চিত্রনায়ক মোহাম্মদ শাহরিয়ার (ইমন) ওরফে সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে যাওয়ার মাত্র তিন দিনের মাথায় জামিন চেয়েছিলেন খলনায়ক আশরাফুল হক ডন। তবে সেই আবেদনও নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলামের আদালতে ডনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেন তার আইনজীবী এম ফরিদুল ইসলাম, তারিকুল ইসলাম জুয়েলসহ কয়েকজন আইনজীবী। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুরের আদেশ দেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সালমান শাহ’র আইনজীবী আবিদ হাসান।
এর আগে গত ৯ আগস্ট, রবিবার, ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার সময় ডনকে গ্রেপ্তার করে সিআইডি।
জানা গেছে, সালমান শাহ হত্যা মামলার কারণে ডনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা ছিল। ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি সিআইডিকে জানানোর পর তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়। সৌদি আরবে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়ার সময়ই তাকে আটক করা হয়।
গ্রেপ্তারের পর আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর তিন দিনের মাথায় বুধবার তার জামিন আবেদন করা হলে শুনানি শেষে তা নাকচ হয়ে যায়।
এদিন আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী ডনের জামিনের বিরোধিতা করে যুক্তি তুলে ধরেন।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা ডনের জামিনের পক্ষে শুনানি করেন।
তাদের আবেদনে বলা হয়, হাজতি আসামি ডনের বিরুদ্ধে এজাহার এবং গ্রেপ্তারি ফরোয়ার্ডিংয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ নেই। তিনি কথিত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এ কারণে তার জামিন পাওয়া একান্ত প্রয়োজন।
তবে উভয় পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালত ডনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান। শুরুতে তার মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলা হলেও পরবর্তী সময়ে এ নিয়ে হত্যা মামলা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আলোচিত এই মামলার তদন্তে বিভিন্ন সময়ে একাধিক ব্যক্তির নাম সামনে এসেছে।
সর্বশেষ ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে রমনা থানায় সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি করেন।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন-সামিরা হকের মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদ।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডনের গ্রেপ্তার এবং এরপর দ্রুত জামিন আবেদন-দুই ঘটনাই নতুন করে আলোচনায় এনেছে প্রায় তিন দশক ধরে রহস্য ও বিতর্কে ঘেরা এই মামলাকে।
তবে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা শেষ পর্যন্ত আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়াতেই নির্ধারিত হবে।
