শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের সময়, হাতে থাকার কথা বই-খাতা। অথচ স্কুল-কলেজ ও মাদরাসার পোশাক পরেই বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছিল একদল শিক্ষার্থী।
ক্লাস ফাঁকি দিয়ে আড্ডায় মেতে থাকার এমন চিত্র নজরে আসতেই অভিযান চালায় চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলা প্রশাসন।
অভিযানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ৩৫ শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়। পরে অভিভাবক ও শিক্ষকদের ডেকে সতর্ক করে তাঁদের জিম্মায় শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর করা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) উপজেলার বিভিন্ন পর্যটন স্পটে আকস্মিক এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ক্লাসে অংশ না নিয়ে পাঠদানের সময় বিনোদনকেন্দ্র ও পর্যটন স্পটে ঘুরে বেড়াচ্ছে-এমন তথ্য পায় উপজেলা প্রশাসন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। এ সময় বিভিন্ন পর্যটন স্পটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নির্ধারিত পোশাক পরা অবস্থায় দলবেঁধে ঘোরাঘুরি ও আড্ডা দিতে দেখা যায় শিক্ষার্থীদের।
পরে বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ জনকে আটক করে উপজেলা পরিষদে নিয়ে আসা হয়।
শিক্ষার্থীদের আটকের পর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে তাঁদের অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে তাঁরা উপজেলা পরিষদে উপস্থিত হলে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলেন ইউএনও।
এ সময় পড়ালেখায় মনোযোগী হওয়া, নিয়মিত ক্লাসে উপস্থিত থাকা এবং নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ার বিষয়ে শিক্ষার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়।
একই সঙ্গে সন্তানরা নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে কি না, শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে অংশ নিচ্ছে কি না-সেসব বিষয়ে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল ও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
পরে অভিভাবক ও শিক্ষকদের জিম্মায় শিক্ষার্থীদের হস্তান্তর করা হয়।
চন্দনাইশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেন ভুল পথে পরিচালিত না হয় এবং পড়ালেখার প্রতি মনোযোগী থাকে, সে উদ্দেশ্যেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সন্তানরা ঠিকমতো স্কুলে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে অভিভাবকদেরও নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, শিক্ষাঙ্গনে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদানে সম্পৃক্ত রাখতে এ ধরনের তদারকি ও অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।
