বনিবনা না হলে কি জোর করে সংসার টিকিয়ে রাখা সম্ভব? বনিবনা না হওয়া সম্পর্কের ইতি টানতে আইনি পথ ধরেছিলেন আমেনা (ছদ্মনাম)। সিদ্ধান্ত একটাই-স্বামীর সঙ্গে আর সংসার নয়, আইনানুযায়ী নেবেন ছাড়াছাড়ি।
কিন্তু সেই স্বাধীন সিদ্ধান্তেই যেন পাহাড়সম দেয়াল হয়ে দাঁড়াল খোদ নিজের পরিবার। স্বজনদের অনমনীয় পরামর্শ, যেকোনো মূল্যে স্বামীর সাথেই সুখে-শান্তিতে সংসার করতে হবে।
কিন্তু নিজের সিদ্ধান্তে অটল থাকা তাহমিদাকে দমানো যায়নি। সব বাধা উপেক্ষা করে তিনি পৌঁছে গিয়েছিলেন চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে।
তবে গল্পটি এখানেই শেষ হয়নি, বরং আদালত প্রাঙ্গণেই শুরু হয় এক শ্বাসরুদ্ধকর ও নাটকিয় পর্ব।
আজ রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম আদালত চত্বরে তাহমিদাকে ডিভোর্স দেওয়া থেকে নিরস্ত করতে হাজির হন তাঁর বাবা, ভাই ও মা-সহ উভয় পরিবারের সদস্যরা। প্রথমে চলে বাকবিতণ্ডা ও তোপের মুখে ফেলার চেষ্টা।
তবে তরুণী নিজের সিদ্ধান্তে অবিচল থাকলে একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারায় পরিবার। নিজেদের পছন্দের সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিতে তরুণীকে বলপ্রয়োগ করে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালান তাঁর নিজের পরিবারের সদস্যরাই।
আদালতের মতো সুরক্ষিত ও জনাকীর্ণ জায়গায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার মুহূর্তে আমেনার আর্তচিৎকারে কেঁপে ওঠে চারপাশ। মুহূর্তে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ‘অপহরণ’-এর আতঙ্কের তীব্র গুজব।
পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে গেলে ও বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে সাধারণ জনতা এগিয়ে এসে তরুণীকে উদ্ধার করেন এবং স্বজনদের কাজে বাধা দেন।
স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুজনকে আটকে রাখেন বলেও প্রাথমিক সূত্রে জানা যায়। পরবর্তীতে বিষয়টি স্বাভাবিক করতে উভয়পক্ষকেই বিষয়টি আইনের মাধ্যমে সুরাহার উদ্দেশ্যে কোতোয়ালী থানায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়।
এ বিষয়ে ঘটনার বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করা হলে কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাহেদুল কবির জানান, ঘটনাটি মূলত ডিভোর্স সংক্রান্ত পারিবারিক দ্বন্দ্বের। মেয়েটি স্বামীকে ডিভোর্স দিতে চাইলেও তার পরিবার এতে প্রবলভাবে বাধা দিচ্ছিল।
কথা না শুনে মেয়েটি আজ কোর্টে এলে তার পরিবার তাকে বলপ্রয়োগ করে গাড়িতে তুলে বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে। মেয়েটির চিৎকারে স্থানীয় জনসাধারণ এগিয়ে এলে একপ্রকার বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
তিনি আরও যোগ করেন, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও খতিয়ে দেখতে আদালত এলাকায় পুলিশ টিম পাঠানো হয়েছে। তবে দুজনকে আটকের বিষয়টি পুরোপুরি সঠিক নয়। ভুক্তভোগী তরুণী, তাঁর স্বামী কিংবা পরিবারের পূর্ণাঙ্গ নাম-পরিচয় জানা সাপেক্ষে পরবর্তীতে থানার আইনি প্রক্রিয়ায় বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
পারিবারিক চাপ আর আইনি অধিকারের এই টানাপোড়েনে আদালত চত্বরে ঘটে যাওয়া এ ঘটনাটি এখন স্থান জুড়ে চরম চাঞ্চল্য ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
