চট্টগ্রাম নগরের ব্যস্ততম বাণিজ্যিক এলাকা রিয়াজউদ্দিন বাজারে রাতের অভিযানে বেরিয়ে এলো বিদেশি সিগারেটের বড় মজুত।
একটি ভবনের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় অভিযান চালিয়ে প্রায় দেড় কোটি টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ অবৈধ বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেট জব্দ করেছে র্যাব-৭।
র্যাবের দাবি, সরকারি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে এসব সিগারেট অবৈধ পথে দেশে এনে বাজারজাত করা হচ্ছিল। তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য জানায়নি সংস্থাটি।
সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নগরের কোতোয়ালী থানার রিয়াজউদ্দিন বাজারের ফলের গলির একটি ভবনে অভিযান চালায় র্যাব-৭-এর একটি দল।
গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত এ অভিযানে ভবনটির দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বিভিন্ন কক্ষে তল্লাশি চালানো হয়।
তল্লাশির একপর্যায়ে কয়েকটি কক্ষে মজুত করে রাখা বিপুল পরিমাণ বিদেশি ব্র্যান্ডের সিগারেটের সন্ধান পায় র্যাব।
উদ্ধার করা সিগারেটের কোনো বৈধ আমদানি কাগজপত্র পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
র্যাব-৭-এর মেজর জালিস মাহমুদ খান জানান, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই ভবনে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
তল্লাশির সময় কয়েকটি কক্ষে মজুত করে রাখা বিদেশি সিগারেট পাওয়া যায়। এসব সিগারেটের বৈধ আমদানি-সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র পাওয়া যায়নি।
র্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, জব্দ করা সিগারেটের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ১ কোটি ৫০ লাখ টাকা।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি শুল্ক ও কর ফাঁকি দিয়ে অবৈধ পথে দেশে আনা এসব সিগারেট রিয়াজউদ্দিন বাজারসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সরবরাহের উদ্দেশ্যে সেখানে মজুত করা হয়েছিল।
চট্টগ্রামের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা রিয়াজউদ্দিন বাজার দীর্ঘদিন ধরেই বিদেশি সিগারেটের বড় পাইকারি বাজার হিসেবে পরিচিত।
এর আগেও বিদেশি সিগারেট পাচারের একটি মামলার তদন্তে রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি দোকানের ঠিকানা ব্যবহার করে চালান পাঠানোর তথ্য পেয়েছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
ওই ঘটনায় কক্সবাজারে অবৈধ বিদেশি সিগারেটের একটি চালান জব্দের পর তদন্তে রিয়াজউদ্দিন বাজারের একটি প্রতিষ্ঠানের নাম ও ঠিকানা উঠে আসে।
সর্বশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ বিদেশি সিগারেট জব্দের ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে নগরের এই ব্যস্ত বাণিজ্যিক এলাকা।
তবে জব্দ করা সিগারেটের সঙ্গে কারা জড়িত, কোথা থেকে এসব পণ্য দেশে এসেছে এবং চট্টগ্রামের কোথায় কোথায় তা সরবরাহ করা হতো-এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।
র্যাব জানিয়েছে, অভিযানে বিপুল পরিমাণ সিগারেট জব্দ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।
উদ্ধার করা সিগারেটের উৎস, আমদানির সঙ্গে কারা জড়িত এবং এসব পণ্য কোথায় সরবরাহ করা হতো-এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
অবৈধভাবে বিদেশি সিগারেট আমদানি ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্তে গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে র্যাব-৭।
সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও চলছে।
