গ্রাহকের হাতে থাকা পাসবইয়ে আমানতের টাকা জমার হিসাব ঠিকই ছিল। কিন্তু অফিসের মূল ক্যাশ বই ও জার্নাল বইয়ে সেই টাকার কোনো অস্তিত্ব নেই।
এভাবেই দুই সাব-পোস্ট অফিসে গ্রাহকদের সঞ্চয়ী ও মেয়াদী আমানতের ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক সাব-পোস্টমাস্টার এহসানুল হককে ৩ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন। একই সঙ্গে আসামিকে ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জরিমানার অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তাকে আরও ৩ বছরের কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামি এহসানুল হক আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি অ্যাডভোকেট রেজাউল করিম রনি জানান, মামলায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণের ভিত্তিতে এহসানুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, এহসানুল হক বোয়ালখালী উপজেলার শাকপুরা ও চরদ্বীপ সাব-পোস্ট অফিসে সাব-পোস্টমাস্টার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
দায়িত্ব পালনকালে তিনি গ্রাহকদের কাছ থেকে সঞ্চয়ী ও মেয়াদী আমানতের টাকা গ্রহণ করেন। পরে গ্রাহকদের পাসবইয়ে ওই টাকা জমার এন্ট্রিও দেন।
তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এসব লেনদেন অফিসের মূল ক্যাশ বই ও জার্নাল বইয়ে অন্তর্ভুক্ত করেননি তিনি। এভাবে গ্রাহকদের জমা দেওয়া অর্থ আত্মসাৎ করেন।
তদন্তে উঠে আসে, শাকপুরা সাব-পোস্ট অফিসে ৬ লাখ ৪২ হাজার টাকা এবং চরদ্বীপ সাব-পোস্ট অফিসে ৯ লাখ ৪১ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। দুই অফিস মিলিয়ে আত্মসাৎ করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা।
বিভাগীয় তদন্তে মোট ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার পর ২০১৬ সালের ১৪ জুলাই বোয়ালখালী থানায় মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্ত শেষে ২০১৭ সালের ৩০ মে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এরপর মামলার বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।
দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়ায় ১৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত এহসানুল হকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
গ্রাহকের আমানতের অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় শেষ পর্যন্ত সাবেক সাব-পোস্টমাস্টার এহসানুল হকের ৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ১৫ লাখ ৮৩ হাজার ৯০০ টাকা জরিমানার আদেশ হলো।
