চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রায় তিন দশক পরও থামেনি রহস্যের জট। এবার সেই আলোচনায় নতুন করে যুক্ত হলো ‘১২ লাখ টাকার চুক্তি’র দাবি।
সালমান শাহকে হত্যার জন্য খলনায়ক আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন-এমন দাবি করেছেন ঢাকার মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী।
রোববার (৯ আগস্ট) সালমান শাহ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ডনকে আদালতে হাজির করা হলে শুনানির সময় রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী এ তথ্য তুলে ধরেন।
তবে এটি রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উপস্থাপিত দাবি। আদালতে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রমাণিত হয়নি।
পিপি ওমর ফারুক ফারুকীর দাবি, রিজভী আহমেদ নামের মামলার এক আসামি অন্য একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় দেওয়া স্বীকারোক্তিতে সালমান শাহ হত্যার বিষয়ে এমন তথ্য উল্লেখ করেছেন।
আদালতে তিনি বলেন, ওই হত্যাচেষ্টা মামলায় রিজভী আহমেদ স্বীকারোক্তি দিয়েছেন। সেখানে সালমান শাহর স্ত্রী সামিরার সঙ্গে আজিজ মোহাম্মদ ভাইয়ের গোপন সম্পর্ক ছিল বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
সেই সম্পর্কের জের ধরে সালমান শাহকে হত্যার জন্য আজিজ মোহাম্মদ ভাই আশরাফুল হক ডনের সঙ্গে ১২ লাখ টাকায় চুক্তি করেন-রিজভীর স্বীকারোক্তিতে এমন দাবি করা হয়েছে বলে জানান পিপি।
রাষ্ট্রপক্ষের এই বক্তব্য সামনে আসার পর দীর্ঘদিন ধরে আলোচনায় থাকা সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা আবারও নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রে এসেছে।
সালমান শাহ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত ৮ নম্বর আসামি আশরাফুল হক ডন। রোববার ভোর ৫টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষ তাকে আটক করে। পরে তাকে সিআইডির কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিকেলে ডনকে আদালতে হাজির করে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন সিআইডির পরিদর্শক আরিফুর রহমান।
আবেদনে বলা হয়, আশরাফুল হক ডন দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন। তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে মামলার বিষয়ে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের প্রক্রিয়া চলছে।
জামিনে মুক্তি পেলে তদন্ত কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি তার পুনরায় পলাতক হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী। তবে আশরাফুল হক ডনের পক্ষে আদালতে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা আশরাফুল হক ডনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর চিত্রনায়ক চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন ওরফে সালমান শাহকে এজাহারভুক্ত অন্যান্য আসামি ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হত্যা করেন।
সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা আলোচনা, প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়েছে।
প্রায় তিন দশক পর ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের পথে এগিয়ে চলার মধ্যে এজাহারভুক্ত আসামি আশরাফুল হক ডনের গ্রেপ্তার এবং আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর নতুন এই দাবি সেই পুরোনো রহস্যকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে।
তবে আদালতে উত্থাপিত এসব অভিযোগ ও দাবি তদন্ত এবং বিচারিক প্রক্রিয়ায় কতটা সত্যতা পায়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সালমান শাহর মৃত্যুর নেপথ্যে আসলে কী ঘটেছিল-দীর্ঘদিনের সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এখন নজর থাকবে তদন্ত ও পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের দিকে।
