হোটেলের দরজা খুলতেই মিলল এএসআইয়ের ঝুলন্ত লাশ, রক্তাক্ত স্ত্রীও পাশে

প্রকাশিত: ১০ আগস্ট, ২০২৬ ১৭:৫০

চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে একটি আবাসিক হোটেলের কক্ষ থেকে আমিনুল ইসলাম (৩২) নামের এক পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

একই কক্ষে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে (২৭) রক্তাক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। গুরুতর আহত তাহমিনাকে উদ্ধার করে প্রথমে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে মিরসরাইয়ের বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন নামের একটি আবাসিক হোটেলে এ ঘটনা ঘটে। ওই কক্ষে দম্পতির দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যাটিকেও পাওয়া যায়।

নিহত আমিনুল ইসলাম (৩২) মিরসরাইয়ের মায়ানি ইউনিয়নের পশ্চিম মায়ানি গ্রামের মৃত আবুল হোসেনের ছেলে।

তিনি রাঙামাটি জেলা পুলিশ লাইনসে সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তার (২৭)। দুই বছর আগে তাঁদের বিয়ে হয়।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সন্তানকে নিয়ে তাহমিনা আক্তার মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জে তাঁর বাবার বাড়িতে ছিলেন। কর্মস্থল থেকে ছুটিতে এসে কয়েক দিন আগে সেখানে ওঠেন আমিনুল ইসলাম।

গতকাল সকালে শিশুসন্তানের জন্মনিবন্ধন করার কথা বলে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে তিনি শ্বশুরবাড়ি থেকে বের হন। পরে বেলা দুইটার দিকে তাঁরা বড়তাকিয়া বাজারের রিলাক্স জোন আবাসিক হোটেলে ওঠেন।

এরপর আজ সকালে হোটেলকক্ষ থেকে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কক্ষের ভেতরে প্রবেশ করে আমিনুল ইসলামের লাশ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পায়।

একই কক্ষে তাঁর স্ত্রী তাহমিনা আক্তারকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। তাঁদের দেড় বছর বয়সী শিশুকন্যাটিও তখন কক্ষের ভেতরে ছিল।

পুলিশ দ্রুত তাহমিনাকে উদ্ধার করে মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মেহের নিগার বলেন, তাহমিনা আক্তারের মুখ, ঠোঁট ও জিব ফোলা ছিল। তাঁর মুখও বাঁকানো ছিল এবং নাক দিয়ে রক্ত ঝরছিল।

চিকিৎসকের ভাষ্য অনুযায়ী, তাহমিনার গলায় কোনো কিছু দিয়ে শক্ত করে পেঁচিয়ে রাখার দাগও দেখা গেছে।

মেহের নিগার বলেন, ‘জ্ঞান থাকলেও ওই নারী কোনো কথা বলতে পারছিলেন না। অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাঁকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে পাঠানো হয়েছে।’

আমিনুল ইসলামের বড় ভাই মো. আবুল হাসান বলেন, তিনি চট্টগ্রাম শহরের একটি পোশাক তৈরির কারখানায় কাজ করেন। হোটেলের ভেতরে ভাইয়ের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধারের খবর পেয়ে তিনি শহর থেকে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘দুই বছর আগে ভাইয়ের বিয়ে হয়। এর পর থেকে স্ত্রী তাহমিনা আক্তারের সঙ্গে আমার ভাইয়ের দাম্পত্য কলহ লেগে ছিল। এসব নিয়ে স্থানীয়ভাবে অনেক সালিস–দরবার হয়েছে, কিন্তু সংসারে সুখ আসেনি। ভাইয়ের এমন পরিণতি হবে, তা কখনো ভাবিনি।’

মিরসরাই থানার উপপরিদর্শক শরিফুল ইসলাম বলেন, আমিনুল ইসলামের লাশ থানা হেফাজতে রয়েছে। তিনি বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি, দাম্পত্য কলহ থেকে এই ঘটনা ঘটতে পারে। পুরো বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।’

একই কক্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তার ঝুলন্ত লাশ এবং তাঁর স্ত্রীকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধারের ঘটনায় নানা প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।

তবে ঠিক কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে, তা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনার প্রকৃত কারণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি খতিয়ে দেখছে।