ইউসিবির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: সাবেক মন্ত্রীসহ ৩৬ আসামির মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণে গতি

প্রকাশিত: ১৩ জুলাই, ২০২৬ ২১:২২

ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় সোমবার (১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালতে আরও চারজন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়েছে।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন জানান, দুদকের পক্ষ থেকে চারজন সাক্ষীকে আদালতে উপস্থাপন করা হয়।

তাঁদের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে এ মামলায় মোট ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হলো। এর মধ্য দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়া আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল।

আসামিদের তালিকায় রয়েছেন সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (৫৬), তাঁর স্ত্রী ও ইউসিবিএল ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান রুকমীলা জামান (৪৬), সাবেক পরিচালক আসিফুজ্জামান চৌধুরী (৪৬) এবং রোকসানা জামান চৌধুরী (৫৬)।

এ ছাড়া সাবেক পরিচালকদের মধ্যে রয়েছেন বশির আহমেদ (৫৫), আফরোজা জামান (৪৮), সৈয়দ কামরুজ্জামান (৬১), মো. শাহ আলম (৬২), মো. জোনাইদ শফিক (৬৪), অপরূপ চৌধুরী (৬৫), তৌহিদ সিপার রফিকুজ্জামান (৬৬), ইউনুছ আহমদ (৭৯), হাজী আবু কালাম (৭৯), নুরুল ইসলাম চৌধুরী (৬২), সাবেক চেয়ারম্যান এম এ সবুর (৭৭) এবং সাবেক ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক আরিফ কাদরী (৬৪)।

ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তাদের মধ্যে আসামি করা হয়েছে মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ (৫১), আবদুল হামিদ চৌধুরী (৫০), আবদুর রউফ চৌধুরী, জিয়াউল করিম খান (৪৬), মীর মেসবাহ উদ্দীন হোসাইন (৬২) এবং বজল আহমেদ বাবুলকে (৫৬)।

মামলায় আরামিট গ্রুপের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও আসামি করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মোহাম্মদ ফরমান উল্লাহ চৌধুরী (৫১), মোহাম্মদ মিছবাহুল আলম (৫০), আব্দুল আজিজ (৩৯), মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম (৫৪), মোহাম্মদ হোছাইন চৌধুরী (৪৮), ইয়াছিনুর রহমান (৪৩), ইউছুফ চৌধুরী (৪৫), সাইফুল ইসলাম (৪৫), এজিএম উৎপল পাল (৫১), প্রদীপ কুমার বিশ্বাস (৫১), মো. জাহিদ (৪৫), মো. শহীদ (৪৯), মো. সুমন (৩৯), ইলিয়াস তালুকদার (৫০) এবং ওসমান তালুকদার (৪৮)।

এর আগে গত ৫ জানুয়ারি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, দুদকের প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মশিউর রহমান চট্টগ্রাম মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। সেই অভিযোগপত্রের ভিত্তিতেই এখন সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এগোচ্ছে বিচারিক কার্যক্রম।

এ মামলার পরবর্তী ধাপগুলো এখন নির্ভর করবে অবশিষ্ট সাক্ষ্যগ্রহণ, নথিপত্র উপস্থাপন এবং আদালতে উভয় পক্ষের আইনি যুক্তিতর্কের ওপর।

বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায়ই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলো কতটা প্রমাণিত হলো। ততদিন পর্যন্ত মামলার সব আসামিই আইনগতভাবে অভিযোগপ্রাপ্ত, দোষী সাব্যস্ত নন।