সম্পদের তথ্য গোপন ও অবৈধ অর্জন: ছাবেরুলের ৪ বছর জেল, সমপরিমাণ অর্থদণ্ড

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৮:১৭

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের মামলায় ছাবেরুল ইসলাম (৩৯) নামে এক ব্যক্তিকে চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত এ রায় দেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মোকাররম হোসাইন।

দুদকের নথি অনুযায়ী, দণ্ডপ্রাপ্ত ছাবেরুল ইসলাম আনোয়ারা উপজেলার ৩ নম্বর রায়পুর ইউনিয়নের দক্ষিণ পরুয়াপাড়া এলাকার মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে।

দুদকের অনুসন্ধানে ছাবেরুল ইসলামের নামে মোট ৯০ লাখ ১১ হাজার ২৩১ টাকার সম্পদ পাওয়া যায়। এর সঙ্গে তার পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় হিসেবে ধরা হয় আরও ৭ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

সব মিলিয়ে ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯৭ লাখ ৪৬ হাজার ২৩১ টাকা।

তবে এর বিপরীতে ছাবেরুল ইসলামের বৈধ ও গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস পাওয়া যায় মাত্র ১৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা।

ফলে তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮২ লাখ ৭৬ হাজার ২৩১ টাকা।

শুধু অবৈধ সম্পদ অর্জন নয়, সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগও উঠে আসে দুদকের অনুসন্ধানে।

কমিশনে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ছাবেরুল ইসলাম ২৭ লাখ ৯০ হাজার ২৩১ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করে মিথ্যা তথ্য দিয়েছেন বলে দুদকের নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারা এবং মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা করা হয়।

মামলার শুনানি ও নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে সোমবার চট্টগ্রামের বিভাগীয় বিশেষ জজ আদালত ছাবেরুল ইসলামকে চার বছরের কারাদণ্ড দেন।

একইসঙ্গে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

দুদক পিপি মোকাররম হোসাইন বলেন, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে ছাবেরুল ইসলামকে চার বছরের কারাদণ্ড এবং অবৈধভাবে অর্জিত অর্থের সমপরিমাণ অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।