মাদক টাকার অবৈধ সম্পদ: রুপম চৌধুরীর ৭ বছরের কারাদণ্ড

প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল, ২০২৬ ১৯:১০

মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের মামলায় রুপম চৌধুরী (৪১) নামের এক ব্যক্তিকে ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।

একই সঙ্গে তাকে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫৮ হাজার ৬৬০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

সোমবার সকালে চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মিজানুর রহমানের আদালত এ রায় ঘোষণা করেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত রুপম চৌধুরী, যিনি রূপন চৌধুরী ওরফে রিপন চৌধুরী নামেও পরিচিত, বোয়ালখালী উপজেলার সারোয়াতলী এলাকার দয়াল চৌধুরীর ছেলে। বর্তমানে তিনি নগরীর হালিশহর মধ্যম নাথপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।

তবে রায়ের সময় তিনি আদালতে অনুপস্থিত ছিলেন। ফলে সাজা পরোয়ানার ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।

এর আগে একই আদালত গত ১৩ এপ্রিল মাদক কারবারের মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অন্য একটি মামলায় রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা রানী চৌধুরীকে ৪ বছর কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

দুদকের পাবলিক প্রসিকিউটর মোকাররম হোসেন জানান, মাদক ব্যবসার মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদ বিবরণীতে তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় আদালত এ দণ্ড দেন।

মামলার নথি অনুযায়ী, রুপম চৌধুরী দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে ৩৮ লাখ ২৩ হাজার ৪৩৯ টাকার স্থাবর ও ২৬ লাখ ৮৩ হাজার ৩৯১ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ মোট ৬৫ লাখ ৬ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদের তথ্য গোপন করেন।

এছাড়া তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ১ কোটি ৬১ লাখ ৫১ হাজার ৮৩০ টাকার সম্পদ অবৈধভাবে অর্জনের প্রমাণ পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দুদক সূত্রে জানা যায়, রুপম চৌধুরীর বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার কুলগাঁও এলাকায় জমি ও একটি ফ্ল্যাটসহ বিভিন্ন সম্পদের তথ্যও গোপন করা হয়েছিল।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে বলা হয়, ২০১৯ সালে একটি দৈনিকে ‘ইয়াবা রূপম’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দুদক বিষয়টি আমলে নেয়।

পরবর্তীতে অনুসন্ধানে রুপম চৌধুরী ও তার স্ত্রী সন্ধ্যা চৌধুরীর বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া যায়।

এরপর ২০২১ সালে দুদক তাদের পৃথকভাবে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নির্দেশ দেয়।

রুপম চৌধুরী নির্ধারিত সময়ে সম্পদ বিবরণী জমা দিলেও যাচাই-বাছাইয়ে উল্লেখযোগ্য তথ্য গোপনের বিষয়টি উদ্ঘাটিত হয়।