বন্দরের কড়া নিরাপত্তা ভেদ করে কাপড়ের রোলভর্তি কনটেইনার গায়েব,গ্রেপ্তার ২

প্রকাশিত: ০৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:২৮

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আমদানিকৃত প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোলভর্তি একটি কনটেইনার গায়েবের ঘটনায় দু’জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

জাল ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর ব্যবহার করে পণ্যবাহী কনটেইনারটি বন্দর থেকে বের করে নেওয়ার অভিযোগে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন-পটিয়ার জিরি ইউনিয়নের উত্তর কৈয়গ্রামের মো. মোর্শেদ আলম (৩১) এবং পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মো. সাইদুর রহমান (৫১)।

তারা দুজনই চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ এলাকার প্যারামাউন্ড ট্রেড ইন্টারন্যাশনাল নামের একটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠানের জেটি সরকার হিসেবে নিয়োজিত ছিলেন।

পুলিশের তথ্যমতে, গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম বন্দরের টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের এফসিএল সেকশনে থাকা অভিযুক্তরা তাদের সহযোগীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে প্রতারণার আশ্রয় নেন।

এ সময় বিভিন্ন ডকুমেন্ট ও স্বাক্ষর জাল করে অন-ডেট ও অন-চেসিস অ্যাসাইনমেন্টের কপি আসল কাগজপত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

জাল কাগজপত্রের সেই কৌশলেই এরপর পণ্যসহ একটি কনটেইনার চট্টগ্রাম বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে বের করে নেওয়া হয়।

কনটেইনারটিতে আমদানিকৃত প্রায় তিন কোটি টাকা মূল্যের কাপড়ের রোল ছিল বলে জানা গেছে।

ঘটনার পর বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তে জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে মো. মোর্শেদ আলম ও মো. সাইদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুর রহিম।

তিনি জানান, জালিয়াতির মাধ্যমে কনটেইনার গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সহায়তায় টার্মিনাল ম্যানেজারের দপ্তরের সামনে থেকে দু’জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ওসি মো. আবদুর রহিম আরও জানান, গ্রেপ্তার দুজন ঘটনার সময় অজ্ঞাতনামা সহযোগীদের সহায়তায় জাল-জালিয়াতির মাধ্যমে পণ্যবাহী কনটেইনারটি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে খালাস করে নিয়ে যাওয়ার কথা স্বীকার করেছে।

তবে এই ঘটনায় শুধু এই দুজনই জড়িত, নাকি এর পেছনে আরও বড় কোনো চক্র রয়েছে-তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে বন্দর থানা পুলিশ।