লিওনেল মেসির প্রশংসায় লেখা হয়ে গেছে কত শত, সহস্র, লক্ষ বা কোটি শব্দ। তাঁর পায়ের জাদুতে বিমোহিত হয়ে বলা হয়ে গেছে কত লক্ষ-কোটি বাক্য। তবু প্রতিনিয়ত যেন নতুন করেই নিজেকে চেনাচ্ছেন মেসি।
যাঁর জাদুতে নিয়মিতই বুঁদ হয়ে থাকে ফুটবল বিশ্ব। শুধু ভক্ত-সমর্থকরাই নন, মেসির মায়াবী বিভ্রমে বশীভূত হন প্রতিপক্ষ ফুটবলাররাও।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে মেসির ইন্দ্রজালে আটকা পড়ে বিদায় নেওয়ার পর হ্যারি কেইন আরও একবার অকপটে স্বীকার করলেন-আর্জেন্টাইন জাদুকরই সর্বকালের সেরা ফুটবলার।
আটলান্টায় বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালের মহারণে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শুধু গোলটাই পাননি মেসি।
এর বাইরে একজন ফুটবলারের পক্ষে মাঠে যা কিছু করা সম্ভব, তার সবই করেছেন ৩৯ বছর বয়সী এই খুদে জাদুকর।
ম্যাচের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই করে তাঁর দেওয়া দুটি অ্যাসিস্ট থেকেই গোল করে আর্জেন্টিনার আরেকটি রূপকথার প্রত্যাবর্তনের গল্প রচনা করেছেন এনজো ফার্নান্দেজ ও লাউতারো মার্তিনেজ।
ম্যাচ শেষে তাই হেরে গেলেও মেসির শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বিন্দুমাত্র কার্পণ্য করেননি ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন।
ম্যাচ শেষে মেসির ভূয়সী প্রশংসা করে কেইন বলেন, “বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে যেমনটা হয়, তাদের কাছে যখন ফাইনাল থার্ডে বল থাকে, তারা যেকোনো মুহূর্তে জাদু দেখাতে পারে।
সে (লিওনেল মেসি) আজ আবার সেটাই করেছে। নিঃসন্দেহে সে সর্বকালের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। আর এর পেছনে যথেষ্ট কারণও রয়েছে।”
অথচ ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে থেকে ফাইনালের সুবাস পাচ্ছিল ইংল্যান্ড।
ম্যাড়মেড়ে প্রথমার্ধের পর ম্যাচের ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় থ্রি লায়ন্সরা।
এরপরই শুরু হয় আলবিসেলেস্তেদের আসল নাটক। ম্যাচের ৮৫ মিনিটে মেসির পাস থেকে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।
এরপর নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে (৯২ মিনিটে) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ।
মেসির মাপা ক্রস থেকে চমৎকার হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর তাতেই স্তব্ধ হয়ে যায় পুরো ইংলিশ শিবির।
এগিয়ে থেকেও শেষ মুহূর্তের ঝড়ে হেরে যাওয়ায় নিজেদের রক্ষণাত্মক ব্যর্থতার কথাই তুলে ধরলেন কেইন।
তিনি বলেন, “আমি আগেও বলেছি, শেষ ২০ মিনিটে আমরা যে পরিমাণ জায়গা ছেড়ে দিয়েছিলাম, তা হতাশাজনক।
এই সুযোগটা শুধু তাকে (মেসি) নয়, অন্য খেলোয়াড়দেরও ম্যাচে ফিরে আসার এবং আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর সুযোগ করে দিয়েছিল।
যার ফলে তারা বলকে বিপজ্জনক সব জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরেছিল। শেষ পর্যন্ত, তাদের থামানো আমাদের জন্য খুব কঠিন হয়ে পড়েছিল।”
৩৯ বছর বয়সেও মেসির এই চিরসবুজ পারফর্ম্যান্স ফুটবল ইতিহাসের পাতায় আরও একটি মহাকাব্যের জন্ম দিল, যা ফুটবলপ্রেমীদের মনে দাগ কেটে থাকবে দীর্ঘদিন।
