অর্পিতার জন্মমাসেই শেষ হলো জীবন, সঙ্গে নিভে গেল অনাগত সন্তানের আলো

প্রকাশিত: ১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১৭:৩৮

সন্তানকে পৃথিবীর আলো দেখানোর অপেক্ষায় ছিলেন ৩৫ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা অর্পিতা দাশ (২৬)। আর মাত্র কয়েকটি সপ্তাহ পরই ঘরে আসার কথা ছিল তাঁর সন্তান। কিন্তু সেই অপেক্ষার গল্প আর পূর্ণ হলো না।

ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মারা যান তিনি। মায়ের মৃত্যুর পরপরই গর্ভ থেকে প্রসব হয় মৃত পুত্র সন্তানের।

অর্পিতার মৃত্যুতে একটি পরিবারের স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে গভীর শোকে। যে সন্তানকে ঘিরে ছিল নতুন দিনের অপেক্ষা, পৃথিবীতে আসার আগেই সেই সন্তানও হারাল মায়ের সান্নিধ্য।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, অর্পিতা দাশ চট্টগ্রাম কাস্টমসের কর্মী মিঠুন চৌধুরীর স্ত্রী। গত বছরের ১৬ অক্টোবর বিয়ে করেছিলেন তাঁরা।

এরপর ধীরে ধীরে সংসারে আসছিল নতুন অতিথির আগমনের প্রস্তুতি। চিকিৎসকদের হিসাব অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর ছিল অর্পিতার সন্তান জন্মদানের সম্ভাব্য সময়।

কিন্তু সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহের শেষদিকে হঠাৎ জ্বরে আক্রান্ত হন অর্পিতা। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহে জ্বর অনুভব করার পর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হলে ৬ সেপ্টেম্বর তাঁর ডেঙ্গু শনাক্ত হয়।

শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে ৭ সেপ্টেম্বর মা ও শিশু জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয় অর্পিতাকে। অবস্থার আরও অবনতি হলে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

চমেক হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, অর্পিতা ডেঙ্গু এক্সপ্যান্ডেড সিন্ড্রোমে ভুগছিলেন। সংকটাপন্ন অবস্থায় আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত চিকিৎসকদের সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে শুক্রবার দুপুরে না-ফেরার দেশে চলে যান ২৬ বছর বয়সী এই তরুণী।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে এরপর। মায়ের মৃত্যুর পরপরই প্রসব হয় তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের। তবে সেই সন্তানও ছিল মৃত।

অর্পিতার পরিবারে তখন একই সঙ্গে দুটি শোক-একদিকে প্রিয়জন হারানোর বেদনা, অন্যদিকে পৃথিবীর আলো দেখার আগেই সন্তান হারানোর অসহনীয় কষ্ট।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার সন্তান জন্মদানের এক মাস পর ডেঙ্গুতে মারা যান রাশেদা বেগম রিমা নামে আরেক নারী। পরপর এমন ঘটনায় চট্টগ্রামে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা আবারও সামনে এসেছে।

অর্পিতার জন্য সেপ্টেম্বর ছিল ছিল জন্মমাসও। ২৪ সেপ্টেম্বর ছিল তাঁর ২৬তম জন্মদিন। যে মাসে নতুন করে জীবন উদযাপনের কথা ছিল, সেই জন্মমাসেই পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন তিনি।

১২ অক্টোবর সন্তানের আগমনের সম্ভাব্য তারিখকে সামনে রেখে যে সংসারে নতুন স্বপ্ন বোনা হচ্ছিল, ১১ সেপ্টেম্বরের একটি দুপুরেই সেখানে নেমে এলো অপ্রত্যাশিত শোক।

মা হলেন না অর্পিতা, পৃথিবীর আলোও দেখা হলো না তাঁর অনাগত সন্তানের।

ডেঙ্গুতে একসঙ্গে মা ও সন্তানের এই মর্মান্তিক পরিণতি শোকস্তব্ধ করেছে স্বজনদের।