back to top

বিয়ের আশ্বাসে প্রেম, শেষে ধর্ষণ: ছয় বছর পর রাজীবের যাবজ্জীবন

প্রকাশিত: ০৬ জুলাই, ২০২৬ ১২:৫৫

বিয়ের আশ্বাস দিয়ে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন। সেই বিশ্বাসের সুযোগ নিয়েই একদিন তরুণীর বাসায় গিয়ে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে।

ঘটনার পর বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে অভিযুক্তকে ওয়াশরুমে আটকে প্রতিবেশীদের খবর দেন ভুক্তভোগী।

দীর্ঘ ছয় বছরের বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সেই মামলায় মো. রাজীব (২৮) নামে এক যুবককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৬ জুলাই) চট্টগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৭-এর বিচারক এস এম জিয়াউর রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।

রায়ের পাশাপাশি আদালত রাজীবকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

আদালতের বেঞ্চ সহকারী কফিল উদ্দীন জানান, মামলায় পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্য, চিকিৎসা-সংক্রান্ত তথ্য এবং উপস্থাপিত অন্যান্য প্রমাণে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ সাজা দেন।

রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে সাজা পরোয়ানামূলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি অনুযায়ী, ভুক্তভোগী তরুণী তার মায়ের সঙ্গে চট্টগ্রাম নগরের পতেঙ্গা থানার কাটঘর হিন্দুপাড়া এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। দীর্ঘদিন ধরে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে রাজীব তার সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

২০২০ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভুক্তভোগীর মা কর্মস্থলে থাকার সুযোগে রাজীব ওই বাসায় যান।

একপর্যায়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে তরুণীর মুখ চেপে ধরে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।

ঘটনার পর রাজীব ওয়াশরুমে গেলে ভুক্তভোগী বাইরে থেকে দরজা আটকে দেন এবং প্রতিবেশীদের খবর দেন। পরে বাড়ির মালিক ও স্থানীয় লোকজন এসে তাকে ওয়াশরুম থেকে বের করেন।

এরপর ভুক্তভোগীকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনায় ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ভুক্তভোগীর মা পতেঙ্গা থানায় মামলা করেন।

তদন্ত শেষে একই বছরের ১৩ ডিসেম্বর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক কার্যক্রম শেষে ছয় বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা হলো।