জনবান্ধব পুলিশিংয়ে জোর, মাদক ও অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট, ২০২৬ ১৬:১৬

চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম বলেছেন, অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশকে আরও সক্রিয়, পেশাদার ও প্রযুক্তিনির্ভরভাবে কাজ করতে হবে।

একই সঙ্গে জনগণের আস্থা অর্জনকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সততা, শৃঙ্খলা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।

আজ চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয় পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এবং জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।

সভায় জেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের ধরন ও প্রবণতা, বিভিন্ন মামলার পরিসংখ্যান, মামলার তদন্ত ও নিষ্পত্তির অগ্রগতি এবং মাদকবিরোধী কার্যক্রমের সার্বিক চিত্র নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি থানাভিত্তিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশের সেবামূলক কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা হয়।

মাদকবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী পিপিএম গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি আরও জোরদারের নির্দেশ দেন।

শুধু মাদক বহনকারী বা সরবরাহকারীদের গ্রেপ্তার নয়, মাদকের উৎস, সরবরাহকারী এবং এর সঙ্গে জড়িত মূল হোতাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি বলেন, মাদক নির্মূলে গোয়েন্দা তৎপরতা, তথ্য বিশ্লেষণ ও সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। অপরাধের প্রকৃতি ও প্রবণতা বিশ্লেষণ করে সংশ্লিষ্ট এলাকায় কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশও দেন তিনি।

নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়েও ডিআইজি বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, নারী, শিশু ও ভুক্তভোগীদের ক্ষেত্রে পুলিশের আচরণ হতে হবে আরও সংবেদনশীল, মানবিক ও দায়িত্বশীল।

থানায় আগত নারী, শিশু, ভুক্তভোগী ও সাধারণ জনগণের সঙ্গে সৌজন্যপূর্ণ আচরণ এবং দ্রুত ও কার্যকর পুলিশি সেবা নিশ্চিত করতে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।

নারী ও শিশুবান্ধব পুলিশিং, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা এবং সংবেদনশীল মামলায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয় মতবিনিময় সভায়।

পুলিশের আচরণ ও সেবাদানের মানোন্নয়ন প্রসঙ্গে ডিআইজি আবদুল কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, জনগণের আস্থা অর্জনই জনবান্ধব পুলিশিংয়ের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। পুলিশের প্রতিটি সদস্যকে সততা, পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা ও মানবিক মূল্যবোধের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

তিনি থানাকে জনগণের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করার ওপর জোর দেন। পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার নির্দেশনা প্রদান করেন।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মাদক, কিশোর অপরাধ, চুরি-ছিনতাই, ডাকাতি ও সাইবার অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

একই সঙ্গে নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সংবেদনশীল মামলায় দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভুক্তভোগীদের প্রতি মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা হবে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, থানাকে জনগণের আস্থার কেন্দ্রে পরিণত করতে পুলিশি সেবায় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও পেশাদারিত্ব নিশ্চিত করা হবে।

জনগণের সঙ্গে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কাজ করার জন্য তিনি সকল ইউনিটের সদস্যদের নির্দেশনা প্রদান করেন।

মতবিনিময় সভায় ডিআইজি জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জদের নিজ নিজ এলাকার অপরাধ পরিস্থিতি নিয়মিত বিশ্লেষণ করে কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।

একই সঙ্গে মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার, গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর মামলার তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন, গ্রেফতারি পরোয়ানা তামিল এবং জনসাধারণের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

এছাড়া বিট পুলিশিং কার্যক্রম আরও জোরদার এবং জনগণের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময়ের মাধ্যমে জনবান্ধব, সেবামুখী ও আস্থাশীল পুলিশিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার নির্দেশনা দেওয়া হয়।

পরিদর্শন ও মতবিনিময় শেষে ডিআইজি চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের সকল সদস্যকে নিষ্ঠা, সততা, শৃঙ্খলা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

তিনি জনগণের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে সংশ্লিষ্ট সকল কর্মকর্তাকে সমন্বিতভাবে কাজ করার নির্দেশ প্রদান করেন।