মিয়ানমার থেকে নাফ নদী পেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করা ইয়াবার একটি বড় চালান উদ্ধার করেছে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবি।
অভিযানে ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় তিন মাদক পাচারকারীসহ একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকা আটক করা হয়।
আটকরা হলেন-টেকনাফ কুলালপাড়া এলাকার মৃত কবির আহমদের পুত্র মো. জামাল হোসেন (৩৮), সাবরাং নোয়াপাড়া এলাকার শাহ আলমের পুত্র মো. এমরান (২৫) এবং একই এলাকার আবুল হোসেনের পুত্র মো. ইসমাইল (২৪)।
শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টেকনাফ ব্যাটালিয়ন-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. হানিফুর রহমান ভূঁইয়া।
তিনি জানান, মাদকের একটি বড় চালান মিয়ানমার থেকে নাফ নদী অতিক্রম করে সাবরাং এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারে-এমন গোপন তথ্য পায় বিজিবি। তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার বিকাল থেকেই বিজিবির একটি আভিযানিক দল ওই এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়।
একপর্যায়ে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় কয়েকজন ব্যক্তি দ্রুতগতিতে নাফ নদী অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।
নৌকাটির গতিবিধি সন্দেহজনক হওয়ায় বিজিবির টহলদল সেটিকে থামার সংকেত দেয়।
তবে বিজিবির সংকেত উপেক্ষা করে নৌকাটি দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় টহলদল নৌকাটিকে ধাওয়া করে।
ধাওয়ার একপর্যায়ে পাচারকারীরা নৌকায় থাকা একটি প্লাস্টিকের বস্তা নাফ নদীতে ফেলে দেয়।
তবে শেষ পর্যন্ত পালানোর সুযোগ হয়নি তাদের। বিজিবির সদস্যরা নৌকাটিসহ তিনজনকে আটক করতে সক্ষম হন।
পরে আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, নাফ নদীতে ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বস্তাটিতে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট রয়েছে। এরপর সাবরাং ও শাহপরীরদ্বীপ বিওপির আভিযানিক দল নাফ নদীতে ব্যাপক তল্লাশি শুরু করে।
একপর্যায়ে শাহপরীরদ্বীপ সংলগ্ন জালিয়াপাড়া এলাকা থেকে বস্তাটি ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে বস্তাটি তল্লাশি করে সর্বমোট ১ লাখ ৯০ হাজার পিস ইয়াবা ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
বিজিবি জানায়, আটক তিন আসামি এবং জব্দকৃত ইয়াবা ট্যাবলেট নিয়মিত মামলার মাধ্যমে টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তরের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
