বন্দর থেকে কনটেইনার উধাও, রপ্তানি ঝুঁকিতে গোল্ড স্টার গার্মেন্টস

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৬

চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও কনটেইনার ট্র্যাকিং ব্যবস্থাপনা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যের ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্স (কাপড়) ভর্তি ৪০ ফুট লম্বা একটি কনটেইনারের রহস্যজনক অন্তর্ধান।

শতভাগ রপ্তানিমুখী পোশাক শিল্পের অনুকূলে আমদানিকৃত কাঁচামালের বিশাল এই চালানটি বন্দরের ইয়ার্ড থেকে খুঁজে না পাওয়ায় কাস্টমস, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও আমদানিকারকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র উদ্বেগ ও চাঞ্চল্য।

প্রশ্ন উঠেছে-জাহাজ থেকে খালাসের পর নিয়মিত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পরও একটি ৪০ ফুটের কনটেইনার কীভাবে বন্দরের অভ্যন্তর থেকেই অদৃশ্য হয়ে গেল?

বন্দর ও কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, সাভারের ‘গোল্ড স্টার গার্মেন্টস’ এর নামে আমদানিকৃত কাঁচামালবাহী ‘এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭’ নম্বরের ৪০ ফুটের কনটেইনারটি গত ১৫ আগস্ট ‘এমভি এমসিসি ডানাং’ নামের জাহাজ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি-২ বার্থে খালাস করা হয়।

এরপর আমদানিকারকের মনোনীত সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান ‘এসআরএস সিন্ডিকেট’ কাস্টমসের অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সার্ভারে গত ২২ আগস্ট বিল অব এন্ট্রি দাখিল করে।

নিয়ম অনুযায়ী কাস্টমস ও চট্টগ্রাম বন্দরের যাবতীয় রাজস্ব এবং প্রয়োজনীয় শুল্ক পরিশোধের পর কনটেইনারটি খালাসের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ আগস্ট বন্দরের সিসিটি ইয়ার্ড থেকে কনটেইনারটি খালাসের জন্য যান সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিরা। কিন্তু সেখানেই দেখা দেয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

বন্দর কর্তৃপক্ষ ইয়ার্ডে কনটেইনারটির অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। ফলে কনটেইনারটি খালাস কিংবা ডেলিভারি দেওয়া সম্ভব হয়নি। বরং সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের প্রতিনিধিদেরই কনটেইনারটি খুঁজে বের করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এরপর শুরু হয় খোঁজাখুঁজি।

৩০ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা তল্লাশি চালিয়েও বন্দরের ইয়ার্ডের কোথাও পাওয়া যায়নি ৪০ ফুট লম্বা ‘এমআরএসইউ-৮৬৯২৮২৭’ নম্বরের কনটেইনারটি। কনটেইনারটির ভেতরে থাকা ৬৬৮ বেল ফেব্রিক্সের মূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক মো. হাফিজুর রহমান। তিনি চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যানের কাছে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

অভিযোগে তিনি জানান, যাবতীয় সরকারি চার্জ পরিশোধের পরও এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কনটেইনারটি না পাওয়ায় আমদানিকারক গোল্ড স্টার গার্মেন্টস মারাত্মক আইনি ও আর্থিক ঝুঁকিতে পড়েছে।

শুধু আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাই নয়, কাঁচামাল সময়মতো হাতে না পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমও বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। নির্ধারিত সময়ে কাঁচামাল না পৌঁছালে বিদেশি ক্রেতার (বায়ার) কাছে পোশাক রপ্তানি করতে ব্যর্থ হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সবচেয়ে বড় প্রশ্নটি এখন একটাই-জাহাজ থেকে খালাস হওয়ার পর কনটেইনারটি গেল কোথায়?

বন্দরের নির্ধারিত ইয়ার্ডে থাকার কথা থাকা সত্ত্বেও একটি ৪০ ফুটের কনটেইনারের অবস্থান শনাক্ত করা না যাওয়ার বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই বন্দরের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, কনটেইনার ব্যবস্থাপনা ও ট্র্যাকিং ব্যবস্থাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

ঘটনার সার্বিক বিষয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম জানান, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটির মূল রহস্য উদঘাটনে অভ্যন্তরীণ তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।