জমির মাপজোখে ৮০ লাখ ঘুষ, ফাঁদ পেতে সার্ভেয়ারকে ধরল দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:৩২

জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করা এবং নকশা তৈরির কাজ করে দেওয়ার বিনিময়ে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগ উঠেছে ঢাকার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে।

শেষ পর্যন্ত এক লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ার সময় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ফাঁদ অভিযানে হাতেনাতে আটক হয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকায় দুদকের একটি বিশেষ দল পরিকল্পিত অভিযান চালিয়ে তাঁকে আটক করে।

দুদকের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করা এবং নকশা তৈরির কাজ করে দেওয়ার কথা বলে এক ব্যক্তির কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন সার্ভেয়ার আসাদুল।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে ফাঁদ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় তাঁকে হাতেনাতে আটক করা হয়।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, অবসরপ্রাপ্ত সৈনিক মো. মনিরুল ইসলাম ঢাকা জেলার লালবাগ থানার চরকামরাঙ্গী মৌজায় ২৮২ শতাংশ জমির মালিকদের কাছ থেকে নিবন্ধিত অপ্রত্যাহারযোগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি গ্রহণ করেন।

ওই জমির সীমানা নির্ধারণ, সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমি পৃথক করা এবং নকশা তৈরির জন্য গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করেন তিনি। তবে আবেদন করার প্রায় ছয় মাস পার হলেও জমির সীমানা নির্ধারণের কাজ শেষ হয়নি।

এ অবস্থায় কাজের অগ্রগতি জানতে একাধিকবার লালবাগ রাজস্ব সার্কেলে যোগাযোগ করেন মনিরুল ইসলাম। একপর্যায়ে তাঁকে ওই কার্যালয়ের সার্ভেয়ার মোহাম্মদ আসাদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, জমির সীমানা নির্ধারণ ও নামজারির কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার বিনিময়ে মনিরুলের কাছে ৮০ লাখ টাকা ঘুষ দাবি করেন আসাদুল। পরে বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশনকে জানান তিনি।

অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা যাচাই করে দুদক বিশেষ ফাঁদ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি নেয়। মঙ্গলবার পরিকল্পিত অভিযানের একপর্যায়ে এক লাখ টাকা ঘুষ গ্রহণের সময় আসাদুল ইসলামকে আটক করা হয়।

দুদক জানিয়েছে, এ ঘটনায় আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। তাঁকে আদালতে সোপর্দ করার আইনি প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।