চট্টগ্রাম নগরের চান্দগাঁও থানার চাঞ্চল্যকর ও প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে মোহাম্মদ সাকিব (২০) হত্যা মামলায় ৩ এজাহারনামীয় আসামিসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-৭।
চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার র্যাব-৭-এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) সহকারী পুলিশ সুপার এ. আর. এম. মোজাফ্ফর হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-মোঃ ইমন (২২), মোঃ রায়হান (২৫), শাহেদ সালমান (২২), মোহাম্মদ হোসেন (২২), হাসান মোহাম্মদ রবিউল (২১), মোঃ সাকিব হোসেন (১৮), মোঃ আছমান (২৩) ও মোঃ ফয়সাল (২৩)।
নিহত মোহাম্মদ সাকিব চান্দগাঁও বিসিক এলাকার একটি ময়দার মিলের কর্মচারী ছিলেন। তিনি চররাঙ্গামাটিয়া এলাকার মোঃ নজুম উদ্দিনের ছেলে।
র্যাবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ৮-১০ দিন আগে ইমন এক ব্যক্তির মোবাইল ফোন জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেন। বিষয়টি জানতে পেরে সাকিব এর প্রতিবাদ করেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় ফোনটি উদ্ধার করে দেন তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ইমনের সঙ্গে সাকিবের তীব্র বিরোধের সৃষ্টি হয় বলে জানিয়েছে র্যাব। এরপর ২০ আগস্ট ঘটে সেই হত্যাকাণ্ড।
র্যাব জানায়, ২০ আগস্ট সাকিব তার প্রতিবেশী জিসানের সঙ্গে অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফিরছিলেন।
পথে চান্দগাঁও থানাধীন মোহরা কামাল বাজার এলাকার লায়লা কমিউনিটি সেন্টারের সামনে পৌঁছালে আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা আসামিরা অটোরিকশার গতিরোধ করে।
একপর্যায়ে ইমন সাকিবের শার্টের কলার ধরে তাকে টেনে নিচে নামান। এরপর ধারালো ছুরি দিয়ে সাকিবকে এলোপাতাড়ি আঘাত করা হয়। পরে অন্যরাও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে রক্তাক্ত জখম করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় সাকিবকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় নিহত সাকিবের পিতা বাদী হয়ে চান্দগাঁও থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৬-৭ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর ঘটনাটির সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে র্যাব-৭। এরই ধারাবাহিকতায় চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাবের অভিযানে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি দেশীয় তৈরি চাইনিজ কুড়াল ও একটি সুইচ গিয়ার ছুরিও উদ্ধার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের এবং উদ্ধার করা আলামতের বিষয়ে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
