তেহরানে শুরু হয়েছে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির এক সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্য কর্মসূচি।
দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তা, সামরিক নেতৃত্ব এবং বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে রাজধানীতে জড়ো হয়েছেন বিপুলসংখ্যক শোকাহত মানুষ, যাদের উপস্থিতিতে পুরো এলাকা পরিণত হয়েছে শোকের আবহে।
শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা ধর্মীয় কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিন সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হয়।
কালো পোশাকে শোকাহত মানুষেরা কাঁধে করে তার কফিন বহন করেন। তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে ইরানের নেতৃত্ব দেওয়া এই নেতাকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে সেখানে মানুষের ঢল নামে।
ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহে দাফনের আগে বিভিন্ন পর্যায়ে জনশোক ও শোকযাত্রার আয়োজন করা হবে। এসব কর্মসূচিতে লাখো মানুষের অংশগ্রহণের আশা করা হচ্ছে।
ইরানের দাবি, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নিজ বাসভবনে যুক্তরাষ্ট্র ও দখলদার ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সে নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
একই হামলায় তার তিন বছর বয়সি নাতনি, জ্যেষ্ঠ কন্যা, জামাতা এবং পুত্রবধূও নিহত হন বলে দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। গ্র্যান্ড মোসাল্লায় খামেনির কফিনের পাশেই তাদের কফিনও রাখা হয়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের সম্প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান খামেনির মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন পার্লামেন্টের স্পিকার ও প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ।
এ ছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) প্রধান আহমদ ভাহিদিও যুদ্ধ শুরুর পর প্রথমবারের মতো জনসমক্ষে উপস্থিত হয়ে প্রয়াত নেতার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান।
খামেনির শেষকৃত্যকে ঘিরে তেহরানে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচির অংশ হিসেবে আগামী কয়েক দিন রাজধানীজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
দেশটির কর্মকর্তাদের আশা, এসব আয়োজনে লাখো মানুষ অংশ নিয়ে দীর্ঘদিনের এই নেতাকে শেষ বিদায় জানাবেন।
সূত্র: আল জাজিরা।

