চট্টগ্রাম নগরীর ব্যস্ততম আগ্রাবাদ মোড়ে ট্রাফিক পুলিশের টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) নারায়ণ বাবুর চাঁদাবাজি ও নানা অনিয়মে চরম অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকেরা। ভুক্তভোগী চালকদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশের অনৈতিক দাবি ও প্রতিনিয়ত হয়রানির কারণে এই সড়কে স্বাভাবিকভাবে যানবাহন চালানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে।
চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগ্রাবাদ মোড়ে দায়িত্ব পালনকারী ট্রাফিক সার্জেন্টরাও এই চাঁদাবাজিতে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও সিএনজিচালকদের নানা অজুহাতে আটকে রাখা হয়। বিশেষ করে ‘নো-পার্কিং’-এর মিথ্যা মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চালকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করা হচ্ছে।
অভিযোগে আরও জানা যায়, চালকদের পোশাকের মতো তুচ্ছ বিষয়েও হয়রানির নতুন কৌশল উন্মোচিত হয়েছে। চালকেরা লুঙ্গি পরে গাড়ি চালাচ্ছেন—এমন অহেতুক অজুহাত তুলে নো-পার্কিং মামলাসহ নানা আইনি জরিমানার হুমকি দেওয়া হয়। মামলা এড়াতে প্রতিটি সিএনজিচালকের কাছ থেকে ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত জোরপূর্বক আদায় করছেন দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা।
ভুক্তভোগী এক সিএনজিচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের সব কাগজপত্র ঠিক থাকা সত্ত্বেও কোনো না কোনো অজুহাত তুলে আটকে রাখা হয়। টাকা না দিলে মামলা লিখে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। সারাদিন রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে যা আয় করি, তার একটি বড় অংশই অন্যায়ভাবে পুলিশের হাতে তুলে দিতে হচ্ছে।”
আগ্রাবাদ মোড় সংলগ্ন রুটের সাধারণ চালকদের দাবি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নামে দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অর্থ আত্মসাত ও হয়রানি বন্ধে অবিলম্বে ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ জরুরি। তারা এই চাঁদাবাজির সাথে জড়িত কর্মকর্তা ও সার্জেন্টদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনি ও প্রশাসনিক শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
