১০ কনটেইনার কাঁচা তামাক আটক, শুল্ক-কর ফাঁকির ঝুঁকি দেখছে কাস্টমস

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৯:১৬

পাকিস্তান থেকে বন্ড সুবিধায় আমদানি করা ১৫০ মেট্রিক টন কাঁচা তামাকের চালান আটক করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।

গ্লোবাল লিফ টোব্যাকো কোম্পানি লিমিটেডের নামে আমদানি করা ১০ কনটেইনারের এই চালানে ঘোষিত আমদানি মূল্যের সঙ্গে একই এইচএস কোডের পণ্যের পূর্ববর্তী মূল্যায়নের উল্লেখযোগ্য পার্থক্য পাওয়া গেছে।

কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের হিসাবে, আটক তামাক দিয়ে আনুমানিক ২১ দশমিক ৪৩ কোটি শলাকা প্রিমিয়াম সিগারেট উৎপাদন সম্ভব। এসব সিগারেটের সম্ভাব্য খুচরা বাজারমূল্য প্রায় ৪৯৩ কোটি ৮৬ লাখ টাকা।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

সূত্র জানায়, চালানটির প্রাথমিক পর্যালোচনায় আমদানি মূল্যে উল্লেখযোগ্য অসংগতি পরিলক্ষিত হয়েছে। একই এইচএস কোডের পণ্য আগে প্রতি কেজি ৫ দশমিক ১০ মার্কিন ডলারে অ্যাসেসমেন্ট করা হলেও আলোচ্য চালানে কাঁচা তামাকের ঘোষিত আমদানি মূল্য প্রতি কেজি মাত্র ১ দশমিক ৪৫ মার্কিন ডলার।

অর্থাৎ, পূর্ববর্তী মূল্যায়নের তুলনায় আলোচ্য চালানে ঘোষিত কেজিপ্রতি মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে কম। এই মূল্যপার্থক্যের কারণে আমদানি পর্যায়ে রাজস্বের হিসাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।

পূর্ববর্তী মূল্য বিবেচনায় চালানটির সম্ভাব্য আমদানি পর্যায়ের রাজস্ব প্রায় ২১ কোটি ১২ লাখ টাকা বলে সূত্র জানিয়েছে।

কাস্টমস গোয়েন্দার মতে, বন্ড সুবিধায় আমদানি করা তামাকের প্রকৃত ব্যবহার এবং সেই তামাক দিয়ে উৎপাদিত পণ্যের হিসাব যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা না হলে রাজস্ব ফাঁকির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আমদানি থেকে শুরু করে উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ-প্রতিটি পর্যায়েই এ ধরনের ঝুঁকি রয়েছে।

বিশেষ করে আমদানি করা কাঁচামালের পরিমাণ, উৎপাদিত সিগারেটের হিসাব এবং বাজারজাত পণ্যের মধ্যে যথাযথ সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা জরুরি।

এসব ক্ষেত্রে কার্যকর নজরদারি না থাকলে বন্ড সুবিধার আওতায় আনা কাঁচামালের ব্যবহার ও পণ্যের হিসাব যাচাই জটিল হয়ে উঠতে পারে।

১৫০ মেট্রিক টন তামাকের এই চালানে ঘোষিত আমদানি মূল্যের অসংগতি এবং সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ-দুই বিষয়ই কাস্টমসের নজরদারিতে গুরুত্ব পেয়েছে।