যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট হিসেবে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের নাম এসেছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট অপর তিনজন হলেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদ।
আজ বুধবার দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা আজকের পত্রিকাকে অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। অভিযোগের অনুসন্ধানে ইতিমধ্যে চার সদস্যের একটি বিশেষ টিম গঠন করা হয়েছে।
দুদকের উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে টিমটিকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটা এবং এসব প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগগুলোই বিশেষ টিমের অনুসন্ধানের আওতায় থাকবে। অভিযোগগুলোর সত্যতা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে টিমটি।
এর আগে আসিফ মাহমুদের সাবেক সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস) মোয়াজ্জেম হোসেনের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করেছিল দুদক।
ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তদবির-বাণিজ্য এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রায় ১১ মাস অনুসন্ধানের পর গত ফেব্রুয়ারিতে তাঁকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
এর আগে ২০২৫ সালের মে মাসে মোয়াজ্জেম হোসেনকে দুদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।
তখন তাঁর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তদবির ও টেন্ডার-বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগের কথা জানানো হয়েছিল। তবে মোয়াজ্জেম হোসেন এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।
পরবর্তী সময়ে মোয়াজ্জেম হোসেনের ব্যাংক হিসাব, সম্পত্তি ও অন্যান্য লেনদেন নিয়ে অনুসন্ধানের পাশাপাশি তাঁর বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা চেয়েও আদালতে আবেদন করেছিল দুদক।
এবার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাকে কেন্দ্র করে ওঠা অভিযোগের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে দুদকের বিশেষ টিম।
অনুসন্ধানে অভিযোগগুলোর নেপথ্যে কোনো সমন্বিত সিন্ডিকেট বা অনিয়মের যোগসূত্র ছিল কি না, সেটিও উঠে আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
