২০ লাখ টাকা দাবি, দোকান দখলের অভিযোগে শাহজাহান চৌধুরীর পিএস আরমানের বিরুদ্ধে মামলা

প্রকাশিত: ২৪ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:৪৭

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া-লোহাগাড়া ঘিরে গত কয়েক মাসে তাঁর নাম উঠে এসেছে একের পর এক অভিযোগে।

সর্বশেষ আদালতে চাঁদাবাজির মামলা করেছেন এক প্রবাসী। মামলার আসামির তালিকায় আরমান উদ্দিনের পাশাপাশি তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিনসহ ছয়জনের নাম রয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে আরও চার-পাঁচজনকে।

মামলাটি করেছেন লোহাগাড়ার পশ্চিম কলাউজান এলাকার বাসিন্দা আমির হোসেন। গত রোববার চট্টগ্রাম চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

মামলার আরজি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য, প্রকাশ্য নথি, ছড়িয়ে পড়া অডিও এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মিলিয়ে যে প্রশ্নটি সামনে এসেছে, তা হলো-একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সচিবকে ঘিরে এত অভিযোগ কেন তৈরি হচ্ছে এবং এসব অভিযোগের তদন্ত কতটা নিরপেক্ষভাবে হচ্ছে?

২০ লাখ টাকা, তারপর দোকান দখলের অভিযোগ

মামলার বাদী আমির হোসেনের অভিযোগ, লোহাগাড়ার আজিজ কমপ্লেক্সে তাঁর চারতলা ভবন রয়েছে। নিচতলায় একটি আলমারির দোকান এবং ভবনের অন্য অংশে বসতঘর ভাড়া দেওয়া হয়।

মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, কিছুদিন ধরে আরমান উদ্দিনের নেতৃত্বে তাঁর ভাই আরিফ উদ্দিন আমির হোসেনের কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে ঘর ও মার্কেট দখল করে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।

আরও অভিযোগ করা হয়েছে, ভিন্ন এলাকা থেকে এসে ওই এলাকায় বসবাস করার কারণ দেখিয়েও তাঁর কাছে টাকা দাবি করা হয়।

বাদীর ভাষ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল দিবাগত রাত আনুমানিক দুইটার দিকে আরমান উদ্দিন তাঁকে মোবাইল ফোনে আবারও টাকা দিতে বলেন। আমির হোসেন টাকা দিতে পারবেন না জানালে তাঁকে ঘর দখলের হুমকি দেওয়া হয়।

এরপর ওই রাতেই আজিজ কমপ্লেক্সের নিচতলায় তাঁর ভাড়াটিয়া ওবায়দুলের আলমারির দোকানের তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার অভিযোগ করা হয়েছে।

মামলার আরজিতে দাবি করা হয়েছে, দোকান থেকে ১২টি তিন-পার্টের স্টিলের আলমারি, তিনটি দুই-পার্টের আলমারি, দুটি দুই দরজার আলমারি, ছয়টি চার দরজার ওয়াল শোকেস, দুটি দুই পাশের দরজার ওয়াল শোকেস, আলমারি শিটসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে যাওয়া হয়। এসবের আনুমানিক মূল্য ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

এর সঙ্গে দোকানের একটি ক্যাশ টেবিলও নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বাদীর দাবি, ওই টেবিলের ভেতরে নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা ছিল। পরে দোকানে নতুন তালা লাগিয়ে দেওয়া হয় বলে আরজিতে বলা হয়েছে।

ঘটনার সময় আমির হোসেন বিদেশে ছিলেন।

দেশে ফিরে বৈঠক, আবারও চাঁদা দাবির অভিযোগ

দেশে ফিরে বিষয়টি নিয়ে অভিযুক্তদের সঙ্গে বৈঠক করেন আমির হোসেন। মামলার আরজিতে বলা হয়েছে, গত ২০ আগস্ট সকাল আনুমানিক নয়টার দিকে বৈঠকের কথা বলে আসামিরা তাঁর ভবনে যান।

সেখানে আরিফ উদ্দিন আবারও ২০ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ বাদীর। টাকা না দিলে দোকান ও ঘরের দখল ছেড়ে দেওয়া হবে না—এমন কথাও বলা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।

বাদীর আরও অভিযোগ, আরমান উদ্দিন মোবাইল ফোনে তাঁকে বলেন, ওই এলাকায় বসবাস করতে হলে তাঁদের কথামতো চলতে হবে।

আর আদিলের বিরুদ্ধে করা হয়েছে আরও গুরুতর অভিযোগ-চাঁদা না দিলে হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলার হুমকি দেওয়ার।

মামলার আরজি অনুযায়ী, একপর্যায়ে আরিফ উদ্দিন, শওকত আলী, আরমান উদ্দিন ও আদিল তাঁকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন।

এরপর লোহাগাড়া থানায় গিয়ে অভিযোগ করেন আমির হোসেন। তাঁর দাবি, পুলিশ ঘটনাস্থলেও গিয়েছিল, কিন্তু মামলা গ্রহণ না করায় শেষ পর্যন্ত আদালতের আশ্রয় নিতে হয়েছে তাঁকে।

বাদীর আইনজীবী অ্যাডভোকেট আদনান কবির জিলান বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে সাতকানিয়া সার্কেলের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

সাতকানিয়া অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী মো. আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, মামলার নথিপত্র এখনো তাঁদের হাতে পৌঁছেনি। হাতে এলে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

অভিযুক্ত আরমান উদ্দিন বর্তমানে দেশের বাইরে থাকায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরমান উদ্দিনকে ঘিরে বর্তমান অভিযোগের গুরুত্ব বাড়িয়েছে গত কয়েক মাসের আরও কিছু ঘটনা।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহজাহান চৌধুরীর সঙ্গে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সমন্বয়ের কাজে আরমান উদ্দিন সক্রিয় ছিলেন বলে এলাকায় আলোচনা রয়েছে।

এরপর লোহাগাড়ার ব্যবসায়ী খোরশেদ আলমকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে আটকে মারধর এবং মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করার অভিযোগও তাঁর বিরুদ্ধে ওঠে। বালুমহাল, উন্নয়নকাজের ঠিকাদারি নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগও সামনে আসে।

এমনকি এলাকায় তাঁকে ‘আরমান এমপি’ নামে ডাকার কথাও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

একজন সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত সহকারী সাধারণত প্রশাসনিক যোগাযোগ ও দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করেন। কিন্তু স্থানীয় একাধিক জামায়াত নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, শাহজাহান চৌধুরীর ক্ষেত্রে আরমান উদ্দিনের ভূমিকা এর চেয়ে অনেক বেশি দৃশ্যমান।

দলীয় সূত্রের দাবি, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগের ক্ষেত্রে আরমান উদ্দিন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

একাধিক নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, জামায়াত নেতাদের সাধারণত এভাবে ব্যক্তিগত পিএস সঙ্গে রাখার প্রচলন নেই। কিন্তু শাহজাহান চৌধুরী নিয়মিত আরমানকে সঙ্গে রাখেন। এমনকি দলীয় গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেও তাঁর উপস্থিতি নিয়ে অনেক নেতা অস্বস্তিতে পড়েছেন।

এই পরিস্থিতিতেই স্থানীয় পর্যায়ে তাঁর প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

আরমান উদ্দিনকে ঘিরে বিতর্কের আরেকটি বড় অধ্যায় টংকাবতী খাল। সরকারি নথির তথ্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা শাহাদাত হোসেন নিজের অর্থে টংকাবতী খাল খননের অনুমতি চেয়ে সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর কাছে আবেদন করেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ১৩ মে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসকের কাছে খাল খননের অনুমতির অনুরোধ জানিয়ে ডিও লেটার দেন শাহজাহান চৌধুরী।

চিঠিটি লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছায়। বর্তমানে লোহাগাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর দপ্তরে আবেদনটি তদন্তাধীন রয়েছে।

শাহজাহান চৌধুরী অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, তাঁর নাম ব্যবহার করে ইজারার অনুমোদন দেওয়ার প্রশ্নই ওঠে না। বরং বর্ষায় রাস্তার দুরবস্থার কারণে মানুষের চলাচল সহজ করতে তিনি কাজ করছেন এবং সরকারি ইজারাও বন্ধ রেখেছেন।

কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ ভিন্ন। তাঁদের দাবি, আরমান উদ্দিনের সহযোগিতায় টংকাবতী খালের বিভিন্ন স্থান থেকে বালু তুলে স্তূপ করা হয়েছে। খাল খননের আড়ালে শাহাদাত-আরমানের নেতৃত্বে বালু ব্যবসা চালানোর অভিযোগও রয়েছে।

শাহাদাত হোসেনের বক্তব্য, বালু না তোলার কারণেই রাস্তা ভেঙে যাচ্ছে এবং বালু না তুললে এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এই বিরোধের প্রকৃত সত্য নির্ধারণে সরকারি নথি, অনুমোদন, বালু উত্তোলনের স্থান, পরিমাণ এবং অর্থনৈতিক লেনদেন-সবই খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

অভিযোগ ও মামলার বিষয়ে শাহজাহান চৌধুরীর পিএস আরমান সুপ্রভাত চট্টগ্রামকে জানিয়েছে, আমার বিরুদ্ধে আনীত জমি দখল, খালের বালু লুট কিংবা চাঁদা দাবির প্রতিটি অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, কাল্পনিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

অনেকেই ঘটনার সত্যতা যাচাই না করে এবং আমাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের বিন্দুমাত্র সুযোগ না দিয়ে একপেশেভাবে সংবাদ প্রকাশ করেছেন-যা অপসাংবাদিকতার শামিল।

তিনি বলেন, গত ২০ আগস্ট নাকি আমি বাদীর ভবনে গিয়ে বৈঠক করেছি ও ফোনে হুমকি দিয়েছি। অথচ সত্য হলো, গত ৭ আগস্ট থেকেই আমি পবিত্র ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে অবস্থান করছি। প্রবাসে অবস্থানকালে আমি কীভাবে দেশে গিয়ে বৈঠক করলাম-এতেই প্রমাণিত হয় এই অভিযোগ কতটা বানোয়াট।

তিনি আরও বলেন, ৩ এপ্রিল বা ২০ আগস্ট মোবাইলে চাঁদা দাবি ও হুমকির যে দাবি করা হয়েছে, তার সপক্ষে কোনো কল রেকর্ড বা প্রমাণ থাকলে তা জাতির সামনে প্রকাশ করার জন্য খোলা চ্যালেঞ্জ জানান।

২০০৬-২০০৭ সালের কেনা একটি ভবনের বিষয় নিয়ে ‘শাহজাহান চৌধুরীর পিএস’ নাম ব্যবহার করে অপপ্রচারের চেষ্টা করা হচ্ছে।

তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন অভিযোগকারীর সাথে তার জীবনে কখনো দেখা বা পরিচয় হয়নি। তিনি চরিত্র হনন ও মিথ্যা অপপ্রচার বন্ধের আহ্বান জানিয়ে বলেন, সম্মান ও অধিকার রক্ষায় প্রয়োজনে আদালতের শরণাপন্ন হব।

ডিও লেটারের বিষয়ে তিনি বলেন, ডিও লেটার তো এম পি দিবে, ডিও লেটার এমপি ছাড়া কেউ কি দিতে পারে প্রশ্ন রাখেন, তবে তিনি বলেছেন অভিযোগ যে কেউ করতে পারে এটা স্বাভাবিক, এটা প্রমাণিত হতে হবে, প্রমাণ হলে তখন বলতে পারব কি অভিযোগ।

ফাঁস অডিও

বালু উত্তোলন নিয়ে গত ১৯ জুনের একটি অডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। অডিওটির কথোপকথনে রয়েছেন আরমান উদ্দিন এবং যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত মো. তারেকুল হক বলে জানা গেছে। তারেকুল হকের বিরুদ্ধেও অবৈধ বালু ব্যবসায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

ফাঁস হওয়া অডিওতে তারেকুল হককে বলতে শোনা যায়-লোহাগাড়ায় এমপি কেন আসবে? আসলে পায়ে গুলি করে জিজ্ঞেস করব, কেন এসেছে। এখানে আরমান সাহেবের কথাই চলবে। লোহাগাড়ার এমপি আরমান।

তবে এটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াত প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়।

গত ২২ জুন রাতে দেওয়া বিবৃতিতে দক্ষিণ জেলা জামায়াতের মিডিয়া ও প্রচার সম্পাদক আবু নাছের বলেন, শাহজাহান চৌধুরীকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ঘটনাগুলো নিয়ে তাঁরা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

তবে ওই বিবৃতিতে আরমান উদ্দিনকে নিয়ে আলাদা কোনো বক্তব্য ছিল না।

শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে আরমান উদ্দিনের ঘনিষ্ঠতার অভিযোগ নতুন নয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহাদাতের সঙ্গে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মো. নেজাম উদ্দিন নদভীসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ছবি রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর শাহাদাত ও আরমান পুরোনো বন্ধুত্বের সূত্রে ব্যবসায়িক অংশীদার হয়েছেন-এমন অভিযোগও রয়েছে।

এরই মধ্যে শাহজান চৌধুরীর ডিও লেটারকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে-একজন সংসদ সদস্যের সুপারিশ কীভাবে একজন আবেদনকারীর ব্যক্তিগত বা ব্যবসায়িক স্বার্থে ব্যবহৃত হচ্ছে কি না।

শাহজাহান চৌধুরী এ অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাঁর বক্তব্য, অনিয়মের সঙ্গে জড়িত কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

আরমান উদ্দিনকে ঘিরে অভিযোগের সঙ্গে শাহজাহান চৌধুরীর নামও বিভিন্নভাবে উঠে আসায় জামায়াতের ভেতরেও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ২৮ মে গণতান্ত্রিক ছাত্র জোটের মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এক নারীকে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে প্রকাশ্যে লাথি মারার ১৫ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

ওই ঘটনায় জামায়াতের কর্মী আকাশ চৌধুরীকে ২৯ মে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। পরে ১ জুন নগরের লালদীঘি এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিন পাওয়ার পরও তাঁকে ঘিরে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়।

গত জানুয়ারিতে সাতকানিয়া পৌরসভার জামায়াত-সমর্থক আবদুল মোমেন ও আকাশ চৌধুরীর একটি অডিও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে ইটভাটার মাটির ব্যবসা নিয়ে কথোপকথনের একপর্যায়ে আকাশ চৌধুরী বলেন, পিএস আরমানও তাঁর সঙ্গে ওই ব্যবসায় রয়েছেন বলে দাবি করা হয়। সূত্র এপত্রিকা

এই ঘটনাগুলোর পর আরমান উদ্দিন ও শাহজাহান চৌধুরীর বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগ নিয়ে দলীয় পর্যায়ে তদন্ত শুরু হয়। এরপর গত ১৩ জুন শাহজাহান চৌধুরীকে মহানগর আমিরের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়।

জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এ বিষয়ে দক্ষিণ জেলা জামায়াত লিখিত প্রতিক্রিয়া দিয়েছে এবং তাঁরা সব বিষয়ে সতর্ক রয়েছেন।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা জামায়াতের আমির মো. আনোয়ারুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

একজন প্রবাসীর অভিযোগ-২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, টাকা না দিলে বসতঘর ও মার্কেট দখলের হুমকি, দোকানের তালা ভেঙে প্রায় ১১ লাখ ৫৮ হাজার ৬৫৯ টাকার মালামাল এবং নগদ এক লাখ ২০ হাজার টাকা নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ, পরে আবারও চাঁদা দাবি ও মারধর।

অন্যদিকে রয়েছে বালু উত্তোলন নিয়ে অভিযোগ, ডিও লেটার, ছড়িয়ে পড়া অডিও এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রভাব বিস্তারের নানা দাবি।

এসবের কোনটি সত্য, কোনটি অতিরঞ্জিত, আর কোন অভিযোগের পেছনে বাস্তব ঘটনা রয়েছে-তা এখন আর রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার বিষয় নয়। প্রয়োজন নথিভিত্তিক, নিরপেক্ষ ও দৃশ্যমান তদন্ত