আমরা জনগণের পুলিশ হতে চাই, নিপীড়ক হতে চাই না’-এমন প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার হাসান মো. শওকত আলী।
তিনি বলেছেন, পুলিশ ভালো কাজ করছে কি না, তার প্রধান মাপকাঠি হলো নাগরিক সন্তুষ্টি। সাধারণ মানুষ পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট হলে বুঝতে হবে, পুলিশ সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছে।
শনিবার সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন তিনি।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ। শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাহবুব মাওলা রিপন।
মতবিনিময় সভায় সিএমপি কমিশনার বলেন, আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় জনসচেতনতার কোনো বিকল্প নেই। কার্যকর পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান উপাদান হলো কমিউনিটির সক্রিয় অংশগ্রহণ। পুলিশের সঙ্গে জনগণের সম্পৃক্ততা যত বাড়বে, পুলিশ তত বেশি কার্যকরভাবে কাজ করতে পারবে।
পুলিশের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গির প্রসঙ্গ তুলে ধরে হাসান মো. শওকত আলী বলেন, ‘পুলিশ আলাদা’-এটি শুধু পুলিশ নিজে মনে করলেই হবে না, সাধারণ মানুষকে পুলিশের কাজ ও আচরণের মাধ্যমে সেটি অনুভব করতে হবে।
পুলিশের আচরণেই জনগণের কাছে তার অবস্থান ও পরিচয় স্পষ্ট হতে হবে।
জুলাই বিপ্লবের পর সাধারণ মানুষের সঙ্গে পুলিশের সম্পর্কের পরিবর্তনের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমরা নিপীড়ক পুলিশ হতে চাই না।
সিএমপির পক্ষ থেকে বলতে চাই, আমরা জনগণের পুলিশ হিসেবে জনগণের জন্য কাজ করতে চাই।’
তিনি বলেন, জনগণের আস্থা ও সন্তুষ্টি অর্জনই পুলিশের দায়িত্ব পালনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূচক।
পুলিশ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারছে কি না, মানুষ পুলিশের সেবা ও আচরণে সন্তুষ্ট কি না-এসব বিষয়ই একটি দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব পুলিশিংয়ের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে।
সাংবাদিকদের ভূমিকার প্রসঙ্গে সিএমপি পুলিশ কমিশনার বলেন, সাংবাদিকরা সমাজের দর্পণ। একজন সাংবাদিক পুলিশের কোনো কর্মকাণ্ড নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করলে সেটিকে নেতিবাচকভাবে দেখার সুযোগ নেই।
বরং ওই প্রতিবেদনকে গুরুত্ব দিয়ে বিশ্লেষণ করতে হবে এবং সেখান থেকে প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো অনুধাবন করতে হবে। এতে পুলিশের কার্যক্রম আরও উন্নত করার সুযোগ তৈরি হবে।
এসময় দৈনিক আজাদীর সম্পাদক এম এ মালেক বলেন, সাংবাদিক ও পুলিশ একে অন্যের পরিপূরক।
তারা যদি সঠিক সংবাদটি পরিবেশন করতে পারে, সেখানে আর কোনো বিভাজন তৈরি হয় না। সংবাদ হতে হবে সত্যনিষ্ঠ। সেই সত্যের ভিত্তিতেই সংবাদ প্রকাশ করতে হবে।
সভাপতির বক্তব্যে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচি বলেন, একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলার জন্য পুলিশ ও সাংবাদিক একই বিষয়ে দিনরাত কাজ করছেন।
প্রতিকূলতার মধ্যেও জনগণের সেবায় কাজ করছেন এই দুই পেশার মানুষ। সাংবাদিক ও পুলিশের মধ্যে সুসম্পর্ক গড়ে উঠলে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ হবে।
মতবিনিময় সভায় প্রেস ক্লাবের পক্ষে বক্তব্য রাখেন কমনওয়েলথ জার্নালিস্টস অ্যাসোসিয়েশন (সিজেএ) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক ওসমান গণি মনসুর, প্রেস ক্লাবের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মইনুদ্দীন কাদেরী শওকত, কাজী আবুল মনসুর, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সালেহ নোমান, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, কার্যকরী সদস্য ওয়াহিদ জামান ও সাইফুল ইসলাম শিল্পী, এটিএন নিউজের চট্টগ্রামের প্রতিনিধি মনিরুল ইসলাম পারভেজ, কালের কণ্ঠের সিনিয়র রিপোর্টার ফারুক মুনির এবং সকালবেলার ব্যুরো প্রধান মোহাম্মদ আলী।
এসময় ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক মো. শহীদুল ইসলাম, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ এবং কার্যকরী সদস্য রফিকুল ইসলাম সেলিম উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সিএমপির পক্ষে বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) ওয়াহিদুল হক চৌধুরী, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভুইয়া, ডিসি (দক্ষিণ) মো. হাবিবুর রহমান এবং কোতোয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহিদ নূর।
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিসি (ট্রাফিক-উত্তর) নেছার উদ্দীন আহমেদ, ডিসি (ট্রাফিক-পশ্চিম) নিষ্কৃতি চাকমা, ডিসি (ট্রাফিক-দক্ষিণ) মোহাম্মদ লিয়াকত আলী খান, ডিসি (ক্রাইম এন্ড অপারেশনস্) মো. রইছ উদ্দিন, ডিসি (ট্রাফিক-বন্দর) কবীর আহম্মেদ, ডিসি (সিএসবি) মো. গোলাম রুহুল কুদ্দুস, ডিসি (পশ্চিম) মো. আলমগীর হোসেন, ডিসি (বন্দর) মো. আমিরুল ইসলাম, ডিসি (উত্তর) মো. হাসান মোস্তফা স্বপন, এডিসি মোহাম্মদ হাসান ইকবাল চৌধুরী, এডিসি মোহাম্মদ বদিউজ্জামান, এডিসি (সদর) শ্রীমা চাকমা এবং এসি (সদর) আমিনুর রশিদ।
