back to top

খোলা ভোজ্যতেলের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান, নিরাপদ খাদ্যে নতুন প্রস্তাব ক্যাবের

প্রকাশিত: ২৮ জুন, ২০২৬ ১৪:৩৭

দেশে খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি পুরোপুরি বন্ধে বিদ্যমান আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং এ বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছে কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)।

একই সঙ্গে স্বল্প আয়ের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করতে ১০০ থেকে ৫০০ মিলিলিটার ধারণক্ষমতার ছোট প্যাকেটে ভিটামিনসমৃদ্ধ ভোজ্যতেল বাজারজাত করার দাবি জানিয়েছেন ভোক্তা প্রতিনিধি ও জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।

রোববার (২৮ জুন) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্যাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব দাবি উঠে আসে। ‘ক্যাব’ ও ‘ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন’ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করে।

সভায় ক্যাবের সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামানের সভাপতিত্বে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান এবং ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের পরামর্শক মুশতাক আহমেদ মুহাম্মদ ইফতিখার।

প্রবন্ধে বলা হয়, দেশের বড় একটি জনগোষ্ঠী এখনও খোলা ভোজ্যতেল ব্যবহার করে। কিন্তু খোলা অবস্থায় তেল দীর্ঘ সময় আলো ও বাতাসের সংস্পর্শে থাকায় এতে থাকা ভিটামিন ‘এ’-এর কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।

একই সঙ্গে ধুলাবালি ও অন্যান্য দূষকের সংস্পর্শে এসে তেলটি জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে ছোট প্যাকেটে ভিটামিনসমৃদ্ধ নিরাপদ তেল বাজারজাত করা হলে একদিকে যেমন নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত হবে, অন্যদিকে জনস্বাস্থ্যেরও উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটবে।

তবে ছোট প্যাকেটে তেল বাজারজাত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি চ্যালেঞ্জও তুলে ধরেন বক্তারা। তাঁদের মতে, প্লাস্টিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, প্যাকেট লিকেজ এবং ভোক্তাদের সচেতনতার অভাব বড় বাধা হতে পারে।

এসব সমস্যা মোকাবিলায় উন্নতমানের প্যাকেজিং, ব্যবহৃত প্যাকেট ফেরত নেওয়ার ‘রিটার্ন অ্যান্ড সেল’ বা ‘ক্যাশ-ব্যাক’ ব্যবস্থা চালু এবং ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির সুপারিশ করা হয়।

ক্যাবের সহ-সভাপতি নাজের হোসেন বলেন, খোলা তেল বিক্রির বিরুদ্ধে সরকারের আইন থাকলেও তা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হয়নি। তিনি বিদ্যমান আইন কঠোরভাবে প্রয়োগের দাবি জানান।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী বলেন, শুধু খোলা তেল পরিহার করলেই চলবে না, তেল খাওয়ার পরিমাণও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। অতিরিক্ত তেল গ্রহণ হৃদরোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম ইকবাল হোসেন বলেন, ছোট প্যাকেটের ভোজ্যতেলের ক্ষেত্রে পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে পরিবেশগত ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শোয়েব বলেন, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করাই তাদের প্রধান লক্ষ্য।

এ ক্ষেত্রে ক্যাব দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। ভোক্তার অধিকার প্রতিষ্ঠা ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

সভাপতির বক্তব্যে এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেন, জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে খোলা তেল পরিহার করে বোতলজাত নিরাপদ তেল ব্যবহারে সরকারের নির্দেশনা বাস্তবায়ন জরুরি।

একই সঙ্গে স্বল্প আয়ের মানুষের কাছেও নিরাপদ ভোজ্যতেল পৌঁছে দিতে ক্যাব দেশব্যাপী জনমত গড়ে তুলবে এবং কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

মতবিনিময় সভায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পরিচালক মাসুম আরেফিন, বিএসটিআইয়ের সহকারী পরিচালক প্রকৌশলী শশীকান্ত দাস, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ড. রাশিদা পারভীন, পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মো. নাজমুস সাকিব, গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ইমপ্রুভড নিউট্রিশনের (গেইন)-এর প্রতিনিধি লাইলুন নাহারসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।