ম্যাচের শুরুতে আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেও কাঙ্ক্ষিত গোলের দেখা পায়নি পানামা। একের পর এক আক্রমণে ক্রোয়েশিয়ার রক্ষণভাগকে চাপে রাখলেও শেষ পর্যন্ত হতাশাই সঙ্গী হয়েছে তাদের।
আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে আন্তে বুদিমিরের করা একমাত্র গোলেই গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নিয়েছে ক্রোয়েশিয়া।
বুধবার সকালে টরন্টো স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে পানামাকে ১-০ গোলে হারিয়ে চলতি আসরে প্রথম জয়ের স্বাদ পেয়েছে ২০১৮ বিশ্বকাপের রানার্সআপরা।
এই জয়ে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, নকআউট পর্বে ওঠার স্বপ্নও আরও জোরালোভাবে বাঁচিয়ে রাখল জ্লাতকো দালিচের দল।
দুই ম্যাচ শেষে এক জয় ও এক হার নিয়ে ৩ পয়েন্ট অর্জন করেছে ক্রোয়েশিয়া। ‘এল’ গ্রুপে তারা এখন তৃতীয় স্থানে।
সমান ৪ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ঘানা, আর শীর্ষে ইংল্যান্ড। অন্যদিকে টানা দুই পরাজয়ে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হয়েছে পানামার।
এই টুর্নামেন্টে প্রতি গ্রুপের শীর্ষ দুই দলের পাশাপাশি তৃতীয় হওয়া সেরা আটটি দলও নকআউট পর্বে জায়গা পাবে। ফলে শেষ ম্যাচের আগে নিজেদের ভাগ্য নিজেদের হাতেই রাখল ক্রোয়েশিয়া।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৪-২ গোলের হারে টুর্নামেন্ট শুরু হয়েছিল ক্রোয়াটদের।
অন্যদিকে ঘানার কাছে নাটকীয়ভাবে ৯৫ মিনিটে গোল হজম করে পরাজিত হয়েছিল পানামা। তাই দুই দলের কাছেই ম্যাচটি ছিল ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই।
এদিন ক্রোয়েশিয়ার জার্সিতে ২০০তম ম্যাচ খেলে নতুন ইতিহাস গড়েন ৪০ বছর বয়সী অধিনায়ক লুকা মদ্রিচ। অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারের জন্য দিনটি আরও স্মরণীয় হয়ে ওঠে দলের জয়ে।
যদিও ম্যাচের শুরুটা ছিল পানামার দখলে। বল দখলে পিছিয়ে থেকেও আক্রমণভাগে বেশি কার্যকর ছিল তারা। ২৩তম মিনিটে গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেন আমির মুরিয়ো।
তার নিখুঁত ক্রসে হোসে লুইস রদ্রিগেসের শক্তিশালী হেড ক্রোয়েশিয়ার গোলরক্ষক দমিনিক লিভাকোভিচ আঙুলের ছোঁয়ায় ক্রসবারে লাগিয়ে দেন। অল্পের জন্য বেঁচে যায় ক্রোয়েশিয়া।
প্রথমার্ধের শেষদিকে ক্রোয়েশিয়াও গোলের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল। যোগ করা সময়ে প্রায় ২৫ গজ দূর থেকে মার্তিন বাতুরিনার নিচু শট দুর্দান্ত দক্ষতায় প্রতিহত করেন পানামার গোলরক্ষক। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।
বিরতির পরই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন কোচ জ্লাতকো দালিচ। পেটার মুসার পরিবর্তে আন্তে বুদিমিরকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্তই হয়ে ওঠে ম্যাচের টার্নিং পয়েন্ট।
৫৪তম মিনিটে ইয়োসিপ স্তানিসিচের ডান প্রান্ত থেকে ভেসে আসা ক্রসে দূরের পোস্টের সামনে চমৎকারভাবে পা ছুঁইয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন বুদিমির। সেই গোলই শেষ পর্যন্ত ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।
গোল হজমের পরও হাল ছাড়েনি পানামা। ৬৮তম মিনিটে আমির মুরিয়োর টানা দুটি শট রুখে দিয়ে দলকে বাঁচান লিভাকোভিচ।
এরপর কর্নার থেকে কার্লোস হার্ভির হেডও এক হাতে ক্রসবারের ওপর দিয়ে পাঠিয়ে দেন তিনি। গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে তার অসাধারণ গোলকিপিংই ক্রোয়েশিয়ার জয় নিশ্চিত করতে বড় ভূমিকা রাখে।
শেষদিকে দুই দলই কিছু সুযোগ তৈরি করলেও আর কোনো গোল হয়নি। ফলে ১-০ গোলের ব্যবধানে মাঠ ছাড়ে ক্রোয়েশিয়া।
এখন গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচের দিকে তাকিয়ে আছে ক্রোয়াটরা। আগামী শনিবার বাংলাদেশ সময় রাতে ঘানার মুখোমুখি হবে তারা। একই সময়ে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নিজেদের শেষ ম্যাচ খেলবে পানামা।
মদ্রিচের ২০০তম ম্যাচ, লিভাকোভিচের দৃঢ়তা এবং বুদিমিরের সোনালি গোল—সব মিলিয়ে টরন্টোর সকালটি হয়ে থাকল ক্রোয়েশিয়ার জন্য স্বস্তি, আত্মবিশ্বাস আর নতুন আশার গল্প।

