চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) নামে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের অভিযোগে পতেঙ্গা আউটার রিং রোডের পশ্চিমে অবস্থিত রানী রাসমণি ঘাট এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন।
অভিযানে অবৈধভাবে নির্মিত একটি অস্থায়ী অফিস, বিভিন্ন স্থাপনা এবং দোকান নির্মাণের উদ্দেশ্যে গড়ে তোলা কাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) মেয়রের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অভিষেক দাশ।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সূত্র জানায়, স্থানীয় জেলেদের অনুরোধে চলতি বছর রানী রাসমণি ঘাট ইজারা দেওয়া হয়নি। একই সঙ্গে ঘাটে খাস আদায়ের দায়িত্বও কাউকে দেওয়া হয়নি।
তবে এ অবস্থার সুযোগ নিয়ে একটি চক্র চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে আসছিল বলে অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
বিষয়টি মেয়রের নজরে এলে অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে উচ্ছেদ অভিযানের নির্দেশ দেওয়া হয়।
অভিযান শেষে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা অভিষেক দাশ বলেন, একটি চক্র অবৈধভাবে নির্মিত স্থাপনা ব্যবহার করে ঘাটের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং অর্থ আদায় করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অস্থায়ী অফিস ও সংশ্লিষ্ট অবকাঠামো উচ্ছেদ করা হয়েছে।
তিনি জানান, অভিযানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নামে টাঙানো অবৈধ ব্যানারও অপসারণ করা হয়েছে।
পাশাপাশি দোকান নির্মাণের উদ্দেশ্যে তৈরি করা অবৈধ কাঠামো ও ভিত্তি ভেঙে দেওয়া হয়েছে।
অভিযানকালে ঘাট এলাকায় অবৈধভাবে দোকান নির্মাণের লক্ষ্যে জমা করে রাখা বিপুল পরিমাণ নির্মাণসামগ্রী জব্দ করা হয়।
জব্দ করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে প্রায় ২১৮টি বাঁশ, ২০টি ছোট টিনের শিট, ২০টি টিন, একটি টেবিল, চারটি চেয়ার, একটি ফ্যানসহ বিভিন্ন মালামাল।
অভিষেক দাশ বলেন, ‘চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এ ঘাট কাউকে ইজারা দেয়নি। ফলে সিটি কর্পোরেশনের নাম ব্যবহার করে এখানে অর্থ আদায়ের কোনো সুযোগ নেই।’
তিনি আরও জানান, ঘাটটির আইনগত বিষয়াদি পর্যালোচনা ও যাচাই-বাছাই শেষে ভবিষ্যতে এর ব্যবস্থাপনা নিয়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, অভিযানের ফলে ঘাটকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও বিভ্রান্তির অবসান হবে এবং ভবিষ্যতে স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জেলে ও সাধারণ মানুষের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকবে।

