চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসনিক কাঠামোয় শীর্ষ পর্যায়ে এসেছে পরিবর্তন। পরিচালক (প্রশাসন) মো. ওমর ফারুক অবসরজনিত ছুটিতে (পিআরএল) যাওয়ায় তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে চিফ পারসোনেল অফিসার মো. নাসির উদ্দীনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে পরিচালক (প্রশাসন) পদে।
রোববার (২ আগস্ট) চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মো. ওমর ফারুক ৩ আগস্ট থেকে অবসরজনিত ছুটিতে (পিআরএল) যাচ্ছেন।
একই দিন থেকে মো. নাসির উদ্দীন নিজ দায়িত্বের পাশাপাশি অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে পরিচালক (প্রশাসন) পদে দায়িত্ব পালন করবেন। যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ পদায়ন কার্যকর হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের প্রশাসন বিভাগ বন্দরের সামগ্রিক মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদায়ন ও বদলি, শৃঙ্খলা রক্ষা, প্রশাসনিক নীতিমালা বাস্তবায়ন, শ্রম সম্পর্ক উন্নয়ন এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণমূলক কার্যক্রম তদারকির মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বও এ বিভাগের আওতাধীন।
ফলে পরিচালক (প্রশাসন) পদটি চট্টগ্রাম বন্দরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব হিসেবে বিবেচিত হয়।
দীর্ঘ সময় প্রশাসন বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন বিদায়ী পরিচালক মো. ওমর ফারুক। দায়িত্ব পালনকালে বন্দরের প্রশাসনিক কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, কার্যক্রম ও সাফল্য সম্পর্কে গণমাধ্যমকে নিয়মিত তথ্য দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
এদিকে নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর নিজের অবস্থানও স্পষ্ট করেছেন মো. নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, দায়িত্ব বেড়েছে, তাই দায়িত্ববোধও আরও বেড়েছে। নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করাই আমার লক্ষ্য।
তিনি আরও বলেন, বন্দর একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্থাপনা। প্রশাসনিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রেখে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সমন্বয়ের মাধ্যমে আরও দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করব।
প্রশাসন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘ অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মো. নাসির উদ্দীন এর আগে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক দায়িত্ব সফলভাবে পালন করেছেন। সেই অভিজ্ঞতাকেই কাজে লাগিয়ে নতুন দায়িত্বে প্রশাসনিক কার্যক্রমে আরও গতি ও দক্ষতা আনতে তিনি কার্যকর ভূমিকা রাখবেন বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা, প্রশাসনিক এ পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের কার্যক্রমে ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পাশাপাশি সেবার মানোন্নয়ন, মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনিক দক্ষতা আরও সুসংহত হবে।
বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ এ জাতীয় স্থাপনার প্রশাসনিক কার্যক্রমে সমন্বয় ও গতিশীলতা বাড়াতে মো. নাসির উদ্দীনের অভিজ্ঞতা ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
