আল-আরাফাহ ব্যাংকের ৪ স্বতন্ত্র পরিচালককে পদত্যাগে বাধ্য করল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৯:২২

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মৌখিক নির্দেশে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক পিএলসির চার স্বতন্ত্র পরিচালককে একযোগে পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

গত রোববার পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার মাধ্যমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে ব্যাংকটির সুশাসন ও আইনি বাধ্যবাধকতা।

নিয়মানুযায়ী পর্ষদে অন্তত দুই থেকে তিনজন স্বতন্ত্র পরিচালক থাকা বাধ্যতামূলক হলেও এই নাটকীয় বিদায়ের পর বর্তমানে রয়ে গেছেন মাত্র একজন।

অভিযোগ উঠেছে, পরিচালনা পর্ষদ থেকে স্বতন্ত্র পরিচালকদের পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে বিতর্কিত ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ‘কেডিএস গ্রুপ’ ও এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমানের হাতে ব্যাংকের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতেই এই বেআইনি পথ বেছে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের আগস্টে পর্ষদ ভেঙে দিয়ে পাঁচজন নিরপেক্ষ ও দক্ষ স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

দায়িত্ব নিয়ে তারা দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান দিয়ে ব্যাংকের বিগত দিনের কর্মকাণ্ড নিরীক্ষা (অডিট) করান, যাতে উঠে আসে হাজার হাজার কোটি টাকার আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র।

কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার গঠনের পর চিত্র বদলাতে শুরু করে। মালিকানায় যুক্ত চট্টগ্রামভিত্তিক দুই পক্ষের তৎপরতায় জুলাইয়ে পুরোনো ১৪ জন শেয়ারধারীকে পরিচালক পদে ফেরায় বাংলাদেশ ব্যাংক।

এরপরই কেডিএস গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সেলিম রহমান বাগিয়ে নেন শক্তিশালী ‘নির্বাহী কমিটি’র চেয়ারম্যানের পদ, আর চেয়ারম্যান হন বদিউর রহমান।

সর্বশেষ পদক্ষেপ হিসেবে অডিট পরিচালনাকারী স্বতন্ত্র পরিচালকদেরই সরাতে সরকারের উচ্চপর্যায়ের তথাকথিত বার্তার অজুহাত তুলে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হলো। পদত্যাগকারী চার পরিচালক হলেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শাহীন উল ইসলাম, এনআরবি ব্যাংকের সাবেক উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবদুল ওয়াদুদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ এবং পেশাদার চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট মোহাম্মদ আশরাফুল হাসান। সূত্র এডি

পদত্যাগকারী একজন পরিচালক নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সরাসরি মৌখিক নির্দেশ পাওয়ার পরই আমরা পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হয়েছি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তাও গণমাধ্যমের কাছে স্বীকার করেছেন যে সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় চারজনকে সরিয়ে একজন স্বতন্ত্র পরিচালক রাখা হয়েছে।

ব্যাংকিং খাতের বিজ্ঞজনরা বলছেন, যেখানে ব্যাংকের আমানতকারীদের স্বার্থ রক্ষা এবং অনিয়ম ঠেকানোর প্রধান হাতিয়ার স্বতন্ত্র পরিচালকেরা, সেখানে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিজেই নিজের আইন ভঙ্গ করে একটি গোষ্ঠীর সুবিধার্থে তাঁদের তাড়িয়ে দিল। অনিয়মে জর্জরিত ব্যাংকে সেলিম রহমানের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা হওয়ায় সাধারণ মানুষের আমানতের নিরাপত্তা নিয়ে এখন চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।