চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়োগ-পদোন্নতিতে বড় উল্লম্ফন:গতি নাকি প্রশাসনিক কৌশল?

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ১৯:২৭

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ ও পদোন্নতির চিত্রে এসেছে বড় পরিবর্তন। সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, মাত্র দুই বছরে এমন সংখ্যক নিয়োগ ও পদোন্নতি হয়েছে, যা আগের সাড়ে তিন বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

এই পরিবর্তন শুধু সংখ্যার হিসাবেই নয়, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা ও মানবসম্পদ পরিচালনার ক্ষেত্রেও নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের এক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত দুই বছরে সরাসরি নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ২০৮ জনকে। একই সময়ে পদোন্নতি পেয়েছেন ১ হাজার ৪৬৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী।

অন্যদিকে, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত সাড়ে তিন বছরে সরাসরি নিয়োগ পেয়েছিলেন ১৪৪ জন।

একই সময়ে পদোন্নতি পেয়েছিলেন ৭৯৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। অর্থাৎ কম সময়েই আগের দীর্ঘ সময়ের তুলনায় নিয়োগ ও পদোন্নতির সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ তথ্য হলো, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত মোট সরাসরি নিয়োগের প্রায় ৫৯ শতাংশ এবং মোট পদোন্নতির প্রায় ৬৫ শতাংশই সম্পন্ন হয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের জুলাই-এই দুই বছরে। সংখ্যার এই পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই বিষয়টিকে আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে এসেছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, একটি আধুনিক বন্দরের সবচেয়ে বড় শক্তি দক্ষ ও যোগ্য জনবল। সে কারণেই স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক ও মেধাভিত্তিক নিয়োগ এবং যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

তাদের দাবি, এর ফলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কর্মোদ্যম বেড়েছে, সেবার মান উন্নত হয়েছে এবং বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বন্দরের কার্যক্রমে গতি আনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মনোবল বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং কল্যাণ নিশ্চিত করতে একাধিক উদ্যোগ নেওয়া হয়।

সেই উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধাভিত্তিক মূল্যায়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ বলছে, ভবিষ্যতেও সুশাসন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং মেধাভিত্তিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনার এই ধারা অব্যাহত থাকবে।

তবে পরিসংখ্যানের এই বড় পরিবর্তন স্বাভাবিকভাবেই জনমনে একটি প্রশ্নও উত্থাপন করেছে-কোন প্রশাসনিক পরিবর্তন বা নীতিগত সিদ্ধান্তের ফলে এত অল্প সময়ে নিয়োগ ও পদোন্নতির গতি এতটা বৃদ্ধি পেল?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, প্রক্রিয়া এবং বাস্তবায়নের ধারাবাহিক মূল্যায়ন গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।