মাইজভাণ্ডারীয়া ত্বরিকার উজ্জ্বল নক্ষত্র বিশ্বঅলি শাহানশাহ্ হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.)-এর ৩৮তম ২৬ আশ্বিন উরস শরিফ উপলক্ষে ‘এস জেড এইচ এম ট্রাস্ট’-এর উদ্যোগে আয়োজিত ০৭ দিনব্যাপি কর্মসূচির দ্বিতীয় দিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী হযরত মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)-এর জীবনী ও রচনাবলি’ শীর্ষক সেমিনার।
৩ অক্টোবর শনিবার চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে আলোচনায় উঠে আসে মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)-এর জ্ঞানচর্চা, সুফিবাদ, মাইজভাণ্ডারী দর্শন, সাহিত্যকর্ম এবং তৎকালীন ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে তাঁর ভূমিকার নানা দিক।
ট্রাস্ট সচিব অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এস জেড এইচ এম ট্রাস্টের উপদেষ্টা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্স্টিটিউট অব ফরেস্ট্রি এন্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস বিভাগের অধ্যাপক প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জসীমউদ্দিন।
সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আজিজুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা মুরাগনগর এম আরিফ কলেজের অধ্যাপক সৈয়দা রীনা আকতার, আবৃতি শিল্পী এবং ব্যাংকার মোহাম্মদ জুনাইদ শাওকী।
সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আইনজীবী ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এম.ফিল গবেষক অ্যাডভোকেট আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল।
তাঁর উপস্থাপিত “খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী ‘হযরত মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)’র রচনায় সুফিবাদ ও মাইজভাণ্ডারী দর্শন” শীর্ষক প্রবন্ধের ওপর আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় আরবি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুফ্তি মুহাম্মদ নুর হোসাইন।
আলোচনায় ড. মুফ্তি মুহাম্মদ নুর হোসাইন বলেন, সূরা আলে ইমরানের ৬৪ নম্বর আয়াতে করিমার শিক্ষা ‘পারস্পরিক সাদৃশ্যপূর্ণ বিষয়গুলো’র ভিত্তিতে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা সময়ের দাবি।
ফিনিস একাডেমি, হেলসিংকী-ফিনল্যান্ড রিসার্চ ফেলো ড. সেলিম জাহাঙ্গীর বলেন, ধর্ম ও মানবজীবনের দর্শন বোঝার ক্ষেত্রে মাইজভাণ্ডারী গান গবেষণার একটি অনন্য উপকরণ।
বক্তারা বলেন, খলিফায়ে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.) তৎকালীন কলিকাতা আলিয়া মাদরাসা থেকে পড়াশোনার সর্বোচ্চ সনদ অর্জন করেছিলেন। বিদগ্ধ আলেম হিসেবে তিনি সুপ্রতিষ্ঠিত ছিলেন।
শুধু জ্ঞানচর্চা ও আধ্যাত্মিক সাধনায় সীমাবদ্ধ না থেকে শোষণমুক্ত সমাজ বিনির্মাণের প্রত্যয়ে তিনি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও অংশগ্রহণ করেন।
এ বিষয়ে গীতি-কবিতা রচনা করে জনসচেতনতা সৃষ্টিতেও তিনি অনন্য ভূমিকা পালন করেছিলেন। একই সঙ্গে মুনাজারা, লেখনীসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের মতাদর্শের অনন্যতা রক্ষায় তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক এ ওয়াই এমডি জাফর বলেন, মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী মাইজভাণ্ডারী গানের মাধ্যমে ‘ইসলামের আধ্যাত্মিক মর্মবাণী’ মানুষের অন্তর্জগতে পৌঁছে দিয়েছেন। হুজুর গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী শাহ্ সুফি হযরত সৈয়দ আহমদ উল্লাহ্ (ক.) তাঁর ত্বরিকায় মাইজভাণ্ডারী গানের অনুমোদন দিয়ে মানুষের অন্তর্জগতে ইসলামকে কায়েম করার ক্ষেত্র তৈরি করে দিয়েছেন।
সেমিনারে মাওলানা সৈয়দ বজলুল করিম মন্দাকিনী (রহ.)-এর পরিবারের সদস্যবৃন্দ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষিকাবৃন্দ, বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবী এবং ট্রাস্ট ও মাইজভাণ্ডারী একাডেমির সদস্য ও কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাস্টভুক্ত যুব প্রতিষ্ঠান তাজকিয়ার প্রাক্তন সভাপতি ও মাইজভাণ্ডারী একাডেমির সদস্য আরেফিন রিয়াদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতে কোরআন তিলাওয়াত করেন মাদরাসা-ই-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর শিক্ষার্থী হাফেজ সৈয়দ মাহামুদুল হাসনাইন মাহাদী।
নাতে রাসূল (দ.) ও শানে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী পরিবেশন করেন মাদরাসা-ই-গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারীর সাবেক শিক্ষার্থী মোহাম্মদ আরমান উদ্দিন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে মাইজভাণ্ডারী গান ও কাওয়ালী পরিবেশন করেন মাইজভাণ্ডারী মরমী গোষ্ঠীর শিল্পীরা। এতে সেমিনারের গম্ভীর আলোচনার আবহ পেরিয়ে আধ্যাত্মিক সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ হয়।
আলোচনা শেষে দরুদ ও সালাম পেশ করা হয়। বিশেষ করে মুসলিম উম্মাহর সুখ-শান্তি, সার্বিক কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন গাউসিয়া কলন্দরিয়া নঈমিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা আবদুর রহমান।
