back to top

৯৬ বছরের অপেক্ষার অবসান! অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে নকআউটে যুক্তরাষ্ট্র

প্রকাশিত: ২০ জুন, ২০২৬ ০৬:৩৪

১৯৩০ সালের উদ্বোধনী বিশ্বকাপের পর প্রায় এক শতাব্দীর অপেক্ষা। অবশেষে সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটাল যুক্তরাষ্ট্র

ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে শুধু জয়ই নয়, নিশ্চিত করেছে নকআউট পর্বের টিকিটও।

সিয়াটলের গ্যালারিভর্তি দর্শকের সামনে মাওরিসিও পচেত্তিনোর দল দেখিয়েছে আত্মবিশ্বাস, নিয়ন্ত্রণ আর জয়ের ক্ষুধা।

‘ডি’ গ্রুপের ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে স্বাগতিকরা। চোটের কারণে তারকা উইঙ্গার ক্রিস্টিয়ান পুলিসিককে না পেলেও মাঠে তার অভাব খুব একটা বোঝা যায়নি।

দলগত ফুটবলে অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের কাছেই রাখে যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাচের ১১তম মিনিটেই ভাগ্যের সহায়তায় এগিয়ে যায় তারা। বাঁ দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে ফোলারান বালোগানের বাড়ানো বল ছয় গজ বক্সে ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়ার ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস।

আত্মঘাতী সেই গোলেই লিড পেয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। চলতি বিশ্বকাপে এটি ছিল সপ্তম আত্মঘাতী গোল। এর চেয়ে বেশি আত্মঘাতী গোল দেখা গিয়েছিল কেবল ২০১৮ সালের আসরে, যেখানে সংখ্যা ছিল ১২।

গোলের পরও আক্রমণের ধার কমায়নি স্বাগতিকরা। ৬২ শতাংশ বলের দখল রেখে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ অব্যাহত রাখে তারা।

তবে প্রথমার্ধের শেষ দিকে আসে ম্যাচের সবচেয়ে নাটকীয় মুহূর্ত। ৪৩তম মিনিটে সের্জিনো দেস্তের শট অস্ট্রেলিয়ার এক খেলোয়াড়ের পায়ে লেগে ওপরে উঠে যায়। সুযোগ বুঝে অ্যালেক্স ফ্রিম্যান হেডে বল জালে পাঠান।

প্রথমে অফসাইডের বাঁশি বাজান রেফারি। মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের উদযাপন। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে ভিএআর পর্যালোচনার পর গোলের সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন ম্যাচ কর্মকর্তা।

তখন যেন আনন্দের বিস্ফোরণ ঘটে গ্যালারিতে। ফ্রিম্যানের গোলে ব্যবধান দাঁড়ায় ২-০।

দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণাত্মক ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ৫১তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে একক প্রচেষ্টায় এগিয়ে গিয়ে গোলের সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিলেন বালোগান।

তবে শট নিতে সামান্য দেরি করায় তার প্রচেষ্টা আটকে দেন অস্ট্রেলিয়ার এক ডিফেন্ডার।

অন্যদিকে ম্যাচে ফিরতে মরিয়া অস্ট্রেলিয়া ৬২তম মিনিটে ভালো সুযোগ পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি। বক্সে ফাঁকায় বল পেয়েও ক্রিস্টিয়ান ভলপাটো লক্ষ্যভ্রষ্ট হন।

কিছুক্ষণ পর কনর মেটকাল্ফের দূরপাল্লার শটও খুব একটা পরীক্ষায় ফেলতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্রের গোলরক্ষককে।

শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ২-০ ব্যবধানের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে স্বাগতিকরা। পরিসংখ্যানেও ছিল তাদের স্পষ্ট আধিপত্য।

১০টি শটের মধ্যে দুটি লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয় যুক্তরাষ্ট্র, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার পাঁচ শটের মাত্র দুটি ছিল অন টার্গেটে।

ম্যাচের যোগ করা সময়ে দেখা যায় এক বিরল দৃশ্য। ক্র্যাম্পে আক্রান্ত হয়ে মাঠে লুটিয়ে পড়েন রেফারি। সঙ্গে সঙ্গে তার কাছে ছুটে যান লাইন্সম্যান, দুই দলের খেলোয়াড় এবং চতুর্থ রেফারি।

প্রয়োজনীয় সেবা নেওয়ার পর আবার উঠে দাঁড়িয়ে ম্যাচ শেষ করেন তিনি। তবে ততক্ষণে নকআউট নিশ্চিত করার আনন্দে মেতে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র।

এই জয়ে দুই ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে ‘ডি’ গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে পচেত্তিনোর দল।

অন্যদিকে প্রথম ম্যাচ জয়ের পর এবার হারের স্বাদ পাওয়া অস্ট্রেলিয়ার সংগ্রহ ৩ পয়েন্ট। দিনের অন্য ম্যাচে মুখোমুখি হবে প্রথম রাউন্ডে হেরে যাওয়া তুরস্ক ও প্যারাগুয়ে।

সবচেয়ে বড় কথা, ১৯৩০ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তি গড়ল যুক্তরাষ্ট্র।

প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারানোর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষেও জয় তুলে নিয়ে নতুন ইতিহাস লিখেছে তারা।

ঘরের মাঠে স্বপ্নের যাত্রা আরও কতদূর যায়, এখন সেটিই দেখার অপেক্ষা।