কক্সবাজারে প্যারাসেইলিং দুর্ঘটনায় পর্যটকের মৃত্যু, ঢাকায় গ্রেপ্তার প্রধান আসামি

প্রকাশিত: ০৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৩:৩৪

কক্সবাজারের দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় নিরাপত্তাজনিত অবহেলায় পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামি মো. ফরিদকে (৪৫) ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৪-এর যৌথ অভিযানে ঢাকার মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব-১৫-এর সহকারী পরিচালক আ ম ফারুক গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার মো. ফরিদ কক্সবাজার পৌরসভার ১১ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বাহারছড়া এলাকার বাসিন্দা আব্দুল হাই ও রাজিয়া খাতুনের ছেলে।

র‌্যাব জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধ্য পীরেরবাগ এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফরিদকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, এর আগে গত ১ আগস্ট কক্সবাজার সদর থানার দরিয়ানগর এলাকায় প্যারাসেইলিং করার সময় নিরাপত্তাজনিত অবহেলার কারণে উড্ডয়নরত অবস্থায় প্যারাসেইলিংয়ের রশি ছিঁড়ে যায়। এতে অক্ষর সৌভিক রায় (৩১) সমুদ্রে পড়ে যান।

র‌্যাবের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থলে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ব্যবস্থা না থাকায় অক্ষর সৌভিক রায়কে বিলম্বে উদ্ধার করা হয়।

পরে তাঁকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাটি শুধু একটি পর্যটন বিনোদনের দুর্ঘটনা হিসেবে থেমে থাকেনি।

নিহতের বোন বাদী হয়ে কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করেন। মামলায় প্যারাসেইলিং পরিচালনায় নিরাপত্তাজনিত অবহেলার অভিযোগ উঠে আসে।

র‌্যাব জানায়, মামলা হওয়ার পর গ্রেপ্তার এড়াতে আসামিরা আত্মগোপনে চলে যান। এরপর র‌্যাব-১৫ ছায়া তদন্তের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করে।

একপর্যায়ে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, এজাহারভুক্ত ১ নম্বর আসামি মো. ফরিদ ঢাকার মিরপুর এলাকায় আত্মগোপনে রয়েছেন।

এর ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫ ও র‌্যাব-৪-এর সমন্বিত অভিযানে বৃহস্পতিবার রাতে মধ্য পীরেরবাগ এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব আরও জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফরিদ কক্সবাজার থেকে পালিয়ে ঢাকায় আত্মগোপন করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

পরে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উদ্ধার করা আলামতসহ তাঁকে কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।