সহপাঠীরা যখন দূরন্ত শৈশবে মেতে ওঠে খেলার মাঠে, তখন আট বছরের এক খুদে শিক্ষার্থীর জীবনের গল্পটা রূপ নিচ্ছিল চরম এক নরকযন্ত্রণায়।
গত ২৩ জুলাই বিকেলে অন্য দশটি শিশুর মতো হাসিমুখে বাড়ি ফেরেনি সে। উল্টো কান্নায় ভেঙে পড়ে মায়ের সামনে দাঁড়িয়ে অবুঝ গলায় আকুতি-মা, আমাকে আর কোনোদিন মাদ্রাসায় পাঠিও না।
একটানা কান্নার আড়ালে লুকিয়ে থাকা রহস্য উদ্ঘাটন করতে গিয়ে শিউরে ওঠেন স্বজনরা।
পবিত্র দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটিই যে অবুঝ শিশুটির জন্য এক আতঙ্কের কেন্দ্র হয়ে উঠেছিল, তা জানতে পেরে ক্ষোভে ফেটে পড়েন এলাকাবাসী।
চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার পশ্চিম চেচুরিয়া ঘোনাপড়া এলাকার এক পথশিশুর মতো অমলিন শৈশব ছিল শিশুটির।
পরম আশায় ছয়-সাত মাস আগে তাকে ভর্তি করানো হয়েছিল স্থানীয় বাঁশখালী দারুচ্ছুন্নাহ খাইরিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানার নাজেরা বিভাগে।
কিন্তু স্বজনদের বিশ্বাসের আমানতকে পদদলিত করে শিশুটির ওপর লোলুপ দৃষ্টি ফেলেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীন (৩১)।
মামলার এজাহার ও র্যাব সূত্রে জানা যায়, শিশুটি ভর্তি হওয়ার পর থেকেই ভয়ভীতি দেখিয়ে বিভিন্ন সময়ে মাদ্রাসার ওয়াশরুমে নিয়ে তাকে জোরপূর্বক বলাৎকার করে আসছিলেন প্রধান শিক্ষক রমিজ।
সর্বশেষ গত ২৩ জুলাই বিকেলে প্রতিদিনের মতো অন্য শিক্ষার্থীরা যখন মাঠে খেলতে যায়, সেই সুযোগ কাজে লাগান তিনি।
এতিমখানার হেফজ বিভাগের দোতলার একটি নির্জন কক্ষে শিশুটিকে ডেকে নিয়ে আবারও পাশবিক নির্যাতন চালান। ঘটনাটি কাউকে বললে পরিণতি ভয়াবহ হবে-এমন হুমকিও দেওয়া হয়।
নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে কান্নায় ভেঙে পড়ে পুরো বিভীষিকাময় ঘটনা খুলে বলে আট বছরের ওই শিশু।
এরপরই বিচার চেয়ে গত ২৯ জুলাই ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বাঁশখালী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক আত্মগোপনে চলে গেলেও পার পাননি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা থানার কর্ণফুলী টানেল সংলগ্ন চায়না রোড এলাকার বৈরাগ নামক স্থানে এক অভিযান পরিচালনা করে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৭)।
সেখান থেকে মামলার এজাহারনামীয় ১ নম্বর প্রধান আসামি ও বাঁশখালী উপজেলার উত্তর সরল এলাকার মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মুহাম্মদ রমিজ উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের নিমিত্তে তাকে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
