চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরীর নকশা প্রস্তুত, থাকছে মিনি ও স্যাটেলাইট টাউন

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট, ২০২৬ ১৯:৫৮

নান্দনিক, পরিকল্পিত ও বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জন্য নতুন মাস্টারপ্লানের খসড়া মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)।

পূর্ববর্তী পরিকল্পনাগুলোর অভিজ্ঞতা, বাস্তবায়নের সীমাবদ্ধতা এবং দ্রুত পরিবর্তনশীল নগরায়নের নানা চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় নিয়ে তৈরি করা হয়েছে নতুন এই পরিকল্পনা।

নতুন মহাপরিকল্পনায় শুধু বর্তমান চট্টগ্রাম নগরী নয়, নগরের পার্শ্ববর্তী বিস্তৃত এলাকাকেও পরিকল্পিত নগরায়নের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আনোয়ারা, রাউজান, হাটহাজারী, পটিয়া ও সীতাকুণ্ডসহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোকে পরিকল্পনার আওতায় এনে নগর সম্প্রসারণের একটি সুদূরপ্রসারী কাঠামো তৈরি করা হয়েছে।

পরিকল্পনাটির অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে-চট্টগ্রাম মহানগরীর ওপর ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যা ও অবকাঠামোগত চাপ কমিয়ে আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিকল্পিতভাবে নগরায়ন ছড়িয়ে দেওয়া।

এ জন্য পার্শ্ববর্তী উপজেলাগুলোতে মিনি টাউন ও স্যাটেলাইট টাউন গড়ে তোলার প্রস্তাব রাখা হয়েছে নতুন মাস্টারপ্লানে।

সিডিএর প্রণীত খসড়া মহাপরিকল্পনা অনুযায়ী, নগরের পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে ভবিষ্যতে যে কোনো ভবন বা উন্নয়ন পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে অনুমোদিত মাস্টারপ্লানের প্রস্তাব ও নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

অর্থাৎ, চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগরায়ন যেন বিচ্ছিন্নভাবে না হয়, বরং একটি সমন্বিত পরিকল্পনার আওতায় এগিয়ে যায়-নতুন মহাপরিকল্পনায় সেই বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে।

নতুন পরিকল্পনায় নগরের ভূমি ব্যবহার, যোগাযোগ ব্যবস্থা, পরিবহন, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর ও জলাশয় এবং শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

নগরীর কোথায় আবাসিক এলাকা, কোথায় শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম, কোথায় পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা এবং কীভাবে যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে উঠবে-এসব বিষয়কে একটি সমন্বিত কাঠামোর মধ্যে আনার চেষ্টা করা হয়েছে।

এর ফলে ভবিষ্যৎ চট্টগ্রামে অপরিকল্পিত স্থাপনা, এলোমেলো ভূমি ব্যবহার এবং নগর ব্যবস্থাপনার নানা সংকট নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে মনে করছে সিডিএ।

চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য প্রণীত নতুন মাস্টারপ্লান নিয়ে নাগরিকদের মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব আহ্বান করেছে সিডিএ।

নতুন খসড়া প্রস্তাবের ওপর আগামী ২ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৬০ দিন জনমত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাব দেওয়া যাবে।

নাগরিকরা সিডিএ হলরুম, ৪র্থ তলা, সিডিএ ভবনে গিয়ে খসড়া পরিকল্পনার প্রতিবেদন, প্রস্তাবনা ও সংশ্লিষ্ট মানচিত্র সরাসরি পরিদর্শন করতে পারবেন।

পাশাপাশি সিডিএর ওয়েবসাইট **www.cda.gov.bd**-এ লগইন করেও মতামত দেওয়া যাবে। এছাড়া গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও জনমত দেওয়ার সুযোগ থাকবে।

নতুন মহাপরিকল্পনাকে চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নগর ব্যবস্থাপনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন।

তিনি বলেন, এটি একটি ২৫ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা, যা সিডিএর ৪র্থ পরিকল্পনা। বর্তমান পরিকল্পনার ক্ষেত্রে চট্টগ্রামের মানুষ কী ধরনের নগর চান, কোথায় কী সমস্যা রয়েছে এবং আগামী দিনের চট্টগ্রাম কেমন হওয়া উচিত-এসব বিষয়ে জনমত নিয়েই খসড়াটি চূড়ান্ত করা হবে।

সিডিএ চেয়ারম্যান আরও বলেন, নিয়ম ও পরিকল্পনার ব্যত্যয়ের কারণে পরিকল্পিত ও কাঙ্ক্ষিত চট্টগ্রাম নগরী গড়ে তুলতে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। নাগরিকরা সচেতন না হলে শুধু পরিকল্পনা দিয়ে সফল হওয়া যাবে না।

সিডিএ কর্তৃক চট্টগ্রাম মহানগরীর জন্য প্রণীত নতুন মাস্টারপ্লান বিষয়ে জনমত আহ্বান করে আজ সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরেন প্রকল্প পরিচালক মো. আবু মুছা আনছারী। সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিডিএ বোর্ড সদস্য এস এম জাহিদুল করিম, বোর্ড সদস্য স্থপতি ফারুক আহমেদ, বোর্ড সদস্য প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন, বোর্ড সদস্য মো. নজরুল ইসলাম, সার্বক্ষণিক সদস্য মো. জামিলুর রহমান, প্রধান প্রকৌশলী আহমেদ আনোয়ারুল নজরুল, সচিব মোহাম্মদ মাহবুবউল করিম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এ এম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।

চট্টগ্রামের দীর্ঘমেয়াদি নগর উন্নয়নকে নতুন দৃষ্টিভঙ্গিতে সাজানোর এই খসড়া পরিকল্পনা এখন জনমতের অপেক্ষায়।

নাগরিকদের মতামত, আপত্তি, সুপারিশ ও সংশোধনী প্রস্তাবের ভিত্তিতেই শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত রূপ পাবে আগামী ২৫ বছরের চট্টগ্রামের এই মহাপরিকল্পনা।