দীর্ঘদিন পর উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হলো বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএসবিআরএ) নির্বাচন। ভোটের মধ্য দিয়ে সংগঠনটি পেল নতুন নেতৃত্ব।
সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন পিএইচপি ফ্যামিলির ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী।
সিনিয়র সহসভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। দুটি পদেই তারা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।
তবে সভাপতি পদে প্রার্থী ছিলেন আমজাদ হোসেন। ঋণ খেলাপির দায়ে নির্বাচন পরিচালনা বোর্ড তার প্রার্থীতা বাতিল করে।
সহসভাপতি পদে নির্বাচিত হয়েছেন মো. নুর উদ্দিন ও গাজী মোকাররম আলী চৌধুরী।
আর নির্বাহী সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মো. জাহিদুল হক, মো. তসলিম উদ্দিন, এসএম নুরুন্নবী, মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ, উবায়দা আসাদী, হোসাইনুল আরেফিন এবং একেএম সাইফুল্লাহ সাইদ।
শনিবার নগরীর রেডিসন ব্লু হোটেলে সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের ৮৪ জন ভোটারের মধ্যে ৭১ জন ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোট শেষে বিকেলে ফলাফল ঘোষণা করেন বিএসবিআরএ নির্বাচন পরিচালনা বোর্ডের চেয়ারম্যান আফতাব উদ্দিন চৌধুরী।
তিনি জানান, সভাপতি ও সিনিয়র সহসভাপতি পদে একক প্রার্থী থাকায় ওই দুটি পদে ভোটের প্রয়োজন হয়নি। বাকি দুটি সহসভাপতি পদে তিনজন এবং সাতটি নির্বাহী সদস্য পদে নয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন।
ভোটদান শেষে পিএইচপি ফ্যামিলির চেয়ারম্যান সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন পর সংগঠনটির নির্বাচন হওয়ায় সদস্যদের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ভোটের মাধ্যমে প্রকৃত নেতৃত্ব নির্বাচিত হবে বলেই তাদের বিশ্বাস।
তিনি বলেন, “আমরা যাতে সবার সঙ্গে সমন্বয় রেখে সুন্দরভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারি, নির্বাচিত নেতৃবৃন্দ সেই পরিবেশ নিশ্চিত করবেন।”
শিপ ব্রেকিং শিল্পের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশে বেসিক স্টিল উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রধান কাঁচামাল বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। দেশের লোহার বড় একটি অংশের জোগান আসে শিপ ব্রেকিং শিল্প থেকে। ফলে জাতীয় অর্থনীতি ও নির্মাণশিল্পে এ খাতের গুরুত্ব অনেক।
নতুন নেতৃত্বের হাত ধরে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ শিল্পের সুনাম আরও বাড়বে এবং দেশের লৌহজাত পণ্যের চাহিদা তুলনামূলক সুলভ মূল্যে পূরণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড এসএন করপোরেশনের মালিক এবং ইস্টার্ন ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান শওকত আলী চৌধুরী বলেন, শিপ ব্রেকিং খাতের উন্নয়ন নিয়ে সরকারের কাছে একটি সমন্বিত পরিকল্পনা উপস্থাপন করা হবে। একই সঙ্গে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কিছু দাবিও জানানো হবে।
তিনি বলেন, অতীতে অধিকাংশ শিপইয়ার্ড আধুনিক মানসম্পন্ন ছিল না। তবে বর্তমানে পরিবেশবান্ধব ও আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করে ইয়ার্ড উন্নয়নের কাজ চলছে। এরই মধ্যে অনেক শিপইয়ার্ড গ্রিন শিপইয়ার্ডে রূপান্তরিত হয়েছে।
নবনির্বাচিত সভাপতি মোহাম্মদ মহসিন চৌধুরী তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, শিপ ব্রেকিং শিল্পের উন্নয়নে তিনি সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করতে চান।
তার ভাষায়, “এ শিল্পের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে সরকারের নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন। আমাদের পক্ষ থেকেও সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় দাবি তুলে ধরা হবে।”
নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এ শিল্পে সমন্বিত উদ্যোগ, পরিবেশবান্ধব রূপান্তর এবং আন্তর্জাতিক মান প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান আকাঙ্ক্ষা।

