বাঁশখালীতে বাবার মৃত্যু, ঢাকার বিমানবন্দরে ছেলে গ্রেপ্তার

ঘটনার নেপথ্যে পারিবারিক কলহ

প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:১৮

পরিবারের অমতে বিয়ে, বাড়ি নির্মাণের ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধসহ নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহের একপর্যায়ে বাবার মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে ছেলের বিরুদ্ধে।

গুরুতর আহত বাবা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন অভিযুক্ত ছেলে। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন থেকে তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তি বোরহান উদ্দিন শওকত (অভিযুক্ত), যিনি ওমানপ্রবাসী। নিহত ব্যক্তি তার বাবা মোহাম্মদ শাহজাহান (৫০)। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেলে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার সময় ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার কালীপুর ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম কোকদণ্ডী নিদা গাজী পাড়া এলাকায় ঘটনাটির সূত্রপাত।

কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে আসেন ওমানপ্রবাসী বোরহান উদ্দিন শওকত। পরিবারের অমতে বিয়ে করা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর তার বিয়ে মেনে নেওয়া নিয়ে বাবা মোহাম্মদ শাহজাহানের সঙ্গে বিরোধ শুরু হয়।

এর সঙ্গে যুক্ত হয় বাড়ি নির্মাণের ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়। এসব নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি একপর্যায়ে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি যখন উত্তেজনাপূর্ণ, তখন পরিবারের অন্য নারী সদস্যদের মধ্যেও ঝগড়া শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন মোহাম্মদ শাহজাহান। এ সময় তিনি তার মেয়েকে চড়-থাপ্পড় দিলে অসাবধানতাবশত সেই আঘাত গিয়ে পড়ে নতুন বিবাহিত পুত্রবধূর গায়ে।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন শওকত। অভিযোগ, একপর্যায়ে তিনি লাঠি দিয়ে তার বাবা মোহাম্মদ শাহজাহানের মাথায় সজোরে আঘাত করেন।

আঘাতে গুরুতর আহত শাহজাহানকে দ্রুত স্থানীয় একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

চমেক হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে মারা যান মোহাম্মদ শাহজাহান।

এদিকে বাবার মৃত্যুর পর ঘটনা নতুন মোড় নেয়। নিহত শাহজাহানের বোন লাকী আক্তার বাদী হয়ে বোরহান উদ্দিন শওকত ও তার বোন রুবি আক্তারকে আসামি করে বাঁশখালী থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলা হওয়ার পর আত্মগোপনে চলে যান শওকত। পুলিশের কাছে তথ্য আসে, তিনি দেশ ছেড়ে ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতে তার গতিবিধির ওপর নজরদারি শুরু করে পুলিশ।

বাঁশখালী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ হোসেন বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে খবর পেয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন পুলিশের সহায়তায় শওকতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আনোয়ারা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মাহমুদুল হাসান বলেন, অভিযুক্ত শওকত ওমানপ্রবাসী। কিছুদিন আগে ছুটিতে দেশে এসে পারিবারিক কলহের জেরে তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

পুলিশের কাছে তথ্য ছিল, তিনি আবারও ওমানে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে ইমিগ্রেশন পুলিশকে জানানো হলে তাদের সহায়তায় বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

এএসপি মাহমুদুল হাসান আরও বলেন, গ্রেপ্তার শওকতকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। সেখান থেকে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

অন্যদিকে, মঙ্গলবার বিকেলে জানাজা শেষে নিদা গাজী পাড়া এলাকায় পারিবারিক কবরস্থানে মোহাম্মদ শাহজাহানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।