এসএসসি পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ, চট্টগ্রামে ২,৯৭৫ পরীক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন

প্রকাশিত: ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ২০:৩৩

এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর অনেক পরীক্ষার্থীর মনে থেকে যায় প্রত্যাশা আর প্রাপ্তির হিসাব মেলানোর আক্ষেপ।

কারও চোখে থাকে কাঙ্ক্ষিত গ্রেড না পাওয়ার হতাশা, আবার কারও সামনে দাঁড়িয়ে যায় অকৃতকার্য হওয়ার অনিশ্চয়তা।

তবে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের পর সেই হিসাবই বদলে গেল অনেকের।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

এতে ২ হাজার ৯৭৫ জন পরীক্ষার্থীর নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। নতুন করে ফেল থেকে পাস করেছেন ১৯০ জন। আর পুনর্নিরীক্ষণের পর নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৮৩ জন পরীক্ষার্থী।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ড কার্যালয় থেকে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশ করা হয়।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এবারের এসএসসি পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ৩৯ হাজার ৭৯৮ জন পরীক্ষার্থী মোট ১ লাখ ১৪ হাজার ৭০৬টি উত্তরপত্রের আবেদন করেন। আবেদন করা উত্তরপত্রগুলো নিয়ম অনুযায়ী যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তিত ফল প্রকাশ করা হয়েছে।

পুনর্নিরীক্ষণ শেষে ৩ হাজার ১১৪টি উত্তরপত্রের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে। আর নম্বর পরিবর্তনের প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার্থীদের ফলাফলেও।

ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, নম্বর পরিবর্তন হওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে ১ হাজার ১৮৫ জনের জিপিএ পরিবর্তিত হয়েছে।

এর মধ্যে জিপিএ-১ থেকে জিপিএ-৫-এর নিচে থাকা পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ৬৪৭ জন। অর্থাৎ, পুনর্নিরীক্ষণের পর শুধু নম্বরই নয়, উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পরীক্ষার্থীর গ্রেড পয়েন্টেও পরিবর্তন এসেছে।

তবে সবার প্রত্যাশা পূরণ হয়নি। নম্বর বাড়ার পরও ১৫০ জন পরীক্ষার্থী ফেলই রয়ে গেছেন। অর্থাৎ, পুনর্নিরীক্ষণে নম্বরের পরিবর্তন হলেও তাদের ফল পাসের পর্যায়ে পৌঁছায়নি।

চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক আবদুল মান্নান বলেন, পুনর্নিরীক্ষণের জন্য যেসব উত্তরপত্রের আবেদন করা হয়েছিল, সেগুলো নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা হয়েছে।

যাচাই শেষে যেসব উত্তরপত্রে নম্বর পরিবর্তনের সুযোগ পাওয়া গেছে, সেসব ক্ষেত্রে ফলাফলে সংশোধন আনা হয়েছে।

তিনি বলেন, এর ফলে অনেক পরীক্ষার্থীর নম্বর ও জিপিএ পরিবর্তন হয়েছে। পাশাপাশি কেউ কেউ ফেল থেকে পাসও করেছেন।

পুনর্নিরীক্ষণের এই ফলাফল তাই অনেক পরীক্ষার্থীর জন্য নতুন করে স্বস্তির বার্তা নিয়ে এসেছে। কারও ফলাফলে এসেছে কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন, কারও দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটেছে, আবার কেউ পেয়েছেন আগের চেয়ে ভালো জিপিএ।

সব মিলিয়ে পুনর্নিরীক্ষণের ফল প্রকাশের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের হাজারো পরীক্ষার্থীর ফলাফলের হিসাবেও এসেছে নতুন সমীকরণ।