চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় ফেসবুকে একাধিক পোস্ট দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নিরব ইমন (২৪) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) বিকালে উপজেলার পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নিজ বাড়ি থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে পুলিশ।
নিহত নিরব ইমন পোমরা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাম তালুকদার বাড়ির মো. জহির আহমদের ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ জুলাই উত্তর পোমরা মালিহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে ইভটিজিংয়ের অভিযোগ ওঠে ইমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীর মা রাঙ্গুনিয়া মডেল থানায় অভিযোগ করেন।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ জুলাই স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি আজিম উদ্দীন তালুকদারের নেতৃত্বে একটি সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, বৈঠকে ইমন নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়াবেন না মর্মে লিখিত অঙ্গীকার করেন।
পাশাপাশি দুই পরিবারের সদস্যরা আপসের মাধ্যমে অঙ্গীকার করেন, তারা পরস্পরের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ইভটিজিং, কুপ্রস্তাব, কটূক্তি কিংবা হুমকির ঘটনায় জড়াবেন না।
এরই মধ্যে সোমবার মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ইমনের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া একটি স্ট্যাটাস ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সেখানে তিনি লেখেন, ‘মানুষের মৃত্যু হয় কিছু কারণে অকারণে। কিন্তু আমার মৃত্যু হবে একটা নারীর কারণে, তার ফ্যামিলির কারণে।’
অন্য একটি পোস্টে ব্যক্তিগত সম্পর্ক, মানসিক কষ্ট ও হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ওই পোস্টগুলোতে কয়েকজন প্রেমিকার সঙ্গে অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ছবিও দেন। পাশাপাশি কয়েকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন তিনি। তবে তার করা এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের দাবি, নিরব ইমন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা জানান, কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে ভবিষ্যতে প্রবাসে যাওয়ার প্রস্তুতিও নিচ্ছিলেন তিনি।
ইমনের মৃত্যু ঘিরে তার ফেসবুক পোস্ট, সাম্প্রতিক ব্যক্তিগত সম্পর্ক, ইভটিজিংয়ের অভিযোগ এবং পরবর্তী সালিশি বৈঠকের বিষয়গুলো নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে।
তবে তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী এবং ফেসবুক পোস্টগুলোর সঙ্গে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না-তা তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।
রাঙ্গুনিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জহির উদ্দিন জানান, কিছুদিন আগে ইমনের বিরুদ্ধে ইভটিজিংয়ের একটি অভিযোগ উঠেছিল।
পরে বিষয়টি সামাজিকভাবে মীমাংসা করা হয়। প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। মৃত্যুর আগে দেওয়া ফেসবুক পোস্টসহ ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
