চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে পুলিশ কনস্টেবল জামালকে অপহরণ করে চাঁদা দাবির অভিযোগে আব্দুল করিম নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে সন্দ্বীপ থানা পুলিশ।
রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার মুছাপুর ইউনিয়নের পণ্ডিতের হাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সূত্র জানায়, একই এলাকার বাসিন্দা কনস্টেবল জামালকে অপহরণ করে চাঁদা দাবি করার অভিযোগে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
আরও পড়ুন
তবে ঘটনাটি শুধু একজনকে অপহরণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ থাকায় তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, মুছাপুর ইউনিয়নের নির্জন এলাকা হিসেবে পরিচিত ‘ধাম’কে কেন্দ্র করে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে অপহরণ, আটকে রাখা, মারধর এবং জিম্মি করে অর্থ আদায়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে।
আরও চাঞ্চল্যকর অভিযোগ হলো, কনস্টেবল জামালের মতো আরও কয়েকজনকে ওই এলাকা থেকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক ইয়াবা ট্যাবলেট হাতে ধরিয়ে দেওয়া হতো।
পরে আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীদের ব্ল্যাকমেইল করা হতো বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এদিকে আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে এর আগেও একই ‘ধাম’ এলাকাকে ঘিরে গুরুতর অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, গেল বছর পিডিবির সাবেক ঠিকাদার মিলাদুদ্দিন মুন্নাকে ‘ধাম’ এলাকা থেকে তুলে নিয়ে মারধর, টাকা দাবি এবং তার সঙ্গে থাকা নগদ অর্থ ও মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছিল তার বিরুদ্ধে।
ওই ঘটনায় তখন তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করা হয়েছিল বলে জানা গেছে।
ফলে কনস্টেবল জামালকে অপহরণের অভিযোগে আব্দুল করিমের গ্রেপ্তারের পর মুছাপুরের ‘ধাম’ এলাকা ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনার দাবি উঠেছে।
সন্দ্বীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন হালদার জানিয়েছেন, কনস্টেবল জামালকে অপহরণের ঘটনায় আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
তাদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা গেলে ‘ধাম’ এলাকাকে ঘিরে দীর্ঘদিনের এসব অভিযোগের প্রকৃত চিত্রও বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
