আধ্যাত্মিক মহাপুরুষদের লীলাভূমি বীর চট্টগ্রামের পুণ্যভূমি ফটিকছড়ি থানার হালদা নদী বিধৌত একটি গ্রাম সুয়াবিল। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ ছায়া সুনিবিড় শস্য-শ্যামলা স্থাবর জঙ্গম তীর্থভূমি।
যুগে যুগে মহাপুরুষেরা অবতীর্ণ হন এ ধরায় পতিত জীবদের উদ্ধারের জন্য, অজ্ঞতা দূর করে জ্ঞানের আলো বিতরণের জন্য, সকল মলিনতা কুলিনতা তিরোহিত করে সদাচার সদ্ভাব জাগরণে, ধর্মহীনতা থেকে ধর্মের পথে উত্তরণের জন্য, আসুরিক শক্তির প্রভাব থেকে মুক্ত করে দৈবভাবে রূপান্তরের তরে সর্বোপরি ধর্মসংস্থাপনের জন্য।
শ্রীমদ্ভগব˜ গীতার চতুর্থ অধ্যায়ের ৭ ও ৮নং শ্লোকে “শ্রী ভগবান” বলেছেন
“যদা যদাহি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্ম সংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।।”
এই সুয়াবিল গ্রামেই স্ব-মহিমায়, স্ব-আধ্যাত্মিকতায়, স্ব-গৌরবে দাঁড়িয়ে আছে যোগ-সাধনার অন্যতম পীঠস্থান, বহু সাধকের সিদ্ধি লাভের উর্বর ক্ষেত্র নিবিড় আত্মজ্ঞান ক্রিয়াব অনুকূল স্থান, নির্বাণ বা কৈবল্য প্রাপ্তির এক অনুপমস্থল, মুমুক্ষু ও আত্মমুক্তির অনুসন্ধানকারী মানুষের সাধনপথ প্রদর্শক, অনেক ধর্মানুরাগী ও জ্ঞান-পিপাসু ভক্তের মিলনস্থল, “শ্রী শ্রী সুয়াবিল সিদ্ধাশ্রম”।
অতি প্রাচীনকাল থেকেই এই আশ্রমের আধ্যাত্মিক শুনাম দিক-দিগন্তরে ছড়িয়েছে। সনাতন ধর্মের বিকাশ, প্রচার-প্রসার এই আশ্রমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। আদিকাল থেকেই ভক্ত, আর্তপীড়িত মানুষ ছুটে আসে পারমার্থিক আনন্দ লাভের আশায়, যাহা আজ পর্যন্ত বিদ্যমান।
এই সিদ্ধাশ্রম মঠের প্রাণপুরুষ, মহাযোগীশ্বর যোগসম্রাট, অলৌকিক বিভূতি সম্পন্ন মহাপুরুষ, অষ্টাঙ্গ যোগ সাধনার পথ প্রদর্শক, মহান তপস্বী ব্রহ্মবিদ বরিষ্ঠ, একই বার, তিথি ও মাসে যার আবির্ভাব ও তিরোভাব, বিরল যোগ সাধনায় সিদ্ধিলাভকারী, মুমুক্ষু মানুষের উদ্ধারকারী পরিত্রাতা ভক্তবাঞ্ছাকল্পতরু শ্রীমৎ স্বামী গুরুদাস পরমহংসদেব (ফকির বাবা)। তিনিই এই সিদ্ধাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি ছিলেন অতীব দুর্লভ প্রাণশক্তির অধিকারী, বিরল যোগীপুরুষ, অত্যন্ত কঠিন, সুকঠিন যোগক্রিয়া সম্পন্ন করতেন, অনন্য সংযম সাধনার পরাকাষ্ঠা, অতি উচ্চ মার্গের সাধক।
আহার-বিহার-বাক্যালাপ অতিমাত্রায় সংযত, দিবা-নিশির সিংহভাগ সময় মৌনব্রত ও আত্মধ্যানে মগ্ন, লবনংকা বিহীন আহার, যাহা অনাহারেরই নামান্তর। শুয়ে কখনো নিদ্রা যেতেন না, শরীর হেলান দেয়ার মতো করে নির্মিত বাঁশের দলার উপরে বসে মুদ্রিত নয়নে ধ্যানজপ ব্যাসমনে নিবিষ্ট থাকতেন। এক কথায় বিরল যোগ সাধক, যাহা বর্তমান অনেক সাধক পুরুষদের জন্য অত্যন্ত দুর্লভ একটি সাধন প্রক্রিয়া।
আবির্ভাব কাল : ১২২২ বঙ্গাব্দের শনিবার শুভ মাঘী পূর্ণিমায় পুণ্য তিথিতে প্রকৃতির সৌন্দর্যময় অপরূপ ছায়া নিবিড় সুশীতল আধ্যাত্মিকতায় পরিপুর্ণ সুয়াবিল গ্রামেরই ধর্মপরায়ণ, পরম হিতৈষী ব্রহ্ম পুরুষ রজেশ চৌধুরী, ধর্মপরায়ণা সাবিত্রী-সতী মাতা স্বরূপা শ্রীমতি কদম্ববালা দেবী পবিত্র গর্ভে ভূমা থেকে ভূমিতে অবতীর্ণ হন গুরুদাস বাবা। এই মহাপুরুষের আবির্ভাব দেব নির্দিষ্ট, যাহা উনার পিতামহ যখন হরিদ্বারে তীর্থ ভ্রমণে গিয়েছিলেন সেখানে ধ্যান গুহায় অবস্থানরত এক যোগী মহাপুরুষ তার আবির্ভাব সম্পর্কে আবির্ভাবের পূর্বেই অবগত করেছিলেন এই বলে যে, তোমার বংশে এমন একজন মহাতেজস্বী পুরুষের আগমন ঘটবে।
রামেশ্বর চৌধুরী ছিলেন গৃহ সন্ন্যাসী, থেকেও বৈরাগ্যবান ও আত্ম সংযমী যোগী ছিলেন। তিনি তার পিতামহ থেকে পূর্ব পরম্পরায় যোগ ক্রিয়ায় কলাকৌশল প্রাপ্ত হন। প্রায় ১৫ বছর কাল উনার যোগাভ্যাসের ফলস্বরূপ সিদ্ধি প্রাপ্ত হইয়া মাঘী পূর্ণিমার পুণ্য তিথিতে ১৫ বছরের বালক গুরুদাস বাবাকে সংযম পালক পূর্বক উপবিষ্ট করাইয়া দক্ষিণ কর্ণে দীক্ষা স্বরূপ বীজমন্ত্র দান করিয়াছিলেন। এটা গুরুদাস বাবার পূর্ব জন্মের সুকৃতির ফল। বৈরাগ্যবান ও সন্ন্যাসী পুরুষ সমৃদ্ধ পরিবারে উনার আবির্ভাব।
শ্রীমদ্ভাগবত˜ গীতা ষষ্ঠ অধ্যায়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন
“অথবা যোগিনামেব কুলে ভবতি ধীমতাম্।
এতদ্ধি দুর্লভতরং লোকে জন্ম যদিদৃশম্।।”
বাল্যকাল ও শিক্ষা জীবন : বাল্যকাল থেকেই গুরুদাস বাবা মার্জিত, ভদ্র, বিনয়ী, শান্ত ও সত্যবাদী ছিলেন। গুরুস্থানীয় ব্যক্তিদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শন এবং সর্বদা ভগবান ও ভগবত ভক্তির ভাব উনার মধ্যে পরিলক্ষিত হতো। এলাকা ও প্রতিবেশী সকলের স্নেহভাজন ছিলেন এবং অপরে প্রতি সম্মানবোধ, আদব ও রুচিশীল জীবনাচারন সবার মনকে আকৃষ্ট করত। ৫ বছর বয়সে উনার পিতা উনাকে গ্রাম্য পাঠশালায় প্রাথমিক শিক্ষায় ভর্তি করিয়ে দেন, কিন্তু জাগতিক শিক্ষায় তিনি ছিলেন উদাসীন।
পড়াপ্রতি অমনোযোগী ছিলেন কারণ উনি তো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন না, আত্মজ্ঞান শিক্ষায় শিক্ষিত হবেন। জীবন মুক্তির সাধনায় সিদ্ধি লাভ করবেন, আত্মানুসন্ধান পথে এগিয়ে যাবেন। সংসারের জাগতিক বিদ্যায় উপেক্ষা করে তিনি সর্বদাই উদাস মনে মৌনভাবে আত্ম নিমগ্ন থাকতেন।
এমন মনোভাব লক্ষ্য করিয়া উনার পিতামাতা উনাকে লেখাপড়া ছাড়াইয়া আগামী দিনের জীবিকা নির্বাহের তরে হাতের কাজ (স্বর্ণের কারিগরি) শিক্ষার নিমিত্তে স্বর্ণ শিল্পালয়ে নিয়োগ করিলেন।
আমাদের মধ্যে (বণিকদের) এখনো সে ধারা অব্যাহত আছে, লেখাপড়ায় অমনোযোগী হলেই অভিভাবকগণ পেশা নিধারনে স্বর্ণের কাজে প্রেরণ করেন।
আত্মানুসন্ধানের পথে: শুভ মাঘী পূর্ণিমার তিথিতে বৈরাগ্যবান পিতা দীক্ষাদান করেছিলেন তখনই গুরুদাস বাবার দেহ প্রশান্তিতে বাড়ে। তনু-মন তৎময় হল পরমের ভাবে, মুদিত নয়নে উপবিষ্ট আসনে দিব্য দেহমন ভগবদভাবে লীন হয়ে গেল, শ্বাস-প্রশ্বাস স্থির হল। এমন তৎময়তা পর্যবেক্ষণ করিয়া উনার পিতা আশীর্বাদ স্বরূপ বলিলেন ইহা গুপ্ত বীজ, ইহা জপ-তপের মাধ্যমে লালন করিতে পারিলে একদিন মহীরূহ হয়ে জগতে বিরাজ করিবে। সেদিন থেকে গুরুদাস বাবার আত্মজ্ঞান লাভের দুয়ার খুলে গেল।
বিষয়ে-আশয়ে অনীহা ও বৈরাগ্যভাব: ১৫ বছররাধিকাল বয়সে গুরুদাস বাবা জীবিকা নির্বাহের তরে রাউজানে একটি দোকানে কারিগর হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু ওখানে দিনে কাজে রত থেকেও তিনি পরমের সাধনায় মগ্ন থাকতেন। দোকান মালিক ভেবে ঘুিময়ে পড়লে তিনি চুপিসারে দোকানের মধ্যেই নিঝুম থেকে সন্ধ্যা-ধ্যানে রত থাকতেন।
যিনি ভব-পারাপারের কাণ্ডারী হবেন, পতিত-তাপিত জীবের উদ্ধার কর্তা হবেন, জগতে জ্যোতির্ময় পুরুষ হবেন, উনার কি জাগতিক সংসার বাসনায় একথায় মন টানবে? তাই তীব্র বৈরাগ্যভাবের ভাবাবেশে ও পরম ব্রহ্মের আশ্রয়ে যাওয়ার জন্য প্রাণ ব্যাকুল হয়ে উঠল।
অনিত্য সুখের সন্ধানে যার মন-প্রাণ আকুল, তিনি মায়া-মোহের বাহুডোরে বন্দি হতে পারেন স্বর্ণের দোকানের চাকরি ত্যাগ করিয়া নিজ পিতৃভূমি সুয়াবিল গ্রামে ফিরে এলেন।
কঠোর সংযম অভ্যাস ও ক্রিয়ানুশীলন: সুয়াবিল গ্রামটি ছায়া-নিবিড় শান্ত গ্রামীণ জনপদ। সাধনার জন্য উপযুক্ত স্থান, পাশে নিভৃতে বহমান হালদা নদী, পরিবেশ একেবারে সুনশান। বালক গুরুদাস কঠোর সংযম অভ্যাস শুরু করিলেন। সাধনা অভ্যাসের প্রভাবে কালক্রমে দিনে দিনে অন্তরে দিব্য শক্তির ক্ষরণ হতে লাগল।
পরমাত্মার সুপ্ত আধ্যাত্মিক শক্তি উপলব্ধি করলেন। তিনি এতই দুর্লভ সাধনক্রিয়ায় মত্ত ছিলেন যে সাধন-ক্রিয়া অন্যান্য সাধু-সন্ন্যাসীদের থেকে আচরণে অনেকটা কঠিন।
অন্য সাধু-সন্ন্যাসীর মত চর্ম বা কমলান্ডিব ব্যবহার করতেন না, আরামদায়ক তুলতুলে আসনে নয়, বাঁশের ফলা নির্মিত শক্ত আসনে উপবিষ্ট হয়ে সন্ধ্যা ও তপস্যা করিতেন।
নরম কোমলমৃদ্ধ তোষকে কখন শুতেন না, পা দুটো সামনে ছড়িয়ে বাঁশের দলায় ঠেস দিয়া মুদিত চোখে কয়েক ঘণ্টা যোগাসনে থাকিতেন। পরিধানে ছোট কাপড় ও সর্বঋতুতে উদোম গায়ে থাকতেন। কঠোর ও দুর্লভ সাধনার ফলে দেহবোধকে যেন কারিয়াছিলেন।
গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড তাপে বর্ষার অঝোর বৃষ্টির ধারায়, শীতকালে কনকনে হিম বায়ুর ঠান্ডায় আসনে উপবিষ্ট হইয়া সন্ধ্যা ও তপস্যায় মগ্ন থাকতেন। সাধনাসিদ্ধ মহাপুরুষের পক্ষেই এমন ক্রিয়ানুশীলন সম্ভব, অন্যথায় নয়। দেহস্থিত সকল ইন্দ্রিয় উনার বশীভূত।
ইন্দ্রিয়ের তাড়নায় তাড়িত না হয়ে নিজেকে আত্মন্থ রাখতেন। পুরুষোত্তম যোগপুরুষের ঐশ্বরিক শক্তির প্রকাশ। জাগতিক লোকেদের মাঝে দৈনন্দিন ব্যবহারের তদাতের জন্য সাধারণ মানুষ উনাকে ‘ফকির বাবা’ বলে আখ্যায়িত করতেন।
দুর্লভ ও কঠিন তপস্যা: সুয়াবিল সিদ্ধাশ্রম সাধন-তপস্যার উর্বর ক্ষেত্র। নাম থেকেই প্রতীয়মান হয় এটি সিদ্ধিলাভের অনুকূলস্থল। বহু সাধক তপস্বী এখানে নিরত সাধনায় মগ্ন থেকে সিদ্ধি লাভ করেছেন। গুরুদাস বাবা বাল্যকাল থেকেই ব্রহ্মচর্য পালন করে সাধন প্রেমের মাধ্যমে কালজয়ী যোগী ও সিদ্ধপুরুষ হয়েছেন।
সূর্যোদয়ের ২ ঘণ্টা আগে আশ্রমে সম্মুখস্থ হিম-বরফ সদৃশ জলে ঝুলন্ত আসনে উপবিষ্ট হইয়া নিবিড় আত্মধ্যানে মগ্ন থাকতেন। হালদা নদীর ঘূর্ণমান স্রোতের মধ্যে স্থিরাসনে ধ্যানমগ্ন থাকতেন।
প্রবহমান নদীর ঘূর্ণায়মান স্রোতে মানুষের সলিল সমাধি হয় অথচ সেখানে গুরুদাস বাবা নির্বিঘেœ আসন করে ধ্যানে অবিচল।
এমন অলৌকিক বিভূতি সাধন সিদ্ধ মহাপুরুষের পক্ষেই সম্ভব। গর্ত সদৃশ কুর্পের মধ্যে শুকনো কাঠ দ্বারা অগ্নি প্রজ্বলন করে দুই পা ঊর্ধ্বমূলে ও শির নিচে রেখে তপো-সন্ধ্যা করতেন।
আগত দর্শনার্থীরা ভাবত সাধু অগ্নিন্ডের মধ্যে ভষ্মীভূত হয়েছে কিন্তু গুরুদাস বাবা আরাধ্যা সাধন-শক্তির বলে স্থূল ও সূক্ষ্ম পূর্ব শরীরে দেবত আসতেন।
এমন অতীব গা-শিউরে উঠা আধ্যাত্মিক ক্রিয়া-কৌশল গুরুদাস বাবার মতো মহাযোগী পুরুষের পারমার্থিক শক্তির বহিঃপ্রকাশ।
মৌনব্রত সাধন: গুরুদাস পরমহংসদেব বার বৎসর মৌন সাধন করে সাধনসিদ্ধ হয়েছেন। উনার আদর্শ ছিল বাক্য সংযম; তিনি সর্বদা বাক্যে ‘আমি ও আমার’ পরিহার করতেন। ‘আমি ও আমার’ শব্দ প্রয়োগে সাধকের মনে অহংবোধের উদ্ভব হয়, যাতে সাধকের পতন ঘটে।
সাধকের মৌন সাধন ও বাক্য সংযম অতীব তাৎপর্স্যপূর্ন। একবার গুরু দয়াল বাবা টানা তিনদিন আহার-নিদ্রা, বাহ্য শৌচ ত্যাগ করে নির্লিপ্তে মন্দিরের অভ্যন্তরে ধ্যানমগ্ন হয়ে রইলেন। দিন যায় রাত আসে, তিনি একাগ্রচিত্তে নিবিষ্ট মনে বাহি: জগত থেকে দূরে গিয়ে ধ্যানস্থ হয়ে রইলেন।
এরই মধ্যে জটাধারী, উজ্জ্বল গৌরবর্নের এক হিন্দুস্থানী সন্ন্যাসী গুরুদাস বাবার সাক্ষাতের জন্য তিনদিন আশ্রমে অপেক্ষা করে বিফল মনোরথে ফিরে যান। যাওয়ার সময় বলে গেলেন “বাংলায় গুরু দাস বাবার মতো উচ্চ মার্গের সাধনসিদ্ধ মহাপুরুষ খুবই বিরল”।
গুরু দাস বাবা সবসময় গুপ্ত থাকতেন; গভীর ও রহস্যময় সাধন-পথের কথা কাউকে ব্যক্ত করতেন না। তিনি ছিলেন ত্রিকালজ্ঞ মহাপুরুষ; তিনি ভক্তদের বলতেন
“গুপ্ত থেকে হও পোক্ত, ব্যক্ত করে হইওনা ত্যক্ত”।
‘দয়াল পতিত পাবন গুরুদাসবাবা’: বিশ্বাস ও ভক্তি ধর্মের মূল ভিত্তি।
বিশ্বাসের সহিত ভগবানের শরণাপন্ন হলে তিনি ভক্তকে উদ্ধার করেন।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতার সপ্তম অধ্যায়ে ভগবান বলেছেন!
“চতুুর্বিধা ভজন্তে মাং জনাঃ সুকৃতিনোহর্জুন,
আর্তো জিজ্ঞাসুরর্থীর্থী জ্ঞানী চ ভরতর্ষভ।”
চার প্রকারের ভক্ত আমাকে স্মরণ করেন: আর্ত, জিজ্ঞাসু, অর্থার্থী ও জ্ঞানী। স্বন্দীপ নিবাসী এক মুসলিম ভক্ত রোগমুক্তির আশায় গুরুদাস বাবার নিকট এক গ্লাস জল নিয়ে উপস্থিত হলেন। আগন্তুক ব্যক্তির বিশ্বাস ছিল বাবার পানিপড়ায় তিনি রোগমুক্ত হবেন।
বিশ্বাসমতে পানিপূর্ণ গ্লাসটি গুরুদাস বাবার সম্মুখে নিয়ে আসলে বাবা পানিটুকু পান করার আদেশ দিলে ওই ভুক্তভোগী ব্যক্তির মধ্যে সন্দেহ সৃষ্টি হয়। তিনি ভেবেছিলেন গুরুদাস বাবা পানির মধ্যে ফুঁ দিবেন, তারপর সে পান করবে।
কিন্তু ওই ব্যক্তি জানতেন না গুরুদাস বাবা কোন তান্ত্রিক পুরুষ বা বৈদ্য নন; তিনি সিদ্ধি সাধক বাকসিদ্ধ মহাপুরুষ, পারমার্থিক ও আধ্যাত্মিক জ্যোতিময় পুরুষ।
ভুক্তভোগী নিয়তি মেনে রোগ আর ভালো হবে না ভেবে বিফল মনোরথে ফিরে যাচ্ছিল।
গুরুদাস ছিলেন অন্তর্যামী এবং অন্তঃদৃষ্টি সম্পন্ন মহাপুরুষ; তিনি লোকটির অভিমান বুঝতে পেরে তাকে ‘আব্দুর রহিম’ নামে ডাক দিয়ে পানিভর্তি গ্লাসটি নিয়ে পুনরায় আসতে বললেন। নিজের নাম ধরে গুরুদাস বাবার ডাক শুনে…
আগত ব্যক্তি হতকিত হয়ে যান এবং পানির গ্লাসটি বাবার সামনে নিয়ে আসতেই গ্লাসস্থিত পানি উদ্বায়ী হতে লাগল আপনা আপনিই। এই অপ্রত্যাশিত দৃশ্য দেখে লোকটি অবাক বিস্ময়ে গুরুদাস বাবার দিকে চেয়ে ছিলেন এবং নিজভুল বুঝতে পেরে সাথে সাথে বাবার চরণে লুটিয়ে পড়লেন।
এরপর গ্লাসের পানি গদগদ ভাবেপান করে নিলেন এবং আশীর্বাদ সুরে ওই ব্যক্তিকে তাঁর শরীরে আজ রোগ হবে না বলে অভয় দিলেন। এটাই বাকসিদ্ধ মহাপুরুষের অলৌকিক কীর্তি। আর্ত পীড়িত ভক্তকে ভগবান এভাবেই অহেতুকী কৃপা করেন।
এ জগত ভগবানের অধীনে কিন্তু ভগবান ভক্তের সকল মনোবাসনা পূরণ করেন যদি একান্তভাবে শরনাগত হওয়া যায়।
বায়ু যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ গুরুদাসবাবা: তিনি ছিলেন বায়ু যোগসিদ্ধ মহাপুরুষ। নিজের দেহকে চক্র সাধনার মাধ্যমে সূক্ষ্ম থেকে সূক্ষ্মতরে নিয়ে যেতে পারতেন।
বায়ু যেমন অদৃশ্য শুধু অনুভবে করা যায়, তেমন গুরুদাস বাবাও বায়ুর মত অদৃশ্য হয়ে আবার দৃশ্য হতে পারতেন। এটা উচ্চ মার্গের সাধক ও মহাসযোগী পরমাত্মার পক্ষে সম্ভব।
গুরুদাস বাবার মাতুলালয় ছিল পটিয়া থানার হাবিলাসদ্বীপ গ্রামে। সুয়াবিল থেকে ৪০ কি.মি. দূরে। উনার মাতুল দেব পরলোক গমন করেছেন, শাস্ত্রীয় নিয়মানুযায়ী আদ্যশ্রাদ্ধ উপলক্ষে বস্তু নিয়ে যাওয়ার জন্য গুরুদাস বাবাকে আদেশ করেছিলেন উনার মাতু জননী। সুয়াবিল থেকে ৩/৪ দিনের পথ হাবিলাসদ্বীপ। যেহেতু এখন কোন গাড়ি ছিল না তাই মাতা তাগাদা দিচ্ছিলেন কিন্তু গুরু দয়াল বাবা নির্বিকার।
ওই ভাব দেখে মা চিন্তিত হয়ে পড়লেন, বাবা যদি শ্রাদ্ধের দিন মাতুলালয়ে না পৌঁছে তাহলে অনর্থ হয়ে যাবে। শ্রাদ্ধের দিন মাকে প্রণাম করে বস্তু নিয়ে রওনা দিলেন এবং যথাসময়ে মামারবাড়ি পৌঁছে বস্তু প্রদান করে ঠিক সময়ে ঐদিন আবার সিদ্ধাশ্রমে আশ্রমে এসে পৌঁছলেন।
মামীদের নিমন্ত্রণের সংবাদ মাকে বললেন, তারা সপ্তাহ খানেকের মধ্যে আসবে এটা নিশ্চিত করলেন। মায়ের তেমন বিশ্বাস হচ্ছিল না, এই ভেবে যে ৩/৪ দিনের পথ গুরুদাস বাবা কিভাবে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পাড়ি দিলেন এবং ফিরে আসলেন। মামী ও মামাতো ভাইয়েরা যখন কয়েকদিন পরে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে (চট্টগ্রামে ভাষায় তিতাভাতি) এলেন, তাদের মুখে গুরুদাস বাবার ওই অলৌকিক কীর্তিশুনে মা অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে গেলেন।
এমনই ছিল গুরুদাস এবং পরমহংসদের লীলা বিভূতি। দেহকে বায়ুতে অদৃশ্য করে ছুটে গিয়ে আবার যোগবলে দৃশ্যতঃ দেহ ধারণ করতেন গুরুদাস বাবা। এটাই পরম যোগপুরুষের সাধন সিদ্ধির বহিঃপ্রকাশ। এতে সহজেই প্রতীয়মান হয় গুরুদাস বাবা কত বড় মাপের ঐশ্বরিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন।
এমন মহাপুরুষের শ্রী চরণে ভূয়ঃ ভূয়ঃ প্রণাম।
অষ্টাঙ্গ যোগসাধনায় সিদ্ধ মহাপুরুষ নামেই প্রতীয়মান হয় আট প্রকারের ক্রিয়ানুশীলন বা যোগসাধনা। খুবই কঠোর যোগানুশীলন, আজকের দিনে খুবই দুর্লভ কঠিন পথ। বর্তমানে এমন সাধনা সচরাচর হয় না। জপ, তপন, কীর্তন ও উপাসনায় সীমাবদ্ধ ঈশ্বর সাধনা।
দেহকে উপযুক্ত সাধনার ক্ষেত্র তৈরী করতে অষ্টাঙ্গ যোগ সাধনা অপরিহার্য। যম, নিয়ম, আসন, প্রাণায়াম, প্রত্যাহার, ধারণা, ধ্যান ও সমাধি। এই ধাপসমূহ কঠোর ক্রিয়ানুশীলনের মাধ্যমে উত্তরণের পথেই সাধন সিদ্ধি হয়।
তাইতো গুরুদাস বাবার অমিয়বাণী-
“আমি ঘুরিয়ে দিয়েছি বটে, তোমরা ঘুরিবে না,
সিঁড়ি লাগানো আছে, উঠিয়া যাও।”
এই আটটি ধাপই সাধন সিদ্ধির নির্দেশিত পথ, এ সিঁড়ি অতিক্রম করেই উপরে উঠা যায় অর্থাৎ সিদ্ধি লাভ হয়। গুরুদাস বাবার এমনই কৃপা মুমুক্ষু সাধকদের জন্য এই সাধন পথ রচনা বা সৃষ্টি করে দিয়েছেন যাতে সাধকের সাধন পথের কোন বিচ্যুতি না ঘটে।
পরমহংস বাবার অলৌকিক বিভূতি: উপমাহদেশের অন্যতম সুফি সাধক আহমদ উল্লাহ মাইজভান্ডারী যার সুখ্যাতি দিকে দিকে বিরাজমান। সুয়াবিল গ্রামের অদূরেই এ সুফী সাধকের ভান্ডার শরীফ। এ ভান্ডার শরীফের অনেক মহিমা আছে। দ্বীন ইসলাম প্রচারে যার অবদান প্রশংসনীয়। অনেক আশেকান এ দরবারে ভক্ত। পরমহংস গুরুদাস বাবার সাথে আহম্মদ উল্ল্যাহ মাইজভান্ডারী আধ্যাত্মিক যোগাযোগ আছে। একদা ভান্ডার শরীফের এক ভক্ত মানত করা এক কাঁঠাল নিয়ে সিদ্দআশ্রমের সম্মুখ রাস্তা দিয়ে আহম্মদ উল্ল্যাহ মাইজভান্ডারী নিকট যাচ্ছিল। রাস্তায় দ-ায়মান গুরু দাস বাবা এ ভক্তের কাছে কাঁঠালটি চাইলে সেটি মানত করা বলে লোকটি চলে গেলেন। যথারীতি কাঁঠালটি নিয়ে ওই ভক্ত ভান্ডার শরীফে পৌঁছালে কাঁঠালটি শূন্য কোষ দেখতে পান আহম্মদ উল্ল্যাহ মাইজভান্ডারী । কারণ জিজ্ঞাসা করলে লোকটি বলেন পথিমধ্যে সিদ্ধাআশ্রমের সামনে এক ফকির বাবা কাঁঠালটি চেয়েছিল, আমি আপনার জন্য মানত করা তাই আপনার কাছে নিয়ে এসেছি। এ কথা শুনে আহম্মদ উল্ল্যাহ মাইজভান্ডারী অনুভব করেছিলেন গুরু দাস ফকির বাবার কেরামতি। মহান সিদ্ধপুরুষেরা তাদের সাধনার প্রভাব এভাবে ছড়িয়ে দেন জগতের মাঝে।
৮ হরিকৃপানন্দ স্বামী (মুনিবাবা) আয়ুদান: হরকৃপানন্দ স্বামী কঠিন যোগ সাধনার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। বোয়ালখালী থানার পূর্ব গোমদ-ী গ্রামে উনার সাধনভূমি অষ্টাঙ্গ যোড় সাধনায় সিদ্ধ মহান পুরুষ। গুরুদয়াল পরমহংস বাবার আশীর্বাদ ধন্য প্রধানতম শিষ্য, গোমদ-ী যোগাশ্রমের প্রতিষ্ঠাতা, যোগ সাধনায় অন্যতম প্রবাদ পুরুষ তিনি। গুরুদাস বাবা স্বীয় যোগবলে জ্ঞাত হলেন আগামী ৪/৫ মাসের মধ্যে উনার গলায় ফাঁস পড়বে। গোমদ-ী গ্রাম থেকে গোবিন্দ নামে এক ভক্ত গুরুদাস বাবার দর্শনে এলে উনি হরকৃপানন্দ মুনিবাবার কাছে খবর পাঠান। গোবিন্দ গ্রামে পৌঁছেই মুনিবাবাকে এ সংবাদ দেন; মুনিবাবা এ খবর শুনে ভাবলেন দয়াল গুরুদেব আমার ভবিষ্যৎ না দেখে এ সংবাদ দেন নাই। তখন থেকে তিনি আরো বেশি ভগবদ ধ্যান ও আত্মধ্যানে মগ্ন হয়ে রইলেন। দেখতে দেখতে ৫ মাসের মাথায় হঠাৎ একদিন আশ্রম প্রাঙ্গণে বিকট আওয়াজ দিয়ে মাটিতে পড়ে গেলেন এবং উনার গলা ফুলে শক্ত হয়ে গেল। রোগগ্রস্ত হয়ে শয্যাশায়ী হলেন। কালক্রমে সপ্তাহখানেক পরে গুরুদাস বাবার কাছে মুনিবাবার এ বিপর্যয়ের সংবাদ পৌঁছলে তিনি অজয় দিয়ে বলেন, চিন্তার কারণ নেই, শ্রী শ্রী হরি সুস্থ হয়ে উঠবে। গুরুদাস বাবা নিজ সাধনা শক্তির প্রভাবে প্রিয় শিষ্য হরকৃপানন্দের জন্য পরমে কাছে থেকে জীবন রেখা লম্বা করে নিলেন। দূরদর্শী ও উচ্চ মার্গের সাধকের সাধনা তেজের কারণে এমন অসাধ্য সাধিত হল। জগতে এমন সাধক কয়জন আছে, যিনি নিজের প্রিয়তম শিষ্যকে মৃত্যুর দুয়ার থেকে ফিরিয়ে আনেন। বাবার মত এমন দয়াল ও আত্মজ্ঞানী সাধক কতই দুঃরুহ দুর্লভ এ জগতে। অতপর হরকৃপানন্দ আস্তে আস্তে আরোগ্য লাভ করেন।
পদব্রজে হালদা নদী পারাপার: তিনি তেজস্থী সাধক নানা অলৌকিক ক্রিয়ার মাধ্যমে তা প্রকাশিত হয়েছে। সুয়াবিল গ্রাম ও সিদ্ধাশ্রম হালদা নদীর পারে অবস্থিত। নদী পেরিয়ে আশ্রমে যাতায়াত করতে হয়, নদীর একমাত্র বাহন নৌকা। গুরুদাস বাবা একদিন বাহির থেকে আশ্রমে পদার্পণ কালে নদীর পাড়ে গিয়ে দেখতে পান- নৌকাতে মাঝি ছাড়া আর কোন যাত্রী নাই। নৌকার মাঝি নাছিরকে বাবা নৌকা ছাড়তে বললে নাছির আরও যাত্রীর জন্য সময় ক্ষেপণ করলে, গুরুদাস বাবা উপায়ান্তর না দেখে নাছিরের সামনেই নৌকা থেকে নেমে স্রোতস্বিনী হালদা নদীর প্রবহমান স্রোতের উপরে হাঁটা শুরু করেন। এ অভাবনীয় দৃশ্য দেখে নাছির হতবাক হয়ে গেল; এ কি সম্ভব, যেখানে একটু ভারী বস্তু পানিতে ডুবে যায় সেখানে ফকির বাবা অসাধ্য সাধন করেছেন। নাছিরের মুখে এ ঘটনা প্রচার হলে গুরুদাস বাবার সাধনার প্রভাবের বার্তা দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়ে। জয় বাবা গুরুদয়াল ফকিরের জয়।
তীর্থ ভ্রমণে অনীহা গুরুদয়াল বাবার: আত্মোপাসনা দ্বারা চিত্তশুদ্ধিকে প্রাধান্য দিতেন গুরুদয়াল বাবা। চিত্ত শুদ্ধিই ভগবান সাধনার প্রধান আধার। ভগবদ ভাবকে ধারনে করিতে চিত্তকে উপযুক্ত করা যায়। অশুদ্ধ চিত্তে কখনো পরমাত্মাকে অন্তরে আশ্রয় দেওয়া সম্ভব নয়। গুরুদয়াল বাবা কখনো কোথাও ভ্রমণ করিতেন না। তিনি বলিতেন সদগুরুর আশ্রয় লাভ করিলে ও গুরুপদে অটুট ভক্তি বিশ্বাস থাকিলে তীর্থ ভ্রমণের প্রয়োজন পড়ে না। গুরুপদেই সকল তীর্থ বিরাজমান। গুরুস্থানই স্থাবর জঙ্গম তীর্থ। তাই তিনি আত্মোপাসনাই স্থির থাকতে বলতেন।
গুরুপদই পরম শান্তিপদ ও দুঃখমুক্ত স্থান। গুরু প্রেম ও গুরজন পুনঃ জন্ম ও পুনঃ মরণের চক্রব্যুহ ভেদ করে আত্মপরিচয় করিয়া নিবার সহজ পন্থা। তাই তিনি বলিতেন-
“তীর্থ যাতা পরিশ্রম, সকলি মনের ভ্রম,
বিশুদ্ধ মানব চিত্ত, জানিও প্রধান তীর্থ।”
সমাধি: মহাত্মা শ্রী মন্মহর্ষি শ্রীমৎ স্বামী গুরুদাস পরমহংসদেব ৮২ বছর সাধনায় সিদ্ধি লাভ করতঃ সিদ্ধাশ্রমকে সিদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করিয়া ১৩৩৪ সালের ২৪শে মাঘ শনিবার শুভ মাঘী পূর্ণিমা তিথিতে যোগাসনে আসীন হইয়া সমাধি লাভ করেন। ঐ স্থানই সিদ্ধাশ্রম মঠ নামেই পরিচিত।
ওম তৎ সৎ
প্রিয় পাঠক: পরমহংস বাবার মতো দুর্লভ মহান তপস্বীর আরো অনেক লীলা বিভূতি আছে। এত স্বল্প পরিসরে সব কথা ব্যক্ত করা অসম্ভব।
আমাদের মতো সাধারণ গৃহী ভক্তদের পক্ষে এ লীলা বিভূতির বিবরণ সম্ভব নয়। তবুও এ অধমের ক্ষুদ্র প্রয়াসে কোন রকমের ভুল-ভ্রান্তি ক্ষমা-সুন্দর দৃষ্টিতে দেখিবেন। জয়গুরু। লেখক- শ্রী লিটন দে।

