চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পরিবর্তন দেখা গেছে।
গত বছরের তুলনায় এবার পাসের হার যেমন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, তেমনি কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও। বিশেষ করে মানবিক বিভাগের ফলাফল নেমে এসেছে ৪০ শতাংশের নিচে।
ফলে সামগ্রিক ফলাফল নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশ। অথচ ২০২৫ সালে এ বোর্ডে পাসের হার ছিল ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ।
অর্থাৎ মাত্র এক বছরের ব্যবধানে পাসের হার কমেছে প্রায় ১২ দশমিক ৫৯ শতাংশ। গত কয়েক বছরের ফলাফলের সঙ্গেও তুলনা করলে এবারের পাসের হার বেশ কম।
এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিল ১ লাখ ৩০ হাজার ৬৮২ জন।
এর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ লাখ ৩০ হাজার ২১৯ জন। অংশ নেওয়া পরীক্ষার্থীদের মধ্যে উত্তীর্ণ হয়েছে ৭৭ হাজার ৪৫৩ জন।
ছাত্রীদের ফল কিছুটা ভালো
ফলাফলে ছাত্রদের তুলনায় ছাত্রীদের পাসের হার কিছুটা বেশি। এবার ছাত্রদের পাসের হার ৫৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ। অন্যদিকে ছাত্রীদের পাসের হার ৬০ দশমিক ৩ শতাংশ।
অর্থাৎ ছেলে ও মেয়েদের ফলাফলে ব্যবধান খুব বেশি না হলেও, সামগ্রিকভাবে ছাত্রীদের ফলাফল কিছুটা এগিয়ে রয়েছে।
বিভাগভেদে বড় ব্যবধান
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারের ফলাফলে বিভাগভেদে পাসের হারে বড় ধরনের পার্থক্যও স্পষ্ট হয়েছে।
বিজ্ঞানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাসের হার সর্বোচ্চ-৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পাসের হার ৬০ দশমিক ১২ শতাংশ।
তবে মানবিক বিভাগের ফলাফল তুলনামূলকভাবে বেশ পিছিয়ে। এ বিভাগে পাসের হার মাত্র ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ।
মানবিক বিভাগের পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ায় এবারের ফলাফলের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে এটি।
একই বোর্ডে বিজ্ঞানে যেখানে ৮৪ দশমিক ৪১ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছে, সেখানে মানবিকে পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশ-এই ব্যবধানও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।
কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাও
শুধু পাসের হার নয়, এবার চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে জিপিএ-৫ পাওয়ার সংখ্যাতেও বড় পতন হয়েছে।
২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯ হাজার ৩৯৮ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছে।
গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালে জিপিএ-৫ পেয়েছিল ১১ হাজার ৮৪৩ জন। ফলে এক বছরের ব্যবধানে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমেছে ২ হাজার ৪৪৫ জন।
পাসের হার ও জিপিএ-৫-দুই সূচকেই এমন পতন এবারের ফলাফলকে গত বছরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন চিত্র দিয়েছে।
২১ বিদ্যালয়ে শতভাগ পাস, ৮টিতে কেউ পাস করেনি
তবে সামগ্রিক ফলাফলে হতাশার চিত্র থাকলেও কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভালো ফল করেছে। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের ২১টি বিদ্যালয়ে শতভাগ শিক্ষার্থী পাস করেছে।
অন্যদিকে ফলাফলের আরেকটি চিত্রও চোখে পড়ার মতো। ৮টি বিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি।
একই বোর্ডের প্রতিষ্ঠানগুলোর ফলাফলে এমন বিপরীত চিত্র শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভেদে শিক্ষার মান, পাঠদান পদ্ধতি ও ফলাফল অর্জনের সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে ভাবনার সুযোগ তৈরি করেছে।
ফল প্রকাশের পর শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে দেখা গেছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। অনেকে ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করলেও, গত বছরের তুলনায় পাসের হার এতটা কমে যাওয়ায় হতাশ হয়েছেন অনেকেই।
বিশেষ করে মানবিক বিভাগের পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমে আসা এবং জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২ হাজার ৪৪৫ জন কমে যাওয়া এবারের ফলাফলের আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের এবারের এসএসসি ফলাফল পাসের হার কমে যাওয়ার পরিসংখ্যান উঠে এসেছে শিক্ষার মান, বিভাগভিত্তিক ফলাফলের বৈষম্য এবং শিক্ষার্থীদের কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জনে প্রতিবন্ধকতার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নও।
এক বছরে পাসের হার ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ থেকে কমে ৫৯ দশমিক ৪৮ শতাংশে নেমে আসা এবং একই সময়ে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে যাওয়ার পেছনে কী কারণ রয়েছে-তা বিশ্লেষণ করা এখন জরুরি।
বিশেষ করে মানবিক বিভাগের পাসের হার ৪০ শতাংশের নিচে নেমে যাওয়ার কারণ চিহ্নিত করার পাশাপাশি পিছিয়ে থাকা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ, পাঠদান পদ্ধতি ও শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির বিষয়গুলোও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে এবারের এসএসসি ফলাফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫-দুই ক্ষেত্রেই বড় পতন স্পষ্ট।
ভালো ফল করা ২১টি বিদ্যালয় যেমন আশার দিক দেখিয়েছে, তেমনি ৮টি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষার্থী পাস না করা এবং মানবিক বিভাগের পাসের হার ৩৮ দশমিক ৭৯ শতাংশে নেমে যাওয়া সামনে এনেছে বড় কিছু প্রশ্ন।
