসলিম উম্মাহকে সত্য ও ন্যায়ের পথে অনুপ্রাণিত করবে।
মাহফিলে কোরআন-হাদিসের আলোকে কারবালার তাৎপর্য, আত্মত্যাগ, মানবতা, ন্যায়বিচার এবং ইসলামের মৌলিক শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুলসংখ্যক ধর্মপ্রাণ মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
আয়োজকরা জানান, গত ১৬ জুন শুরু হওয়া ১০ দিনব্যাপী এ মাহফিল আগামী ২৫ জুন সমাপ্ত হবে। মাহফিল উপলক্ষে প্রতিদিন ক্বিরাত, হামদ, নাত, হাদর পরিবেশনা এবং আশেপাশের সকল বিদ্যালয়-মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে “শিশু-কিশোরদের ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা”-এর আয়োজন করা হয়েছে।
এবারের প্রতিপাদ্য ছিল-“কারবালার শিক্ষা(সহীহ দ্বীন) ছড়িয়ে দিই আগামী প্রজন্মের মাঝে”। উক্ত প্রতিযোগিতায় আশেপাশের বিভিন্ন স্কুল-মাদ্রাসার এ পর্যন্ত প্রায় ৮০ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছে।
সমাপনী দিনের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে পটিয়া উপজেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মুহাম্মদ খোরশেদ আলম।
প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখবেন হাটহাজারী উপজেলার হযরত গুন্ডীশাহ্ গাউছিয়া নুরীয়া দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা আব্দুল মালেক তাহেরী।
প্রধান আকর্ষণ হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সীতাকুণ্ড হযরত ইমামে আজম (রা.) জামে মসজিদের খতিব ও ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ধর্মীয় শিক্ষক মাওলানা আবু মুহাম্মদ মুশফিক ইলাহী।
এছাড়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করবেন পটিয়া উপজেলার ৯নং জঙ্গলখাইন ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মুহাম্মদ বখতিয়ার উদ্দিন বকুল।
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, কারবালার মহান আদর্শ, ত্যাগ ও ন্যায়ের শিক্ষা সমাজে ছড়িয়ে দিতে এবং নতুন প্রজন্মকে ইসলামী মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

