চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় কোস্ট গার্ডের অভিযানে আড়াই লাখ ইয়াবা বড়িসহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করা হয়েছে।
এ সময় মাদক পাচারে ব্যবহৃত একটি বোটও জব্দ করা হয়। কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, জব্দ করা ইয়াবার আনুমানিক মূল্য সাড়ে ১২ কোটি টাকা।
সোমবার দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ড জানায়, রোববার দিবাগত রাত তিনটার দিকে চট্টগ্রামের বহিঃনোঙর সমুদ্র এলাকায় ‘অপারেশন সমুদ্র প্রহরায়’ নিয়োজিত কোস্ট গার্ডের জাহাজ কুতুবদিয়া ও আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান শুরু করেন।
অভিযানের একপর্যায়ে কোস্ট গার্ডের সদস্যদের নজরে আসে একটি সন্দেহজনক বোট।
বোটটিকে থামার সংকেত দেওয়া হলে সেটি সংকেত অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এতে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হলে কোস্ট গার্ডের সদস্যরা বোটটির পিছু নেন।
একপর্যায়ে ধাওয়া করে বোটটি আটক করা হয়। পরে বোটটিতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার করা হয় ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা বড়ি।
একই সঙ্গে ইয়াবা পাচারে ব্যবহৃত বোটটিও জব্দ করা হয়। এ সময় বোটে থাকা দুই মাদক কারবারিকে আটক করেন কোস্ট গার্ডের সদস্যরা।
কোস্ট গার্ডের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, একটি সংঘবদ্ধ মাদক চক্র মিয়ানমারের বিভিন্ন এলাকা থেকে ইয়াবার চালান সংগ্রহ করে চট্টগ্রামে পাচারের চেষ্টা করছিল।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দীর্ঘদিনের গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতেই ইয়াবার এই বড় চালান সম্পর্কে তথ্য পাওয়া যায়। সেই তথ্যের ভিত্তিতে বহিঃনোঙর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চালানটি আটক করা হয়েছে।
একসঙ্গে ২ লাখ ৫০ হাজার ইয়াবা বড়ি উদ্ধারের ঘটনায় চট্টগ্রামের সমুদ্রপথে মাদক পাচারের বিষয়টিও নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
কোস্ট গার্ডের তৎপরতায় বড় একটি চালান গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই আটকে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন জানিয়েছেন, আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
একই সঙ্গে এই মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত চক্রটির অন্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
