back to top

চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির নির্বাচন: ভোট চলছে, বৈধতা নিয়ে তীব্র বিতর্ক

প্রকাশিত: ২১ মে, ২০২৬ ০৮:৩২

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বৃহস্পতিবার ভোটগ্রহণ চললেও নির্বাচনকে ঘিরে আদালতপাড়ায় তৈরি হয়েছে স্পষ্ট রাজনৈতিক বিভাজন ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি।

বিএনপিপন্থি জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম নির্বাচনে অংশ নিলেও জামায়াতে ইসলামীপন্থি আইনজীবীদের সংগঠন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়ে আদালত এলাকায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে।

এর আগে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও ‘একতরফা নির্বাচন’-এর অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ করেছেন।

মনোনয়ন বাতিল, প্রার্থী তালিকা প্রকাশে অনিয়মের অভিযোগ, নির্বাচন কমিশনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন এবং বিদায়ী কমিটি থেকে পদত্যাগ—সব মিলিয়ে এবারের নির্বাচন শুরু থেকেই ছিল বিতর্কে আচ্ছন্ন।

বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। ভোট চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। প্রায় পাঁচ হাজার ভোটার এবার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।

তবে ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আদালত ভবন এলাকার সোনালী ব্যাংক চত্বরে প্রতিবাদ সমাবেশ শুরু করেন ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর সমর্থকেরা।

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে শুরু হওয়া এ সমাবেশে নির্বাচনকে ‘একতরফা’ আখ্যা দিয়ে ভোট বর্জনের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এর আগে সকাল থেকেই ওই এলাকায় অবস্থান নেন বিএনপিপন্থি আইনজীবীরা।

মুখ্য নির্বাচন কর্মকর্তা অ্যাডভোকেট রৌশন আরা বেগম দুপুরে গণমাধ্যমকে বলেন, “সকাল থেকে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ চলছে। এখন পর্যন্ত কোনো ধরণের সমস্যা হয়নি।”

অন্যদিকে ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’-এর প্রধান সমন্বয়ক শামসুল আলম বলেছেন, “আমরা ভোট বর্জন করেছি। আমাদের সাধারণ ভোটাররাও ভোট দিচ্ছে না। আমরা এখন এরকমভাবে ভোট গ্রহণের প্রতিবাদে সমাবেশ শুরু করেছি।”

নির্বাচন ঘিরে বিরোধের সূত্রপাত আরও আগে। জামায়াতপন্থি আইনজীবীরা অভিযোগ করেন, নির্বাচনের মনোনয়ন ফরম বিতরণের দিন সমিতির লাইব্রেরির মূল ফটক বন্ধ রেখে তাদের ফরম সংগ্রহে বাধা দেওয়া হয়।

পরে বাছাই শেষে নির্ধারিত সময়ে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ না করা এবং ৯টি পদে তাদের ৯ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করায় নির্বাচন কমিশনকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করে তারা।

এবার সমিতির ২১টি পদের মধ্যে ৯টিতে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ছিল না। বাকি ১২টি পদে দু’জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই বাস্তবতাকেও ‘অসম প্রতিযোগিতা’ হিসেবে তুলে ধরছেন নির্বাচন বর্জনকারীরা।

গত ৭ মে ‘ঐক্যবদ্ধ আইনজীবী পরিষদ’ আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেয়।

এর ধারাবাহিকতায় বুধবার বিকেলে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির বিদায়ী কমিটি থেকে জামায়াত সমর্থিত সাত আইনজীবী পদত্যাগ করেন। একই সঙ্গে নির্বাচনে থাকা তাদের ১২ প্রার্থীও ভোট বর্জনের ঘোষণা দেন।

শামসুল আলম বুধবার বলেছিলেন, “এক তরফা নির্বাচনের প্রতিবাদে সমিতি থেকে আমাদের সাতজন পদত্যাগ করেছেন। আমাদের যে ১২ জন প্রার্থীর নাম প্রার্থী তালিকায় ছিল তারাও আগামীকালের ভোট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে।”

এর আগে মঙ্গলবার নির্বাচন কমিশন বাতিল এবং নতুন তফসিল ঘোষণার দাবিতে জামায়াতপন্থি আইনজীবীদের আনা প্রস্তাব সমিতির তলবি সভায় কণ্ঠভোটে নাকচ হয়ে যায়।

নির্বাচন স্থগিত চেয়ে আদালতে করা আবেদনও খারিজ করে দেন বিচারক।

এদিকে আওয়ামী লীগপন্থি আইনজীবীরাও বুধবার আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করে নির্বাচন প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেন।

ফলে কার্যত চট্টগ্রাম আইনজীবী সমিতির এবারের নির্বাচন ঘিরে তিন ধারার রাজনৈতিক অবস্থান প্রকাশ্যে চলে এসেছে—এক পক্ষ ভোটে সক্রিয়, আরেক পক্ষ বর্জনে, অন্য পক্ষ নির্বাচন নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

সব মিলিয়ে ভোটগ্রহণ চললেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বৈধতা, অংশগ্রহণ ও গ্রহণযোগ্যতার প্রশ্ন এখন চট্টগ্রাম আদালত পাড়ার প্রধান আলোচনায় পরিণত হয়েছে।