আনন্দ করতে পুকুরে নেমেছিলেন দুই শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে শুরু হয় সাঁতারে এক পাশ থেকে অন্য পাশে যাওয়ার প্রতিযোগিতা।
কিন্তু মাঝপথে ক্লান্ত হয়ে একে অপরকে ধরে ফেলতেই ঘটে মর্মান্তিক ঘটনা। একসঙ্গে পানিতে তলিয়ে যান দুজন। পরে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলেও বাঁচানো যায়নি অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেবকে।
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কাজী নজরুল ইসলাম হল ও শহীদ মোহাম্মদ শাহ হলের মধ্যবর্তী পুকুরে ডুবে দুই শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে ঘটে মর্মান্তিক এ ঘটনা।
নিহতরা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং (সিএসই) বিভাগের অর্ণব চন্দ (২২) এবং ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের শান্ত দেব (২৩)। দুজনই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাদের বাড়ি সিলেটে।
শিক্ষার্থীদের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেব পুকুরে নেমে আনন্দ করছিলেন। কিছুক্ষণ পর তারা পুকুরের দুই পাশ থেকে সাঁতরে পার হওয়ার প্রতিযোগিতায় নামেন।
তবে মাঝপথে গিয়ে দুজনেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা একে অপরকে ধরে ফেললে দুজনই একসঙ্গে পানিতে তলিয়ে যান।
ঘটনাটি দেখতে পেয়ে কয়েকজন শিক্ষার্থী দ্রুত পুকুরে নেমে অর্ণব চন্দকে উদ্ধার করেন। তবে শান্ত দেবকে তখনই খুঁজে পাওয়া যায়নি।
পরে রাঙ্গুনিয়া থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার অভিযান চালান। একপর্যায়ে শান্ত দেবকেও উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারের পর অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেবকে চট্টগ্রাম নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লেগেছে। ফলে দুর্ঘটনার পর উদ্ধার কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, আমরা হাসপাতালে আছি। দু’জনেই মারা গেছেন। বিস্তারিত পরে জানাচ্ছি।
চুয়েটের শিক্ষার্থীদের জন্য আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, এই একই পুকুরে এর আগেও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এর আগে গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যায় একই পুকুরে ডুবে অর্ণব সাহা নামে চুয়েটের আরেক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়। তার বাড়ি ফেনী জেলায়।
অর্থাৎ মাত্র ১৫ দিনের ব্যবধানে একই পুকুরে ডুবে প্রাণ গেল বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন শিক্ষার্থীর।
পরপর এমন মৃত্যুর ঘটনায় চুয়েটের শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের কাছে এখন বড় প্রশ্ন-একই পুকুরে এত অল্প সময়ের ব্যবধানে একের পর এক প্রাণহানি ঘটলেও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে?
অর্ণব চন্দ ও শান্ত দেবের মর্মান্তিক মৃত্যু তাই শুধু দুটি পরিবারের শোকের ঘটনা নয়, একই সঙ্গে চুয়েট ক্যাম্পাসের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও নতুন করে ভাবার প্রয়োজন সামনে এনে দিয়েছে।
