চট্টগ্রাম মহানগরীর চান্দগাঁও থানাধীন কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকায় ৯ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৯ এপিবিএন)-এর একটি বিশেষ অভিযানে উদ্ধারকৃত বিপুল পরিমাণ মাদক ও সরকারি গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, ৯ এপিবিএন-এর এসআই শাহাদাত মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণাকে সরকারি গাড়ি ভাঙচুর ও ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি মামলার এজাহার থেকে বাদ দেওয়ার শর্তে এসপি আরেফিন জুয়েলকে দেওয়ার জন্য ৩০ লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণ করেছেন এবং অভিযানের মূল আলামত ও আসামির প্রকৃত পরিচয় পরিবর্তন করে একটি সাজানো এজাহার দাখিল করেছেন। এই ঘটনায় তথ্যদাতা এক নাগরিক চরম জীবননাশক হুমকির মুখে রয়েছেন।
গত ১০ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কাপ্তাই রাস্তার মাথা এলাকার মেহেরাজ খান চৌধুরী ঘাট সংলগ্ন মাদক স্পটে ৯ পিবিএন-এর একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। বিশ্বস্ত সূত্র ও তথ্যদাতা মোহাম্মদ নাহিদের সহায়তায় পরিচালিত উক্ত অভিযানে মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণাকে দুটি স্মার্টফোনসহ হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ২০ কেজি গাঁজা, ২ হাজার পিস ইয়াবা এবং নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে গ্রেফতারকৃত ঝর্ণা তাৎক্ষনিক মুক্তি পাওয়ার জন্য ২০লক্ষ নগদ ও টাকা ৫০কেজি গাজাঁ দিয়ে তার কর্মচারী মো. কামরুল আসামী হিসেবে গ্রেফতারের অনরোধ করেন ।
অভিযান চলাকালীন মাদকসম্রাজ্ঞী ঝর্ণার সশস্ত্র অনুসারীরা এপিবিএন সদস্য ও সরকারি গাড়ি লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে এবং গাড়ির পেছনের গ্লাস ভাংচুর করে। এ সময় তথ্যদাতা নাহিদকেও মারধর করা হয়।
আরও পড়ুন
ঘুষ বাণিজ্য ও মামলার এজাহার পরিবর্তনের গুরুতর অভিযোগ পরবর্তীতে অভিযোগ ওঠে যে, এসপি আরেফিন জুয়েল -এর প্রত্যক্ষ নির্দেশনায় এসআই শাহাদাত ৩০ লক্ষ টাকা ঘুষ নিয়ে মূল ঘটনা সম্পূর্ণ বদলে মামলার এজাহার তৈরী করে।
আলামত ও আসামির নাম পরিবর্তন: ২০ কেজি গাঁজা ও ২ হাজার পিস ইয়াবাকে পরিবর্তন করে মাত্র ১ কেজি গাঁজা ও ২৭ পিস ইয়াবা দেখিয়ে একটি নামমাত্র মামলা (এজাহার) তৈরি করা হয়। এছাড়া মূল আসামি মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার নিকট থেকে ২০ কেজি গাঁজা উদ্ধারের পরিবর্তে ১ কেজি গাঁজা দিয়ে চালান দেওয়া হয় এবং সরকারী গাড়ি ভাংচুরের বিষয়টি আড়াল করেন।
সোর্স ও তথ্যদাতার ওপর নির্যাতন: তথ্যদাতার জীবন রক্ষায় সহায়তার পরিবর্তে, মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার ক্যাশিয়ার বাকলিয়া থানার কনস্টেবল নুরুল আফসার ও সোর্স বেলাল হোসেনের মাধ্যমে তথ্যদাতা নাহিদকে প্রকাশ্যে অপহরণ করে পুনরায় ঝর্ণার স্পটে নিয়ে শারীরিক নির্যাতন চালানো হয় এবং পুকুরে ফেলে হত্যার চেষ্টা করা হয়। ৯ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (৯ এপিবিএন) এর এস আই শাহাদাত তাকে মিথ্যা মামলা ও জেলের ভয় দেখিয়ে মুখ বন্ধ রাখতে বাধ্য করেন।
একজন দেশপ্রেমিক নাগরিক ও তথ্যদাতার জীবন এবং রাষ্ট্রের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার ভাবমূর্তি রক্ষার্থে এই দুর্নীতির নিরপেক্ষ ও উচ্চপর্যায়ের তদন্ত অপরিহার্য হয়ে পড়েছে।
ঘুষ গ্রহণ, মামলার তথ্য গোপনীকরণ, সন্ত্রাসী হামলা আড়াল করা এবং মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে যোগসাজশের অভিযোগে অভিযুক্ত ৯ এপিবিএন-এর এসপি আরেফিন জুয়েল, এসআই শাহাদাত, ওসি দেবাশীষ, এএসআই বাবুল এবং মাদকসম্রাজ্ঞী মরিয়ম আক্তার ঝর্ণার ক্যাশিয়ার বাকলিয়া থানার কনস্টেবল নুরুল আফসারের বিরুদ্ধে অবিলম্বে কঠোর আইনানুগ ও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিক সমাজ ও ভুক্তভোগীরা। একই সাথে, মূল মাদকসম্রাজ্ঞী ঝর্ণা ও তার সশস্ত্র অনুসারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে তথ্যদাতা মোহাম্মদ নাহিদ ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়েছে।
